০৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে উৎসবের আমেজে উদযাপিত হলো খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন

  • প্লাবন শুভ
  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 92

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উৎসবমুখর পরিবেশে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন উদযাপিত হয়েছে। প্রার্থনা, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে উপজেলার বিভিন্ন গির্জা ও খ্রিষ্টান পল্লী।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই ফুলবাড়ীর খ্রিষ্টান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে দেখা যায় উৎসবের আনন্দ। বড়দিন উপলক্ষে প্রতিটি খ্রিষ্টান পল্লী সাজানো হয় রঙিন আলো, আলপনা ও ক্রিসমাসের বিভিন্ন প্রতীকে।

উপজেলার ৩ নম্বর কাজিহাল ইউনিয়নের পারইল কুদবীর ক্যাথলিক মিশন গির্জায় সকাল সাড়ে ৯টায় বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনা ও ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থনা পরিচালনা করেন গির্জার ইনচার্জ ফাদার মাইকেল ক্রুশ। তিনি বলেন,
“প্রভু যিশু খ্রিষ্ট মানবজাতিকে পাপ থেকে মুক্তি দিতে এবং অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখাতে পৃথিবীতে এসেছিলেন। বড়দিন শান্তি, ন্যায় ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। আজকের প্রার্থনায় দেশ ও জাতির শান্তি এবং সকল মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়েছে।”

প্রার্থনা শেষে স্থানীয় খ্রিষ্টান নারী-পুরুষরা নিজস্ব সংস্কৃতির বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করেন। এতে উৎসবের আনন্দ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

একইভাবে পুখুরী কামারপাড়া ক্যাথলিক চার্চে বড়দিনের প্রার্থনা পরিচালনা করেন পালক ফান্সিস মুর্মু। এছাড়াও পুখুরী এসডিএ চার্চসহ উপজেলার বিভিন্ন গির্জা ও চার্চে বড়দিন উপলক্ষে প্রার্থনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত মোট ৬৩টি গির্জা ও চার্চে বড়দিন উপলক্ষে প্রার্থনা, আলোচনা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঘরবাড়ি সাজানো হয় আলো ও আলপনায়। বেথেলহামের আদলে তৈরি করা হয় গোশালা। আত্মীয়-স্বজনের আপ্যায়নে তৈরি করা হয় পিঠাপুলি ও পায়েশসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার।

একজন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী বলেন, “বড়দিন উপলক্ষে আমাদের সবার মাঝে অনেক আনন্দ। ঘর সাজানো হয়েছে, আত্মীয়রা এসেছে, সবাই মিলে বড়দিন উদযাপন করছি।”

কুদবীর মিশন গির্জা পরিচালিত সেন্ট পলস্ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিস্টার ইনচার্জ ও প্রধান শিক্ষক সিস্টার মারিয়া কিস্কু বলেন, “২৫ ডিসেম্বর প্রভু যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন। এই দিনটি বড়দিন হিসেবে পালন করা হয়। বড়দিন পরিবার, সমাজ ও মানবতার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা দেয়।”

অন্যদিকে আলাদিপুর ইউনিয়নের রাঙামাটি ট্রিনিটি লুথারেন চার্চ ট্রাস্টের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বড়দিন উদযাপন করা হয়। আয়োজকরা জানান, সকালের প্রার্থনায় দেশ, জাতি ও বিশ্বের সকল মানুষের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়েছে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসনাত আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বহাল, মঞ্জুরুল মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল

ফুলবাড়ীতে উৎসবের আমেজে উদযাপিত হলো খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন

আপডেট সময় : ০৭:০৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উৎসবমুখর পরিবেশে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন উদযাপিত হয়েছে। প্রার্থনা, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে উপজেলার বিভিন্ন গির্জা ও খ্রিষ্টান পল্লী।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই ফুলবাড়ীর খ্রিষ্টান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে দেখা যায় উৎসবের আনন্দ। বড়দিন উপলক্ষে প্রতিটি খ্রিষ্টান পল্লী সাজানো হয় রঙিন আলো, আলপনা ও ক্রিসমাসের বিভিন্ন প্রতীকে।

উপজেলার ৩ নম্বর কাজিহাল ইউনিয়নের পারইল কুদবীর ক্যাথলিক মিশন গির্জায় সকাল সাড়ে ৯টায় বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনা ও ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থনা পরিচালনা করেন গির্জার ইনচার্জ ফাদার মাইকেল ক্রুশ। তিনি বলেন,
“প্রভু যিশু খ্রিষ্ট মানবজাতিকে পাপ থেকে মুক্তি দিতে এবং অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখাতে পৃথিবীতে এসেছিলেন। বড়দিন শান্তি, ন্যায় ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। আজকের প্রার্থনায় দেশ ও জাতির শান্তি এবং সকল মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়েছে।”

প্রার্থনা শেষে স্থানীয় খ্রিষ্টান নারী-পুরুষরা নিজস্ব সংস্কৃতির বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করেন। এতে উৎসবের আনন্দ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

একইভাবে পুখুরী কামারপাড়া ক্যাথলিক চার্চে বড়দিনের প্রার্থনা পরিচালনা করেন পালক ফান্সিস মুর্মু। এছাড়াও পুখুরী এসডিএ চার্চসহ উপজেলার বিভিন্ন গির্জা ও চার্চে বড়দিন উপলক্ষে প্রার্থনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত মোট ৬৩টি গির্জা ও চার্চে বড়দিন উপলক্ষে প্রার্থনা, আলোচনা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঘরবাড়ি সাজানো হয় আলো ও আলপনায়। বেথেলহামের আদলে তৈরি করা হয় গোশালা। আত্মীয়-স্বজনের আপ্যায়নে তৈরি করা হয় পিঠাপুলি ও পায়েশসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার।

একজন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী বলেন, “বড়দিন উপলক্ষে আমাদের সবার মাঝে অনেক আনন্দ। ঘর সাজানো হয়েছে, আত্মীয়রা এসেছে, সবাই মিলে বড়দিন উদযাপন করছি।”

কুদবীর মিশন গির্জা পরিচালিত সেন্ট পলস্ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিস্টার ইনচার্জ ও প্রধান শিক্ষক সিস্টার মারিয়া কিস্কু বলেন, “২৫ ডিসেম্বর প্রভু যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন। এই দিনটি বড়দিন হিসেবে পালন করা হয়। বড়দিন পরিবার, সমাজ ও মানবতার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা দেয়।”

অন্যদিকে আলাদিপুর ইউনিয়নের রাঙামাটি ট্রিনিটি লুথারেন চার্চ ট্রাস্টের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বড়দিন উদযাপন করা হয়। আয়োজকরা জানান, সকালের প্রার্থনায় দেশ, জাতি ও বিশ্বের সকল মানুষের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়েছে।

শু/সবা