প্রচন্ড শীত এবং ঘন কুয়াশার কারণে জামালপুর জেলা জুড়ে বোরো ধানের বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় চারা মরে যাচ্ছে, আবার জীবিত চারাগুলোর হলদে হয়ে পাতা নষ্ট হচ্ছে। ছত্রাকনাশক ও বালাইনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জমিতে চারা রোপণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
কৃষি বিভাগ বলছে, যেসব বীজতলার চারা বড় হয়ে গেছে, সেগুলো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এই আবহাওয়া কেটে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না। কৃষি বিভাগ থেকে মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর রেখে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, সপ্তাহ সময়কাল ধরে সারাদেশের মতো জামালপুরেও সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে উত্তরের হিমেল হাওয়া ও কনকনে শীতে বোরো বীজতলা হলুদ ও ফ্যাকাশে রং ধারণ করছে। ফলে বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ফলে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকরা।
মাদারগঞ্জ উপজেলা চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমিতে ধান রোপণের জন্য ৭৬৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করছেন কৃষকেরা। যেসব কৃষক আগাম বীজতলা তৈরি করেছেন, তাদের বীজতলায় তেমন কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলার সবুজ রং বদলে গিয়ে হলুদ ও ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বীজতলা রক্ষায় কৃষকেরা নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছেন। কেউ বীজতলার ওপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন, আবার কেউ ধানের চারায় ছাই ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করছেন। তবুও বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা।
মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের জোড়খালীর কৃষক জহির উদ্দিন জানান, তিনি ১৪ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান ৮৯ জাতের বীজ বপন করেছেন। কিন্তু প্রচন্ড কুয়াশা ও শীতের কারণে চারা ঠিকমতো গজাচ্ছে না। আবার যেগুলো গজিয়েছে, সেগুলোর রংও হলুদ হয়ে গেছে। এ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
মেলান্দহ উপজেলার কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, বোরো ধানের বীজতলার চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করা শুরু হয়েছে। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে (পাতা পচা রোগ) আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের বোরো বীজতলা। বালাইনাশক ছিটিয়েও পচন রোধ করা যাচ্ছে না।
তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক আলী আকবর বলেন, এবার আমি পাঁচ শতাংশ জমিতে বোরো বীজতলা করেছি। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে চলা কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় বোরো বীজের চারা গাছের পাতা হলদে রং ধারণ করে পঁচে যাচ্ছে। বালাইনাশক ছিটিয়ে কাজ হচ্ছে না। এ নিয়ে আমি দুশ্চিন্তায় আছি।
সরিষাবাড়ির কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার বোরো বীজতলার পাতা মরা রোগ দেখা দিয়েছে। বোরো বীজের চারা হলদে হয়ে মারা যাচ্ছে। আমার মতো এলাকার শত শত কৃষকের একই অবস্থা।
কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭৬৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু বীজতলায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিলেও বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম। কুয়াশাজনিত ক্ষতি কমাতে কৃষকদের বীজতলায় পলিথিনের ছাউনি দেয়াসহ সঠিক সেচ ব্যবস্থাপনা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বীজতলা ফ্যাকাশে রং ধারণ করলেও এতে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। এ ছাড়াও যেসব ক্ষেতের বীজতলার চারা বড় হয়ে গেছে, সেগুলো ক্ষতির আশঙ্কা নাই। দেরিতে রোপণ করা বোরো বীজতলা এই ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় কিছু নষ্টের শঙ্কা রয়েছে। তবে এই আবহাওয়া কেটে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না।
শু/সবা

























