১০:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রথমবার সমস্যার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে প্রায় দুই লাখ সেনা অনুমতি ছাড়াই দায়িত্ব থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। বুধবার পার্লামেন্টে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদনের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। সামরিক পরিভাষায় অনুমতি ছাড়া দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়াকে ‘এডব্লিউওএল’ বলা হয়।

ফেদোরভ আরও জানান, সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিককে ‘খোঁজ করা হচ্ছে’ বা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেনের সেনাবাহিনী তীব্র চাপে রয়েছে। রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে সামনের সারিতে থাকা সেনাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে কমসংখ্যক সেনা ও সীমিত অস্ত্র নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে হচ্ছে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে।

দীর্ঘ সময় ধরে সেনাদের মনোবল কমে যাওয়া ও দায়িত্ব ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার গুজব শোনা গেলেও, এই প্রথম কোনো ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা প্রকাশ্যে সমস্যার প্রকৃত মাত্রা স্বীকার করলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইউক্রেনের আইনে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী সব পুরুষকে সামরিক বাহিনীতে নিবন্ধন করতে হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হয়। তবে সামরিক ডাকে (মোবিলাইজেশন) অন্তর্ভুক্ত করা হয় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের। জারি থাকা সামরিক আইনের কারণে ২৩ থেকে ৬০ বছর বয়সী কোনো যোগ্য পুরুষ দেশ ছাড়তে পারেন না। তবুও আইন অমান্য করে কয়েক দশ হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, সামরিক সদস্য সংগ্রহ বা মোবিলাইজেশন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। মিখাইলো ফেদোরভ ইউক্রেনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রী; আগামী সপ্তাহে তার বয়স হবে ৩৫ বছর। তিনি ডেনিস শ্মিহালের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। শ্মিহাল বর্তমানে ইউক্রেনের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে ফেদোরভ উপপ্রধানমন্ত্রী ও ডিজিটাল রূপান্তরমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময়ে তিনি ইউক্রেনের ড্রোন যুদ্ধ প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ তদারকি করেন। বুধবার বক্তব্যে তিনি বলেন, সেনা সংকটের কারণে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফেদোরভের ভাষায়, “যত বেশি রোবট ব্যবহার করা যাবে, তত কম ক্ষয়ক্ষতি হবে। যত বেশি প্রযুক্তি থাকবে, তত কম মানুষ মারা যাবে। ইউক্রেনের বীর সেনাদের জীবনই সবচেয়ে মূল্যবান।”

তিনি জানান, বর্তমানে ইউক্রেনে প্রায় ৫০০টি কোম্পানি ড্রোন তৈরি করছে, ২০০টি প্রতিষ্ঠান জ্যামিং সরঞ্জাম উৎপাদন করছে এবং ২০টির বেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, নতুন দায়িত্বে ফেদোরভের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও জোরদার করা।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএলে শেষের নাটকীয়তার পর ৫ রানে জিতল রাজশাহী

প্রথমবার সমস্যার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে প্রায় দুই লাখ সেনা অনুমতি ছাড়াই দায়িত্ব থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। বুধবার পার্লামেন্টে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদনের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। সামরিক পরিভাষায় অনুমতি ছাড়া দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়াকে ‘এডব্লিউওএল’ বলা হয়।

ফেদোরভ আরও জানান, সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিককে ‘খোঁজ করা হচ্ছে’ বা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেনের সেনাবাহিনী তীব্র চাপে রয়েছে। রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে সামনের সারিতে থাকা সেনাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে কমসংখ্যক সেনা ও সীমিত অস্ত্র নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে হচ্ছে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে।

দীর্ঘ সময় ধরে সেনাদের মনোবল কমে যাওয়া ও দায়িত্ব ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার গুজব শোনা গেলেও, এই প্রথম কোনো ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা প্রকাশ্যে সমস্যার প্রকৃত মাত্রা স্বীকার করলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইউক্রেনের আইনে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী সব পুরুষকে সামরিক বাহিনীতে নিবন্ধন করতে হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হয়। তবে সামরিক ডাকে (মোবিলাইজেশন) অন্তর্ভুক্ত করা হয় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের। জারি থাকা সামরিক আইনের কারণে ২৩ থেকে ৬০ বছর বয়সী কোনো যোগ্য পুরুষ দেশ ছাড়তে পারেন না। তবুও আইন অমান্য করে কয়েক দশ হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, সামরিক সদস্য সংগ্রহ বা মোবিলাইজেশন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। মিখাইলো ফেদোরভ ইউক্রেনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রী; আগামী সপ্তাহে তার বয়স হবে ৩৫ বছর। তিনি ডেনিস শ্মিহালের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। শ্মিহাল বর্তমানে ইউক্রেনের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে ফেদোরভ উপপ্রধানমন্ত্রী ও ডিজিটাল রূপান্তরমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময়ে তিনি ইউক্রেনের ড্রোন যুদ্ধ প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ তদারকি করেন। বুধবার বক্তব্যে তিনি বলেন, সেনা সংকটের কারণে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফেদোরভের ভাষায়, “যত বেশি রোবট ব্যবহার করা যাবে, তত কম ক্ষয়ক্ষতি হবে। যত বেশি প্রযুক্তি থাকবে, তত কম মানুষ মারা যাবে। ইউক্রেনের বীর সেনাদের জীবনই সবচেয়ে মূল্যবান।”

তিনি জানান, বর্তমানে ইউক্রেনে প্রায় ৫০০টি কোম্পানি ড্রোন তৈরি করছে, ২০০টি প্রতিষ্ঠান জ্যামিং সরঞ্জাম উৎপাদন করছে এবং ২০টির বেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, নতুন দায়িত্বে ফেদোরভের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও জোরদার করা।

শু/সবা