১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পিআইবি মহাপরিচালক

বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের গণ-আকাঙ্ক্ষার ফসল

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন, বর্তমান সরকার কেবল একটি নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেওয়ার মতো সাধারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়; এটি জুলাই অভ্যুত্থানের গণ-আকাঙ্ক্ষার ফসল। এই সরকারের মূল কাজ হলো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো সম্পন্ন করা, যার মধ্যে রয়েছে: সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর কনফারেন্স রুমে ডিআরইউ’র উদ্যোগে পিআইবি আয়োজিত সাংবাদিকদের জন্য দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কর্মশালার প্রথম দিনে সিনিয়র সাংবাদিক জিয়াউর রহমান দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। এতে প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত প্রায় ৫০ জন্য সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
ফারুক ওয়াসিফ বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে দেশে কোনো নিরপেক্ষ বা প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন না হওয়ায় বর্তমানে জাতি একটি কঠিন সময় বা ‘পুলসিরাত’ পার করছে। তিনি বলেন, একটি ভুল তথ্য বা অসতর্ক প্রতিবেদন বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। সেই কারণে নির্বাচনকালীন সময় গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত সচেতনভাবে পালন করতে হবে। প্রত্যাশার জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়নে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে।
পিআইবি’র মহাপরিচালক বলেন, দেশ বদলানোর আগে সাংবাদিকদের নিজেদের মর্যাদা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহায। তিনি বলেন, এখন দেশি-বিদেশি নানাবিধ সংকট মোকাবেলা করে শান্তিপূর্ণভাবে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণই এখন প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, এখন প্রথাগত সাংবাদিকতার ধরণ এখন বদলে গেছে। বর্তমান যুগে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নিউজ মিডিয়ার আগেই মানুষ তথ্য পেয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকতাকে এখন ‘পঞ্চম স্তম্ভ’ অর্থাৎ ইউটিউবার ও টিকটকারদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে, যাদের অনেকেই তথ্যের বিকৃতি, পুরোনো ভিডিও নতুন বলে চালানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গুজব ছড়ায় এই মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়তে হলে সাংবাদিকদের তথ্যকে আরও আকর্ষণীয় কায়দায় এবং অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে তুলে ধরতে হবে।

ফারুক ওয়াসিফ বলেন, বর্তমান সরকার কেবল একটি নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেওয়ার মতো সাধারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়; এটি জুলাই অভ্যুত্থানের গণ-আকাঙ্ক্ষার ফসল। এই সরকারের মূল কাজ হলো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো সম্পন্ন করা, যার মধ্যে রয়েছে: সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। এক ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকা এবং দলীয় প্রধান ও সরকার প্রধান এক না হওয়া। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। সাংবাদিকদের ‘কনস্ট্রাকটিভ’ বা গঠনমূলক দায়িত্ব সাংবাদিকদের কেবল সমালোচক হিসেবে নয়, বরং একটি ‘কনস্ট্রাকটিভ’ বা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। ভোটারদের জানার অধিকার রয়েছে যে কোন প্রার্থী সংস্কারের পক্ষে এবং কারা এর বিপক্ষে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের গতানুগতিক রিপোর্টিং বাদ দিয়ে প্রার্থীদের কাছে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, ব্যাংক লুটেরাদের শাস্তি এবং গুম-খুন বন্ধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিআইবি’র গবেষক মোহাম্মদ সিদ্দিক ফারুকসহ সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএলে শেষের নাটকীয়তার পর ৫ রানে জিতল রাজশাহী

পিআইবি মহাপরিচালক

বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের গণ-আকাঙ্ক্ষার ফসল

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন, বর্তমান সরকার কেবল একটি নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেওয়ার মতো সাধারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়; এটি জুলাই অভ্যুত্থানের গণ-আকাঙ্ক্ষার ফসল। এই সরকারের মূল কাজ হলো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো সম্পন্ন করা, যার মধ্যে রয়েছে: সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর কনফারেন্স রুমে ডিআরইউ’র উদ্যোগে পিআইবি আয়োজিত সাংবাদিকদের জন্য দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কর্মশালার প্রথম দিনে সিনিয়র সাংবাদিক জিয়াউর রহমান দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। এতে প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত প্রায় ৫০ জন্য সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
ফারুক ওয়াসিফ বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে দেশে কোনো নিরপেক্ষ বা প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন না হওয়ায় বর্তমানে জাতি একটি কঠিন সময় বা ‘পুলসিরাত’ পার করছে। তিনি বলেন, একটি ভুল তথ্য বা অসতর্ক প্রতিবেদন বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। সেই কারণে নির্বাচনকালীন সময় গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত সচেতনভাবে পালন করতে হবে। প্রত্যাশার জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়নে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে।
পিআইবি’র মহাপরিচালক বলেন, দেশ বদলানোর আগে সাংবাদিকদের নিজেদের মর্যাদা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহায। তিনি বলেন, এখন দেশি-বিদেশি নানাবিধ সংকট মোকাবেলা করে শান্তিপূর্ণভাবে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণই এখন প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, এখন প্রথাগত সাংবাদিকতার ধরণ এখন বদলে গেছে। বর্তমান যুগে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নিউজ মিডিয়ার আগেই মানুষ তথ্য পেয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকতাকে এখন ‘পঞ্চম স্তম্ভ’ অর্থাৎ ইউটিউবার ও টিকটকারদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে, যাদের অনেকেই তথ্যের বিকৃতি, পুরোনো ভিডিও নতুন বলে চালানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গুজব ছড়ায় এই মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়তে হলে সাংবাদিকদের তথ্যকে আরও আকর্ষণীয় কায়দায় এবং অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে তুলে ধরতে হবে।

ফারুক ওয়াসিফ বলেন, বর্তমান সরকার কেবল একটি নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেওয়ার মতো সাধারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়; এটি জুলাই অভ্যুত্থানের গণ-আকাঙ্ক্ষার ফসল। এই সরকারের মূল কাজ হলো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো সম্পন্ন করা, যার মধ্যে রয়েছে: সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। এক ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকা এবং দলীয় প্রধান ও সরকার প্রধান এক না হওয়া। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। সাংবাদিকদের ‘কনস্ট্রাকটিভ’ বা গঠনমূলক দায়িত্ব সাংবাদিকদের কেবল সমালোচক হিসেবে নয়, বরং একটি ‘কনস্ট্রাকটিভ’ বা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। ভোটারদের জানার অধিকার রয়েছে যে কোন প্রার্থী সংস্কারের পক্ষে এবং কারা এর বিপক্ষে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের গতানুগতিক রিপোর্টিং বাদ দিয়ে প্রার্থীদের কাছে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, ব্যাংক লুটেরাদের শাস্তি এবং গুম-খুন বন্ধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিআইবি’র গবেষক মোহাম্মদ সিদ্দিক ফারুকসহ সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

এমআর/সবা