গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায়, সামনে ১৮০ দিনের সংস্কার চ্যালেঞ্জ » দৈনিক সবুজ বাংলা
১০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায়, সামনে ১৮০ দিনের সংস্কার চ্যালেঞ্জ

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন দেশের অধিকাংশ ভোটার। ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ৬২ শতাংশের বেশি ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর পরবর্তী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদে বর্ণিত প্রস্তাব অনুসারে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

গণভোটে অনুমোদিত এই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ৪৭টি সরাসরি সংবিধানের কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাবে কিছু প্রস্তাব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রণীত কয়েকটি প্রস্তাবনায় বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা লিখিত আপত্তি ছিল।

নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ফলে যেসব প্রস্তাবে রাজনৈতিক দ্বিমত নেই, সেগুলো বাস্তবায়নে আইনি বাধা থাকবে না বলে মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।

তবে যেসব বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে, বিশেষ করে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষের গঠন কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জুলাই সনদে প্রস্তাবটি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত স্পষ্ট।

সংবিধান বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটে সনদ অনুমোদিত হলেও সংসদে সংস্কার প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যেসব বিষয়ে বড় দলগুলোর সরাসরি আপত্তি রয়েছে, সেগুলো শেষ পর্যন্ত সংবিধানে যুক্ত হবে কি না—তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় সংশ্লিষ্টদের ওপর সময়ের চাপ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সনদে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও মতভেদ দেখা যাচ্ছে।

নতুন সংসদীয় কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে এবং তা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কতটা উপযোগী হবে—তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব জটিল বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।

শু/সবা

সূত্র: বিবিসি বাংলা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায়, সামনে ১৮০ দিনের সংস্কার চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০১:০১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন দেশের অধিকাংশ ভোটার। ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ৬২ শতাংশের বেশি ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর পরবর্তী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদে বর্ণিত প্রস্তাব অনুসারে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

গণভোটে অনুমোদিত এই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ৪৭টি সরাসরি সংবিধানের কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাবে কিছু প্রস্তাব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রণীত কয়েকটি প্রস্তাবনায় বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা লিখিত আপত্তি ছিল।

নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ফলে যেসব প্রস্তাবে রাজনৈতিক দ্বিমত নেই, সেগুলো বাস্তবায়নে আইনি বাধা থাকবে না বলে মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।

তবে যেসব বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে, বিশেষ করে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষের গঠন কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জুলাই সনদে প্রস্তাবটি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত স্পষ্ট।

সংবিধান বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটে সনদ অনুমোদিত হলেও সংসদে সংস্কার প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যেসব বিষয়ে বড় দলগুলোর সরাসরি আপত্তি রয়েছে, সেগুলো শেষ পর্যন্ত সংবিধানে যুক্ত হবে কি না—তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় সংশ্লিষ্টদের ওপর সময়ের চাপ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সনদে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও মতভেদ দেখা যাচ্ছে।

নতুন সংসদীয় কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে এবং তা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কতটা উপযোগী হবে—তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব জটিল বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।

শু/সবা

সূত্র: বিবিসি বাংলা