10:09 am, Tuesday, 28 April 2026

গাজায় স্টেডিয়াম নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ফিফার

গাজা উপত্যকা এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পুরো শহর যেন ধূলায় মিশে গেছে। বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত। অনাহার ঠেকাতে পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পুনর্গঠন নিয়েই যেখানে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ঠিক সেই বাস্তবতায় একটি ঝকঝকে নতুন জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফিফা

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘Board of Peace**’-এর উদ্বোধনী সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে নয়টি দেশ গাজার জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারের ত্রাণ প্যাকেজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। পাশাপাশি আরও পাঁচটি দেশ একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশ হিসেবে সৈন্য মোতায়েনের আগ্রহ প্রকাশ করে।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমাদের শুধু ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল বা রাস্তা পুনর্নির্মাণ করলেই হবে না। আমাদের মানুষ, আবেগ, আশা ও বিশ্বাসকেও পুনর্গঠন করতে হবে। ফুটবলই সেই আশার প্রতীক।’

ফিফা জানিয়েছে, তারা ২০ থেকে ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণে ৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬১২ কোটি টাকা) দেবে। পাশাপাশি ১৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি ফিফা একাডেমি, ৫০টি “অ্যারেনা মিনি পিচ” নির্মাণে ২.৫ মিলিয়ন ডলার এবং প্রতিটি ১ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল মাঠ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বাস্তবতা হলো, গাজার নিজস্ব কোনো জাতীয় ফুটবল দল নেই। গাজা ও পশ্চিম তীর মিলিয়ে একটি সম্মিলিত ফিলিস্তিনি দল ১৯৯৮ সাল থেকে ফিফার স্বীকৃতি পেলেও তারা কখনো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবুও ইনফান্তিনোর ভাষায়, ফুটবল হলো ‘বিশ্বের সর্বজনীন ভাষা—আশা, আনন্দ ও ঐক্যের প্রতীক’।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে আয়োজিত আসন্ন বিশ্বকাপের আগে ইনফান্তিনোকে প্রায়ই হোয়াইট হাউসে দেখা যাচ্ছে। গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে গাজা যুদ্ধ বন্ধে হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় ‘বোর্ড অফ পিস’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তবে মানবিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত গাজায় পানি, খাদ্য, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক প্রয়োজনের চেয়ে স্টেডিয়াম নির্মাণ কতটা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত—সে প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

3 × 3 =

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

গাজায় স্টেডিয়াম নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ফিফার

Update Time : ১০:৪৩:৫৩ am, Friday, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজা উপত্যকা এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পুরো শহর যেন ধূলায় মিশে গেছে। বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত। অনাহার ঠেকাতে পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পুনর্গঠন নিয়েই যেখানে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ঠিক সেই বাস্তবতায় একটি ঝকঝকে নতুন জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফিফা

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘Board of Peace**’-এর উদ্বোধনী সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে নয়টি দেশ গাজার জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারের ত্রাণ প্যাকেজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। পাশাপাশি আরও পাঁচটি দেশ একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশ হিসেবে সৈন্য মোতায়েনের আগ্রহ প্রকাশ করে।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমাদের শুধু ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল বা রাস্তা পুনর্নির্মাণ করলেই হবে না। আমাদের মানুষ, আবেগ, আশা ও বিশ্বাসকেও পুনর্গঠন করতে হবে। ফুটবলই সেই আশার প্রতীক।’

ফিফা জানিয়েছে, তারা ২০ থেকে ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণে ৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬১২ কোটি টাকা) দেবে। পাশাপাশি ১৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি ফিফা একাডেমি, ৫০টি “অ্যারেনা মিনি পিচ” নির্মাণে ২.৫ মিলিয়ন ডলার এবং প্রতিটি ১ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল মাঠ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বাস্তবতা হলো, গাজার নিজস্ব কোনো জাতীয় ফুটবল দল নেই। গাজা ও পশ্চিম তীর মিলিয়ে একটি সম্মিলিত ফিলিস্তিনি দল ১৯৯৮ সাল থেকে ফিফার স্বীকৃতি পেলেও তারা কখনো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবুও ইনফান্তিনোর ভাষায়, ফুটবল হলো ‘বিশ্বের সর্বজনীন ভাষা—আশা, আনন্দ ও ঐক্যের প্রতীক’।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে আয়োজিত আসন্ন বিশ্বকাপের আগে ইনফান্তিনোকে প্রায়ই হোয়াইট হাউসে দেখা যাচ্ছে। গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে গাজা যুদ্ধ বন্ধে হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় ‘বোর্ড অফ পিস’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তবে মানবিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত গাজায় পানি, খাদ্য, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক প্রয়োজনের চেয়ে স্টেডিয়াম নির্মাণ কতটা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত—সে প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শু/সবা