1:49 pm, Tuesday, 28 April 2026

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনায় ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রইরান-এর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে টানা তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক হিসেবে তেলের দাম সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ৯৯ ডলারে। একই দিনে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট-এর দাম ৬২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬৭ দশমিক ০৫ ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। ইরানের নিকটবর্তী এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে কোনো সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা গুরুতর সংকটে পড়তে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দামের ওপর।

এ ছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়া। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে শোধনাগারের ব্যবহার ও তেল রপ্তানি বেড়েছে, যা বাজারে সরবরাহের চাপ বাড়িয়েছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ভোক্তা যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা সীমিত রাখছে। উচ্চ সুদের হার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমাতে পারে, যা ভবিষ্যতে জ্বালানির চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

4 + 17 =

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনায় ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

Update Time : ০৭:০১:২০ pm, Friday, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রইরান-এর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে টানা তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক হিসেবে তেলের দাম সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ৯৯ ডলারে। একই দিনে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট-এর দাম ৬২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬৭ দশমিক ০৫ ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। ইরানের নিকটবর্তী এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে কোনো সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা গুরুতর সংকটে পড়তে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দামের ওপর।

এ ছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়া। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে শোধনাগারের ব্যবহার ও তেল রপ্তানি বেড়েছে, যা বাজারে সরবরাহের চাপ বাড়িয়েছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ভোক্তা যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা সীমিত রাখছে। উচ্চ সুদের হার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমাতে পারে, যা ভবিষ্যতে জ্বালানির চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শু/সবা