ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত হয়—এই লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া কিছু মামলা ‘সুবিধাবাদী মহল’ করেছে। ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের নামেও মামলা হয়েছে। এসব মামলা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুলিশ সরকারকে প্রতিবেদন দেবে। তিনি আরও জানান, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাও নতুন করে তদন্ত করা হবে।
তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিন মেয়াদে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, কারা যোগ্যতা ছাড়াই লাইসেন্স পেয়েছেন এবং রাজনৈতিক বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে দেওয়া লাইসেন্সগুলো বাতিল করা হবে।
পুলিশের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেউ অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করলে সরকার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে পুলিশের কর্মকাণ্ডেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি ও এসপি পদায়নে লটারি পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই পদায়ন করা হবে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে পুলিশে ২ হাজার ৭০১টি কনস্টেবল পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২০০৬ সালে চাকরি হারানো ৬৩০ জন পুলিশ সদস্যকে পুনর্বহাল করা হবে বলেও জানান তিনি। স্থায়ী ঠিকানা জালিয়াতির মাধ্যমে কনস্টেবল নিয়োগের অভিযোগগুলোও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় ভোগান্তি কমাতে দলিল লেখকদের মতো নিবন্ধিত সহায়তাকারী রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে এ ব্যবস্থা চালু হবে। নির্ধারিত সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে তারা পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবেন।
‘মব ভায়োলেন্স’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহাসড়ক বন্ধ করে দাবি আদায় করা যাবে না; বৈধ দাবি বৈধ পথেই উত্থাপন করতে হবে।
শু/সবা





















