ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের ব্যাপক দমন-পীড়ণের কয়েক সপ্তাহ পর ফের দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সোমবার শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। এবার আন্দোলনের সূচনা করেছেন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়—বিশেষ করে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়, আল জাহরা নারী বিশ্ববিদ্যালয় ও আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়—এ বিক্ষোভ সবচেয়ে উত্তপ্ত অবস্থায় আছে। বিক্ষোভকারীরা সরকারের পতনের দাবিসহ অনেকে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনেরও দাবি তুলেছেন।
দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীরা গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির আন্দোলনে নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং দায়ী নিরাপত্তা কর্মীদের বিচারেরও দাবি জানিয়েছেন। সেই নিহতদের স্মরণে শনিবার তেহরানে নতুন বিক্ষোভ শুরু হয়।
এর আগে অর্থনৈতিক চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ী ও দোকানমালিকরা আন্দোলন শুরু করেন। শিগগিরই তা ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনা সদস্যদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Activists News Agency (HRANA)-এর তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি। দেশটির বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির বিক্ষোভে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু আলোচনাও চলছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়েছিলেন, এমনকি সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ পরিবর্তিত হয়ে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন হুমকি দেওয়া হয়েছে।
উভয় পক্ষের এ উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের তরুণ প্রজন্মের সরকারের বিরোধী অংশ নতুন আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করছে, আর সরকার পক্ষে থাকা সমর্থকরা পাল্টা সমাবেশ করছে।
শু/সবা

























