১০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের হাইকোর্টে ভুয়া ডিগ্রিতে পাঁচ বছর বিচারপতি

পাকিস্তানের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এসেছে। টানা পাঁচ বছর ধরে উচ্চ আদালতের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওকালতির ডিগ্রিই যে ভুয়া— তা এতদিন কারও নজরে আসেনি। অবশেষে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে সেই ভুয়া বিচারপতি তারিক মাহমুদ জাহাঙ্গিরী-কে পদচ্যুত করেছে।

গত সোমবার ঘোষিত ১১৬ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত জানায়, কোনো বৈধ আইন ডিগ্রি ছাড়াই বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে রায় দেওয়া গুরুতর জালিয়াতি ও সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। আদালত তারিক মাহমুদ জাহাঙ্গিরীর আইনবিদ্যার ডিগ্রিকে শুরু থেকেই “বাতিল ও অকার্যকর” ঘোষণা করে। এর ফলে বিচারপতি হিসেবে তাঁর নিয়োগ আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ হয়ে যায়।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, করাচি বিশ্ববিদ্যালয়-এর রেজিস্ট্রারের তথ্য অনুযায়ী জাহাঙ্গিরীর পুরো শিক্ষাজীবনই ছিল জালিয়াতিতে ভরা। ১৯৮৮ সালে তিনি ভুয়া এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে পরীক্ষায় অংশ নেন এবং নকলের সময় ধরা পড়েন। এ কারণে তাকে তিন বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু শাস্তি মেনে না নিয়ে পরের বছর ‘ইমতিয়াজ আহমেদ’ নামের এক শিক্ষার্থীর এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে ‘তারিক জাহাঙ্গিরী’ পরিচয়ে আবার পরীক্ষায় বসেন।

এ ছাড়া সরকারি ইসলামিয়া ল কলেজের অধ্যক্ষ আদালতকে জানান, জাহাঙ্গিরী কখনোই ওই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন না। আদালত একাধিকবার তাকে মূল শিক্ষাগত নথিপত্র ও লিখিত জবাব দেওয়ার সুযোগ দিলেও তিনি কোনো বৈধ প্রমাণ হাজির করতে ব্যর্থ হন।

বরং মামলার শুনানি বিলম্বিত করতে নানা কৌশল নেন তিনি। কখনো ফুল বেঞ্চ গঠনের দাবি, কখনো প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চাওয়া, আবার কখনো সিন্ধু হাইকোর্ট-এ মামলা বিচারাধীন থাকার অজুহাতে শুনানি স্থগিতের আবেদন করেন।

রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, আবেদনকারীরা জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণের দায়িত্ব ছিল জাহাঙ্গিরীর ওপর। সেই দায় তিনি পালন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়— তিনি একজন চরম জালিয়াত এবং আইন অনুযায়ী বিচারপতি হওয়ার কোনো যোগ্যতা তাঁর নেই।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তারিক মাহমুদ জাহাঙ্গিরী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর বিচারিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সর্বশেষ রায়ের মাধ্যমে তাঁকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হলো।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের হাইকোর্টে ভুয়া ডিগ্রিতে পাঁচ বছর বিচারপতি

পাকিস্তানের হাইকোর্টে ভুয়া ডিগ্রিতে পাঁচ বছর বিচারপতি

আপডেট সময় : ১০:৩৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এসেছে। টানা পাঁচ বছর ধরে উচ্চ আদালতের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওকালতির ডিগ্রিই যে ভুয়া— তা এতদিন কারও নজরে আসেনি। অবশেষে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে সেই ভুয়া বিচারপতি তারিক মাহমুদ জাহাঙ্গিরী-কে পদচ্যুত করেছে।

গত সোমবার ঘোষিত ১১৬ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত জানায়, কোনো বৈধ আইন ডিগ্রি ছাড়াই বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে রায় দেওয়া গুরুতর জালিয়াতি ও সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। আদালত তারিক মাহমুদ জাহাঙ্গিরীর আইনবিদ্যার ডিগ্রিকে শুরু থেকেই “বাতিল ও অকার্যকর” ঘোষণা করে। এর ফলে বিচারপতি হিসেবে তাঁর নিয়োগ আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ হয়ে যায়।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, করাচি বিশ্ববিদ্যালয়-এর রেজিস্ট্রারের তথ্য অনুযায়ী জাহাঙ্গিরীর পুরো শিক্ষাজীবনই ছিল জালিয়াতিতে ভরা। ১৯৮৮ সালে তিনি ভুয়া এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে পরীক্ষায় অংশ নেন এবং নকলের সময় ধরা পড়েন। এ কারণে তাকে তিন বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু শাস্তি মেনে না নিয়ে পরের বছর ‘ইমতিয়াজ আহমেদ’ নামের এক শিক্ষার্থীর এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে ‘তারিক জাহাঙ্গিরী’ পরিচয়ে আবার পরীক্ষায় বসেন।

এ ছাড়া সরকারি ইসলামিয়া ল কলেজের অধ্যক্ষ আদালতকে জানান, জাহাঙ্গিরী কখনোই ওই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন না। আদালত একাধিকবার তাকে মূল শিক্ষাগত নথিপত্র ও লিখিত জবাব দেওয়ার সুযোগ দিলেও তিনি কোনো বৈধ প্রমাণ হাজির করতে ব্যর্থ হন।

বরং মামলার শুনানি বিলম্বিত করতে নানা কৌশল নেন তিনি। কখনো ফুল বেঞ্চ গঠনের দাবি, কখনো প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চাওয়া, আবার কখনো সিন্ধু হাইকোর্ট-এ মামলা বিচারাধীন থাকার অজুহাতে শুনানি স্থগিতের আবেদন করেন।

রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, আবেদনকারীরা জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণের দায়িত্ব ছিল জাহাঙ্গিরীর ওপর। সেই দায় তিনি পালন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়— তিনি একজন চরম জালিয়াত এবং আইন অনুযায়ী বিচারপতি হওয়ার কোনো যোগ্যতা তাঁর নেই।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তারিক মাহমুদ জাহাঙ্গিরী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর বিচারিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সর্বশেষ রায়ের মাধ্যমে তাঁকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হলো।

শু/সবা