পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন কড়া হুমকির মধ্যেই তৃতীয় দফায় আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে এই আলোচনা শুরু হয়। ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর শেষ কূটনৈতিক চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। অপরদিকে, ইরানও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—যেকোনো হামলার জবাবে তারা শক্তি প্রয়োগ করবে। পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানের মধ্যেই দুই পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসেছে।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটনে দেওয়া স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধাত্মক সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, “কূটনীতির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করাই আমার পছন্দ। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত—আমি কখনোই বিশ্বের এক নম্বর ‘সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক দেশকে’ পারমাণবিক অস্ত্র ধারণ করতে দেব না।”
তবে নতুন করে শুরু হওয়া এই আলোচনায় ট্রাম্প ঠিক কী দাবি তুলছেন এবং কেন সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
অন্যদিকে, ইরান তাদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, চলমান আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে পারে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের ফলাফলই নির্ধারণ করবে—মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে যাবে, নাকি কূটনীতির পথেই উত্তেজনা প্রশমিত হবে।

























