1:33 pm, Tuesday, 28 April 2026

আগ্রাসী শক্তিকে ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা পাকিস্তানের আছে: শেহবাজ শরিফ

যে কোনো আগ্রাসী বাহিনীকে ধ্বংস করার মতো সক্ষমতা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শেহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর শুরু করা সামরিক অভিযানে পুরো জাতির সমর্থন রয়েছে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যে কোনো আগ্রাসী শক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে এবং দেশের জনগণ সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পাক–আফগান সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাকিস্তানি সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী। ওই হামলায় অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন এবং আরও কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

হামলার সময় তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া বার্তায় জানান, আফগান সেনারা নাইট ভিশন ও লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে ‘নরকে পাঠানো হবে’। তিনি আরও দাবি করেন, ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহারপাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। ওই বিমান অভিযানে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল বলে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

হামলা শেষে রাত ১২টার দিকে আফগান সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকা ত্যাগ করে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই শুক্রবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে। অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানী কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান বিমান বাহিনী Pakistan Air Force (পিএএফ)।

এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩৩ জন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। অভিযানে আফগান সেনাবাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এক্সে দেওয়া বার্তায় জানান, পিএএফের বোমাবর্ষণে আফগান সেনাবাহিনীর দুইটি সেনা হেডকোয়ার্টার, তিনটি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দুইটি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, দুইটি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুলসংখ্যক আর্টিলারি ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে।

‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু হওয়ার পর এক্সে দেওয়া আরেকটি বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

one × 4 =

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

আগ্রাসী শক্তিকে ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা পাকিস্তানের আছে: শেহবাজ শরিফ

Update Time : ০২:৪৬:৩২ pm, Friday, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যে কোনো আগ্রাসী বাহিনীকে ধ্বংস করার মতো সক্ষমতা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শেহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর শুরু করা সামরিক অভিযানে পুরো জাতির সমর্থন রয়েছে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যে কোনো আগ্রাসী শক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে এবং দেশের জনগণ সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পাক–আফগান সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাকিস্তানি সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী। ওই হামলায় অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন এবং আরও কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

হামলার সময় তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া বার্তায় জানান, আফগান সেনারা নাইট ভিশন ও লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে ‘নরকে পাঠানো হবে’। তিনি আরও দাবি করেন, ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহারপাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। ওই বিমান অভিযানে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল বলে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

হামলা শেষে রাত ১২টার দিকে আফগান সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকা ত্যাগ করে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই শুক্রবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে। অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানী কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান বিমান বাহিনী Pakistan Air Force (পিএএফ)।

এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩৩ জন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। অভিযানে আফগান সেনাবাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এক্সে দেওয়া বার্তায় জানান, পিএএফের বোমাবর্ষণে আফগান সেনাবাহিনীর দুইটি সেনা হেডকোয়ার্টার, তিনটি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দুইটি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, দুইটি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুলসংখ্যক আর্টিলারি ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে।

‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু হওয়ার পর এক্সে দেওয়া আরেকটি বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

শু/সবা