4:25 am, Tuesday, 28 April 2026

নরসিংদীসহ সারাদেশে ধর্ষনের ঘটনার প্রতিবাদে রাকসুর বিক্ষোভ মিছিল 

নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ) বাদ জুমআ রাবি কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাকসু কার্যালয়ের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এসময় মিছিল অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদেরকে “ইনকিলাব ইনকিলাব জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ”  ”ধর্ষণের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না ” “ধর্ষকের শাস্তি, মৃত্যু মৃত্যু ” ” ধর্ষকের আস্তানা, ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও ” “আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই ” “ধর্ষকের শাস্তি হোক, ইনসাফের জয় হোক ” “নির্বাচনের পনেরো দিনে, প্রশাসনকে নিলো কিনে ” “তারেক রহমান জানেন নাকি, ধর্ষকের নেতা আপনি” এ ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের সহ-সভাপতি কাউসার হাবিব বলেন, সরকার গঠনের পরপরই নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে নরসিংদী পর্যন্ত যে নৃশংসতা ঘটেছে—বিশেষ করে এক কন্যাশিশুকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও হত্যা—তা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে ঘৃণ্যতম অপরাধ। এমন বর্বরতা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একইসাথে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনও আরো বলেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই—দেশের মা-বোনদের সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্রসমাজ ও সচেতন জনতা সবসময়ই ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত—এ কথা সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে।
এসময় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, সারা দেশে যেভাবে হত্যা ও একটি বিশেষ দলীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা ধর্ষনের সাথে জড়িত হচ্ছে এবং ধর্ষিত করার পর হত্যা করা হচ্ছে এগুলা দেখার পর বাংলাদেশের প্রশাসন ও বিচার বিভাগ যেভাবে নীরব হয়ে আছে আমরা বলতে চাই এরকম অন্যায় অবিচার নিজের দলের লোক করলেও যদি আপনি এর বিচার করেন তাহলে আমরা মনে করবো আপনহ ইনসাফের পক্ষে রয়েছেন, আর যদি নিজের দলের লোক মনে করে বিচার বিভাগকে হাতে নিয়ে বিচারকে দমিত করে ধর্ষককে নিরাপত্তা দেন তাহলে আমরা মনে করবো আপনি স্বৈরাচার হিসাবে আর্বিভূত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এরকম স্বৈরাচারী আচরণ থেকে বিরত হয়ে ধর্ষকের বিচার ও ধর্ষকদের শাস্তি নিশ্চিত করে সে ছাত্রদল হোক বিএনপি হোক ধর্ষক যা সে স্রেফ ধর্ষকই এদের বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখবে ইনশাআল্লাহ।  আমরা ধর্ষনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি সেই সাথে ধর্ষিতা বোনদের জন্য দোয়া করছি।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, শুধু বিচার নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিক্ষোভ মিছিলে রাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

16 − 15 =

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

নরসিংদীসহ সারাদেশে ধর্ষনের ঘটনার প্রতিবাদে রাকসুর বিক্ষোভ মিছিল 

Update Time : ০৪:৩৮:৩৬ pm, Friday, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ) বাদ জুমআ রাবি কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাকসু কার্যালয়ের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এসময় মিছিল অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদেরকে “ইনকিলাব ইনকিলাব জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ”  ”ধর্ষণের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না ” “ধর্ষকের শাস্তি, মৃত্যু মৃত্যু ” ” ধর্ষকের আস্তানা, ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও ” “আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই ” “ধর্ষকের শাস্তি হোক, ইনসাফের জয় হোক ” “নির্বাচনের পনেরো দিনে, প্রশাসনকে নিলো কিনে ” “তারেক রহমান জানেন নাকি, ধর্ষকের নেতা আপনি” এ ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের সহ-সভাপতি কাউসার হাবিব বলেন, সরকার গঠনের পরপরই নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে নরসিংদী পর্যন্ত যে নৃশংসতা ঘটেছে—বিশেষ করে এক কন্যাশিশুকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও হত্যা—তা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে ঘৃণ্যতম অপরাধ। এমন বর্বরতা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একইসাথে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনও আরো বলেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই—দেশের মা-বোনদের সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্রসমাজ ও সচেতন জনতা সবসময়ই ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত—এ কথা সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে।
এসময় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, সারা দেশে যেভাবে হত্যা ও একটি বিশেষ দলীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা ধর্ষনের সাথে জড়িত হচ্ছে এবং ধর্ষিত করার পর হত্যা করা হচ্ছে এগুলা দেখার পর বাংলাদেশের প্রশাসন ও বিচার বিভাগ যেভাবে নীরব হয়ে আছে আমরা বলতে চাই এরকম অন্যায় অবিচার নিজের দলের লোক করলেও যদি আপনি এর বিচার করেন তাহলে আমরা মনে করবো আপনহ ইনসাফের পক্ষে রয়েছেন, আর যদি নিজের দলের লোক মনে করে বিচার বিভাগকে হাতে নিয়ে বিচারকে দমিত করে ধর্ষককে নিরাপত্তা দেন তাহলে আমরা মনে করবো আপনি স্বৈরাচার হিসাবে আর্বিভূত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এরকম স্বৈরাচারী আচরণ থেকে বিরত হয়ে ধর্ষকের বিচার ও ধর্ষকদের শাস্তি নিশ্চিত করে সে ছাত্রদল হোক বিএনপি হোক ধর্ষক যা সে স্রেফ ধর্ষকই এদের বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখবে ইনশাআল্লাহ।  আমরা ধর্ষনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি সেই সাথে ধর্ষিতা বোনদের জন্য দোয়া করছি।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, শুধু বিচার নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিক্ষোভ মিছিলে রাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
শু/সবা