“আমরা সাধারণ শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করলেও যদি কোরআনের জ্ঞান অর্জন না করি এবং জীবনে তা চর্চা না করি, তবে সেই শিক্ষা অপূর্ণ থেকে যায়” এ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত বৃহৎ ইফতার মাহফিল ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শুক্রবার আসরের নামাজের পর শুরু হওয়া এ আয়োজন মাগরিবের ইফতার শেষে ইশার নামাজ পর্যন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে চলতে থাকে। অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিবির নেতারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং সঞ্চালনা করেন হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম। দারসুল কোরআন পেশ করেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শরীফ উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় চবি দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বক্তব্য দেন চাকসু এজিএস সাইদ বিন হাবীব, শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ ও সদ্য সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী।
সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, রমজান একটি বরকতময় মাস, যা মানুষকে তাকওয়া অর্জনের শিক্ষা দেয়। তিনি তাকওয়ার ব্যাখ্যায় হজরত ওমর (রা.)-এর একটি উপমা তুলে ধরে বলেন, কাঁটাযুক্ত পথ অতিক্রম করার সময় যেমন মানুষ সতর্ক হয়ে চলাফেরা করে, তেমনি আল্লাহভীতি নিয়ে জীবন পরিচালনাই তাকওয়া। রোজার মাধ্যমে মানুষ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও খাওয়া-দাওয়া ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকে এটাই তাকওয়ার বাস্তব অনুশীলন।
তিনি আরও বলেন, রমজান মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে, যা মানবসমাজকে অন্ধকার থেকে আলোয় এনেছে। কোরআন নাজিলের আগে আরব সমাজ ছিল পশ্চাৎপদ ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত; কিন্তু কোরআনের শিক্ষা সেই সমাজকে আলোকিত ও মানবিক করে তুলেছিল। তাই তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা সাধারণ শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করলেও যদি কোরআনের জ্ঞান অর্জন না করি এবং জীবনে তা চর্চা না করি, তবে সেই শিক্ষা অপূর্ণ থেকে যায়। আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা কোরআন পড়ি না, বুঝি না, জীবনে ধারণ করি না।
সমসাময়িক সমাজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজ দেশে ধর্ষণ, চুরি, রাহাজানি ও সহিংসতার মতো ঘটনা ঘটছে; অর্থনৈতিক সংকটও দৃশ্যমান। নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণের মতো ঘটনাও সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রমাণ। তিনি বলেন, যারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করেন তারা যদি কোরআনের আদর্শ ধারণ করতেন, তবে সমাজ আরও ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী হতো।
সবশেষে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমরা যে বিষয়ে পড়াশোনা করি না কেন, তা যেন কোরআনের আলোকে অনুধাবন করি এবং জীবনকে কোরআনের রঙে রাঙাই তাহলেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, “আমরা মনে করেছিলাম অতীতে সংঘটিত ধর্ষণসহ নানা অপরাধের পরিবেশ আর থাকবে না। কিন্তু এখনও দেশে ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সী মেয়েশিশুরাও ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। চুরি-ডাকাতি, মারামারি ও সংঘাতের ঘটনাও ঘটছে।” তিনি সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে ধর্মীয় মূল্যবোধে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
আয়োজকরা জানান, আগামী ১ মার্চ ছাত্রীদের হলের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে পৃথকভাবে ইফতার বিতরণ করা হবে।
শু/সবা
























