11:31 am, Tuesday, 28 April 2026

তেহরানের কেন্দ্রস্থলসহ সাত স্থানে হামলা, আতঙ্কে নগরবাসী

ইরানের রাজধানী তেহরান-এ একযোগে সাতটি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলও রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তেহরানের আশপাশে হামলার ঘটনা আগেও ঘটলেও, এবার শহরের কেন্দ্রভাগে হামলা হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (১ মার্চ) আলজাজিরা-র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে তেহরানের বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকাও রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট করে কোন স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সামরিক না সরকারি—তাও নিশ্চিত করা যায়নি।

আলজাজিরা আরও জানিয়েছে, শহরের বড় বড় হোটেল ও শপিংমলের কাছাকাছি এলাকাও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। বাসিন্দারা বলছেন, সংঘাত এখন তাদের বাড়ির খুব কাছাকাছি চলে এসেছে।

পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কারণে বহু মানুষ খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করার চেষ্টা করছেন। সংঘাত কতদিন স্থায়ী হবে—এ নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন দাবি উঠে এসেছে। ঘটনার পর দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, ইমাম খামেনির শাহাদাতের পর নেতৃত্ব কীভাবে পরিচালিত হবে—সে পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

ভিডিও বার্তায় গালিবাফ আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পবেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সীমারেখা অতিক্রম করেছেন; এর জন্য তাদের মূল্য দিতে হবে।

অন্যদিকে, ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা নিহতের পর সংবিধান অনুযায়ী একটি সাময়িক কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এই কাউন্সিলে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ (ধর্মীয় আইনজ্ঞ)।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) কাউকে মনোনীত না করা পর্যন্ত এই কাউন্সিলই দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবে।

শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

one × five =

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

তেহরানের কেন্দ্রস্থলসহ সাত স্থানে হামলা, আতঙ্কে নগরবাসী

Update Time : ০৫:১৭:৫৭ pm, Sunday, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানের রাজধানী তেহরান-এ একযোগে সাতটি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলও রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তেহরানের আশপাশে হামলার ঘটনা আগেও ঘটলেও, এবার শহরের কেন্দ্রভাগে হামলা হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (১ মার্চ) আলজাজিরা-র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে তেহরানের বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকাও রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট করে কোন স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সামরিক না সরকারি—তাও নিশ্চিত করা যায়নি।

আলজাজিরা আরও জানিয়েছে, শহরের বড় বড় হোটেল ও শপিংমলের কাছাকাছি এলাকাও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। বাসিন্দারা বলছেন, সংঘাত এখন তাদের বাড়ির খুব কাছাকাছি চলে এসেছে।

পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কারণে বহু মানুষ খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করার চেষ্টা করছেন। সংঘাত কতদিন স্থায়ী হবে—এ নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন দাবি উঠে এসেছে। ঘটনার পর দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, ইমাম খামেনির শাহাদাতের পর নেতৃত্ব কীভাবে পরিচালিত হবে—সে পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

ভিডিও বার্তায় গালিবাফ আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পবেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সীমারেখা অতিক্রম করেছেন; এর জন্য তাদের মূল্য দিতে হবে।

অন্যদিকে, ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা নিহতের পর সংবিধান অনুযায়ী একটি সাময়িক কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এই কাউন্সিলে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ (ধর্মীয় আইনজ্ঞ)।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) কাউকে মনোনীত না করা পর্যন্ত এই কাউন্সিলই দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবে।

শু/সবা