8:41 am, Tuesday, 28 April 2026

প্রথমবারের মতো রাকসুর উদ্যোগে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে গণইফতার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো বৃহৎ পরিসরের গণইফতার মাহফিল। রবিবার (০১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ছাত্রদের এবং শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ছাত্রীদের পৃথকভাবে আয়োজন করা হয়।
এই আয়োজনের বিশেষ দিক ছিল—মুসলিম শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদেরও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে রাকসু এ উদ্যোগ গ্রহণ করে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, আজকের এই গণইফতার আয়োজন শুধুমাত্র মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য নয়; সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদাভাবে ইফতারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রায় ১৮ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি, পুরো আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।তবে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে খাবারের স্বল্পতা দেখা দিলে আগাম ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সবাই যেন পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভাগাভাগির মাধ্যমে সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
গণইফতারের ফান্ডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) উদ্যোগে এটাই প্রথম এত বড় পরিসরে আয়োজন। প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলাদা আলাদা টিম কাজ করেছে। তবে ফান্ডিং সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয়ে রাকসু ভিপি আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।
সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরির আহ্বান জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, রাকসুর পক্ষ থেকে আমরা ক্যাম্পাসে সহমর্মিতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি। সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ১৮ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর একসঙ্গে ইফতারে অংশগ্রহণ সত্যিই অনন্য ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রাখি।
ফান্ডিংয়ের বিষয়ে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও রাকসুপ্রেমী ভাইয়েরাই এই আয়োজন বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন। সংগৃহীত অর্থের প্রায় পুরোটা ইফতারের ব্যয়েই খরচ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গতকাল প্রশাসনের আয়োজিত গণইফতারে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আগ্রহ আমরা লক্ষ্য করেছি। সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার লক্ষ্যে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের মুগ্ধ করেছে এবং আশাবাদী করেছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর রাকসুর এমন উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং পুরো ক্যাম্পাসে সম্প্রীতির আবহ বিরাজ করে।এবং এই কর্মসূচিতে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন তবে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীর ইফতার না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরাG
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

20 + 10 =

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

প্রথমবারের মতো রাকসুর উদ্যোগে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে গণইফতার

Update Time : ০৮:৪০:৩৫ pm, Sunday, ১ মার্চ ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো বৃহৎ পরিসরের গণইফতার মাহফিল। রবিবার (০১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ছাত্রদের এবং শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ছাত্রীদের পৃথকভাবে আয়োজন করা হয়।
এই আয়োজনের বিশেষ দিক ছিল—মুসলিম শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদেরও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে রাকসু এ উদ্যোগ গ্রহণ করে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, আজকের এই গণইফতার আয়োজন শুধুমাত্র মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য নয়; সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদাভাবে ইফতারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রায় ১৮ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি, পুরো আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।তবে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে খাবারের স্বল্পতা দেখা দিলে আগাম ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সবাই যেন পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভাগাভাগির মাধ্যমে সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
গণইফতারের ফান্ডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) উদ্যোগে এটাই প্রথম এত বড় পরিসরে আয়োজন। প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলাদা আলাদা টিম কাজ করেছে। তবে ফান্ডিং সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয়ে রাকসু ভিপি আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।
সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরির আহ্বান জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, রাকসুর পক্ষ থেকে আমরা ক্যাম্পাসে সহমর্মিতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি। সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ১৮ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর একসঙ্গে ইফতারে অংশগ্রহণ সত্যিই অনন্য ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রাখি।
ফান্ডিংয়ের বিষয়ে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও রাকসুপ্রেমী ভাইয়েরাই এই আয়োজন বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন। সংগৃহীত অর্থের প্রায় পুরোটা ইফতারের ব্যয়েই খরচ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গতকাল প্রশাসনের আয়োজিত গণইফতারে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আগ্রহ আমরা লক্ষ্য করেছি। সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার লক্ষ্যে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের মুগ্ধ করেছে এবং আশাবাদী করেছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর রাকসুর এমন উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং পুরো ক্যাম্পাসে সম্প্রীতির আবহ বিরাজ করে।এবং এই কর্মসূচিতে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন তবে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীর ইফতার না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরাG
শু/সবা