2:58 am, Tuesday, 28 April 2026

পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানোর ঘোষণা ফ্রান্সের

বিশ্বজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা ও সংঘাত বাড়তে থাকায় পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রো। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলাকে ঘিরে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে সোমবার এই ঘোষণা দেন তিনি।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ফ্রান্স নিজেদের ভাণ্ডারে থাকা পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়াতে যাচ্ছে।

সোমবার উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের **এল’ইল লং সামরিক ঘাঁটি**তে দাঁড়িয়ে এই ঘোষণা দেন ম্যাক্রোঁ। এই ঘাঁটিই ফ্রান্সের সব ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনের প্রধান কেন্দ্র।

ম্যাক্রোঁ বলেন, বর্তমানে ফ্রান্সের কাছে ৩০০টির কম পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং এই সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কতটি নতুন অস্ত্র যুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ১৯৯২ সালের পর প্রথমবারের মতো ফ্রান্স তাদের পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বাড়াবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হুমকি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোয় ফ্রান্সের পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভূমিকা স্পষ্ট করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, ফ্রান্স এখন থেকে মিত্র দেশগুলোতে অস্থায়ীভাবে পরমাণু অস্ত্রবাহী যুদ্ধবিমান মোতায়েনের অনুমতি দেবে। একই সঙ্গে ফ্রান্স, জার্মানিযুক্তরাজ্য যৌথভাবে অধিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পে কাজ করবে, যাতে তাদের সামরিক হামলা চালানোর সক্ষমতা আরও বাড়ানো যায়।

যদিও ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য উভয়ই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ, তবুও ইউরোপের অধিকাংশ রাষ্ট্র সম্ভাব্য শত্রু মোকাবিলায় এখনও যুক্তরাষ্ট্র-এর ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরেই এই নির্ভরশীলতা ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

তবে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘনিষ্ঠতা এবং ঐতিহ্যগত ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি তার কঠোর অবস্থান ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারকে নতুন করে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

one × 1 =

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানোর ঘোষণা ফ্রান্সের

Update Time : ১০:১৭:৫৮ pm, Monday, ২ মার্চ ২০২৬

বিশ্বজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা ও সংঘাত বাড়তে থাকায় পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রো। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলাকে ঘিরে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে সোমবার এই ঘোষণা দেন তিনি।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ফ্রান্স নিজেদের ভাণ্ডারে থাকা পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়াতে যাচ্ছে।

সোমবার উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের **এল’ইল লং সামরিক ঘাঁটি**তে দাঁড়িয়ে এই ঘোষণা দেন ম্যাক্রোঁ। এই ঘাঁটিই ফ্রান্সের সব ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনের প্রধান কেন্দ্র।

ম্যাক্রোঁ বলেন, বর্তমানে ফ্রান্সের কাছে ৩০০টির কম পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং এই সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কতটি নতুন অস্ত্র যুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ১৯৯২ সালের পর প্রথমবারের মতো ফ্রান্স তাদের পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বাড়াবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হুমকি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোয় ফ্রান্সের পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভূমিকা স্পষ্ট করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, ফ্রান্স এখন থেকে মিত্র দেশগুলোতে অস্থায়ীভাবে পরমাণু অস্ত্রবাহী যুদ্ধবিমান মোতায়েনের অনুমতি দেবে। একই সঙ্গে ফ্রান্স, জার্মানিযুক্তরাজ্য যৌথভাবে অধিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পে কাজ করবে, যাতে তাদের সামরিক হামলা চালানোর সক্ষমতা আরও বাড়ানো যায়।

যদিও ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য উভয়ই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ, তবুও ইউরোপের অধিকাংশ রাষ্ট্র সম্ভাব্য শত্রু মোকাবিলায় এখনও যুক্তরাষ্ট্র-এর ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরেই এই নির্ভরশীলতা ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

তবে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘনিষ্ঠতা এবং ঐতিহ্যগত ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি তার কঠোর অবস্থান ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারকে নতুন করে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা