১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভিত্তিহীন অভিযোগে শিক্ষক তন্ময়কে হেয় প্রতিপন্নের চেষ্টা, শিক্ষার্থীদের নিন্দা

ভিত্তিহীন অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয়কে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে উঠেছে একটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় তুলেছেন উক্ত বিভাগের অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীরা৷

জানা যায়, রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নিতে চাওয়ায় ইবির জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষক তন্ময় সাহা জয়ের প্রতি বিরাগভাজন হয়ে তার ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেয় বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের কাছে তিন দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেয় তারা। স্মারকলিপিতে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না থাকলেও গত ১ মার্চ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার, ফলাফল ‘ভ্যানিশ’ করে দেওয়ার হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ইন্টার্নাল মার্ক প্রদানে দ্বিচারিতা, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয় যার কোনটাই স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেননি।

বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিভাগীয় সভাপতিকে এসব অভিযোগ দেননি বলে জানান এবং স্মারকলিপির বাইরে তাদের কোন বক্তব্য নেই বলেও উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় তোলেন।

২০২২-২৩ সেশনের জান্নাতুল বৃষ্টি লিখেছেন, স্যারের সম্পর্কে এরকম অভিযোগ ভিত্তিহীন। স্যার কখনো ইনকোর্স মার্ক বা অ্যাটেনডেন্সের ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব ফেলেন না। তার বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ সত্যিই দুঃখজনক!!

ফাউজিয়া আবিদা লিখেছেন, স্যার মোটেও এইরকম না যেসব অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বরং স্যার আমাদের ভালো চান সবসময়। তিনি আমাদের অভিভাবক হিসেবে দুই একটা বকা বা রেগে গিয়ে দুই একটা কথা বলতেই পারেন কিন্তু তিনি আমাদের যথেষ্ট স্নেহ করেন। তাছাড়া স্যার কখনো অ্যাটেনডেন্স বা ইনকোর্স মার্ক এর ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব ফেলেন না।

শুবংকর রায় লিখেছেন, শুধুই অভিযোগ, না কোনো ষড়যন্ত্র! আমরা তো এমন কোনো পরিস্থিতির শিকার হই নাই। আর নাম্বারের কথা বললে তো মনে হয় যা নাম্বার দেয় এটাই বেশি।

সিনথিয়া সরকার লিখেছেন, গত তিন বছরে স্যারকে কখনো পরীক্ষার খাতায় বা অ্যাটেনডেন্সে নাম্বার দেওয়ার ক্ষেত্রে পার্শিয়ালিটি করতে দেখি নাই। আর অন ডে তে ক্লাস নিতে চাওয়ায় স্যারের ভুল দেখছি না। ইবিতে শিক্ষার্থী বান্ধব শিক্ষক যদি কয়েকজন থেকে থাকে তবে স্যার তাদের মধ্যে থাকবেন।
তিনি আরো লিখেছেন, ফলাফল ভ্যানিশ করে কিভাবে? আপনি দেখি ভাই খুব চমৎকার চমৎকার শিরোনাম লিখেন! আগে জানলে এডিটিং কোর্স আপনার কাছেই করতাম।

কানিজ ফাতিমা অবনী বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে কখনো এমন অভিজ্ঞতা হয়নি যে তিনি নম্বর নিয়ে দ্বিচারিতা করেছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি সবসময় একাডেমিক মান বজায় রাখার চেষ্টা করেন। নাম্বার দেওয়া সম্পূর্ণ একাডেমিক মূল্যায়নের বিষয়। আমাদের জানা উচিত— সব শিক্ষার্থী সমান নম্বর পাবে না, কারণ মূল্যায়ন মানদণ্ডের উপর তা নির্ভর করে। আমরা তিন বছর ধরে স্যারের ক্লাস করছি। এই সময়ে তাঁকে সবসময় শিক্ষার্থী-বান্ধব ও দায়িত্বশীল শিক্ষক হিসেবেই পেয়েছি।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের রবিন মিয়া লিখেছেন, ১ম বর্ষ থেকে এই অবধি স্যারকে দেখে আসছি। এই সময়ে স্যারের সম্পর্কে আমার যে অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে তা নিউজের সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত। স্যার একটু রাগী, বেশ খানিকটা জেদী কিন্তু দিনশেষে দেখা যায়, সবকিছুর পিছনে আমাদের মঙ্গলের জন্যই এসব। শিক্ষক শুধু পাঠদানে দক্ষ হলে হয়না, শিক্ষক প্রয়োজনে বন্ধুর মত হতে হয়, শিক্ষার্থীদের মঙ্গলের তাড়নায় মাঝেমধ্যে গার্ডিয়ানের ভূমিকার ন্যায় দাঁড়াতে হয়। এটা আমার জীবনে প্রথম বা নতুন অভিজ্ঞতা যা অর্জন করেছি স্যারকে দেখে।

একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ঐশী লিখেছেন, ১ বছরের বেশি হয়ে গেছে আমরা ডিপার্টমেন্টে আছি। কখনও স্যারের থেকে আমরা এরকম মার্ক/এটেনডেন্স নিয়ে হুমকি বা যেসব অভিযোগ আসছে সেসব ফেস করিনি। স্যার সবসময় ন্যায্য নাম্বার দেন এবং চেষ্টা করেন ডিপার্টমেন্টকে কিভাবে আরও ভালো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়। স্যারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ কোনদিনও কাম্য নয়।

জুবায়ের হোসেন লিখেছেন, বিগত একবছরে উনার ক্লাস করে যা বুঝেছি উনি অনেক জেদি টাইপের একটা মানুষ। তবে এই জেদ কখনো আমাদের অমঙ্গলের জন্য করেনি বরং আমাদের অলস ভাব দূর করতে, আমাদের অন্য দশজনের থেকে আলাদা করতে করেছেন। তাছাড়া স্যার যেভাবে পরিশ্রম করে আমাদের ডিপার্টমেন্টকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন বা যাচ্ছেন, দিন শেষে এসব অভিযোগ সত্যিই উনার জন্য অনেক কষ্টের।

রবিউল ইসলাম লিখেছেন, স্যার খুব ভালো মনের মানুষ, তিনি যেটা করেন আমাদের ভালোর জন্যই করেন, এমন নিউজের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের রূপালি আক্তার লিখেছেন, অর্ধ সত্য মিথ্যা অপেক্ষা ভয়ংকর, যেখানে এই অভিযোগ সম্পূর্ণটাই মিথ্যা। স্যারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের পিছনে কারো কি ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা পূর্ববর্তী কোনো প্রতিহিংসা কাজ করছে??? নাকি এর পিছনে রয়েছে আরো রহস্য। স্যারের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

জাহিদুল ইসলাম লিখেছেন, তন্ময় স্যার যা করেন, আমাদের ভালোর কথা ভেবেই করেন। সেশনজটের বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি সবসময় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাস নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিভাগকে দ্রুত এগিয়ে নিতে তিনি যথেষ্ট  পরিশ্রম করেন। ফলাফল ভ্যানিশ করে দেওয়ার মতো হুমকি আমরা কখনোই পাইনি। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি দায়িত্ববোধ নিয়েই কাজ করেন। স্যারের বিরুদ্ধে ফলাফল ভ্যানিশ করে দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

নূর সানজিদা স্মৃতি লিখেছেন, তন্ময় সাহা জয় স্যার সব সময় শিক্ষার্থীদের মঙ্গলের চিন্তা করেন। কীভাবে বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি করবে, এটিই তাঁর মূল লক্ষ্য থাকে। তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ যথেষ্ট ভিত্তিহীন ।

হাসনাত জাহান লিখেছেন, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে একজন গুণী শিক্ষকের সম্মান নষ্ট করার এহেন আচরণ সম্পূর্ণ নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। যারা এ ধরনের অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের মনে রাখা উচিত—মিথ্যা দিয়ে কখনো সত্যকে ঢেকে রাখা যায় না।

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের অনন্যা মিম লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বা আমার শিক্ষাজীবনে ‘তন্ময়’ স্যারের মতো স্যার পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার বলেই মনে করি। আমার অন্তঃসত্ত্বাকালীন সময়ে স্যার একাডেমিক বিষয়ে অনেক সাহায্য করেছেন জন্যই আমার পড়াশোনা বেশ নির্ঝঞ্ঝাট ভাবে চলছে। তিনি নিজে যেচে আমাকে সাহায্য করেছেন, কারণ আমি অনেক কিছুই জানতাম না বুঝতাম না কি করতে হবে। স্যার বকা দেন না এমন না, তবে সবটাই আমাদের ভালোর জন্য। আর আজ পর্যন্ত স্যারকে কোন বিষয়ে হুমকি দিতে আমি দেখিনি।সর্বোপরি স্যারের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে সবটাই ভিত্তিহীন।

একই সেশনের শামীম হোসেন লিখেছেন, শুরু থেকে বিভাগের যে অবস্থা, যদি তন্ময় স্যার না থাকতো তাহলে ২০-২১ হয়তো এখনো ৩য় বর্ষের ১ম সেমিস্টারের ক্লাস করতো। ৯টায় ক্লাস দিলে তাদের ঘুম ভাঙ্গে না আবার ২টার পর ক্লাস দিলে ঘুম পায়। ইবিতে এমন এলিট ব্যাচ শুধু জার্নালিজমেই পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় না হয়ে এটা যদি স্কুল হতো তবে ক্লাস না করার জন্য স্যাররা এনাদের বেঞ্চের উপর কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখতো।

ফারহানা ইয়াসমিন লিখেছেন, তন্ময় স্যার যেমন আমাদের শাসন করেন তেমন স্যারই আমাদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতাও করেন। শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর রাখাকে যদি কেউ ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে দাবি করে তাহলে তাদের বিষয়ে বলার কিছু নেই। আর হ্যাঁ, এই স্যারই আমার সেই প্রেগন্যান্ট বান্ধবীরও খোঁজ রাখছেন, যেন তার ইয়ার ড্রপ না যায়।

 

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশখালীতে আমিরাঘোনা মাটির মসজিদ মাদরাসার ইফতার ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত।

ভিত্তিহীন অভিযোগে শিক্ষক তন্ময়কে হেয় প্রতিপন্নের চেষ্টা, শিক্ষার্থীদের নিন্দা

আপডেট সময় : ০৩:৩০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ভিত্তিহীন অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয়কে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে উঠেছে একটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় তুলেছেন উক্ত বিভাগের অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীরা৷

জানা যায়, রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নিতে চাওয়ায় ইবির জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষক তন্ময় সাহা জয়ের প্রতি বিরাগভাজন হয়ে তার ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেয় বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের কাছে তিন দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেয় তারা। স্মারকলিপিতে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না থাকলেও গত ১ মার্চ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার, ফলাফল ‘ভ্যানিশ’ করে দেওয়ার হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ইন্টার্নাল মার্ক প্রদানে দ্বিচারিতা, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয় যার কোনটাই স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেননি।

বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিভাগীয় সভাপতিকে এসব অভিযোগ দেননি বলে জানান এবং স্মারকলিপির বাইরে তাদের কোন বক্তব্য নেই বলেও উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় তোলেন।

২০২২-২৩ সেশনের জান্নাতুল বৃষ্টি লিখেছেন, স্যারের সম্পর্কে এরকম অভিযোগ ভিত্তিহীন। স্যার কখনো ইনকোর্স মার্ক বা অ্যাটেনডেন্সের ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব ফেলেন না। তার বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ সত্যিই দুঃখজনক!!

ফাউজিয়া আবিদা লিখেছেন, স্যার মোটেও এইরকম না যেসব অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বরং স্যার আমাদের ভালো চান সবসময়। তিনি আমাদের অভিভাবক হিসেবে দুই একটা বকা বা রেগে গিয়ে দুই একটা কথা বলতেই পারেন কিন্তু তিনি আমাদের যথেষ্ট স্নেহ করেন। তাছাড়া স্যার কখনো অ্যাটেনডেন্স বা ইনকোর্স মার্ক এর ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব ফেলেন না।

শুবংকর রায় লিখেছেন, শুধুই অভিযোগ, না কোনো ষড়যন্ত্র! আমরা তো এমন কোনো পরিস্থিতির শিকার হই নাই। আর নাম্বারের কথা বললে তো মনে হয় যা নাম্বার দেয় এটাই বেশি।

সিনথিয়া সরকার লিখেছেন, গত তিন বছরে স্যারকে কখনো পরীক্ষার খাতায় বা অ্যাটেনডেন্সে নাম্বার দেওয়ার ক্ষেত্রে পার্শিয়ালিটি করতে দেখি নাই। আর অন ডে তে ক্লাস নিতে চাওয়ায় স্যারের ভুল দেখছি না। ইবিতে শিক্ষার্থী বান্ধব শিক্ষক যদি কয়েকজন থেকে থাকে তবে স্যার তাদের মধ্যে থাকবেন।
তিনি আরো লিখেছেন, ফলাফল ভ্যানিশ করে কিভাবে? আপনি দেখি ভাই খুব চমৎকার চমৎকার শিরোনাম লিখেন! আগে জানলে এডিটিং কোর্স আপনার কাছেই করতাম।

কানিজ ফাতিমা অবনী বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে কখনো এমন অভিজ্ঞতা হয়নি যে তিনি নম্বর নিয়ে দ্বিচারিতা করেছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি সবসময় একাডেমিক মান বজায় রাখার চেষ্টা করেন। নাম্বার দেওয়া সম্পূর্ণ একাডেমিক মূল্যায়নের বিষয়। আমাদের জানা উচিত— সব শিক্ষার্থী সমান নম্বর পাবে না, কারণ মূল্যায়ন মানদণ্ডের উপর তা নির্ভর করে। আমরা তিন বছর ধরে স্যারের ক্লাস করছি। এই সময়ে তাঁকে সবসময় শিক্ষার্থী-বান্ধব ও দায়িত্বশীল শিক্ষক হিসেবেই পেয়েছি।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের রবিন মিয়া লিখেছেন, ১ম বর্ষ থেকে এই অবধি স্যারকে দেখে আসছি। এই সময়ে স্যারের সম্পর্কে আমার যে অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে তা নিউজের সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত। স্যার একটু রাগী, বেশ খানিকটা জেদী কিন্তু দিনশেষে দেখা যায়, সবকিছুর পিছনে আমাদের মঙ্গলের জন্যই এসব। শিক্ষক শুধু পাঠদানে দক্ষ হলে হয়না, শিক্ষক প্রয়োজনে বন্ধুর মত হতে হয়, শিক্ষার্থীদের মঙ্গলের তাড়নায় মাঝেমধ্যে গার্ডিয়ানের ভূমিকার ন্যায় দাঁড়াতে হয়। এটা আমার জীবনে প্রথম বা নতুন অভিজ্ঞতা যা অর্জন করেছি স্যারকে দেখে।

একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ঐশী লিখেছেন, ১ বছরের বেশি হয়ে গেছে আমরা ডিপার্টমেন্টে আছি। কখনও স্যারের থেকে আমরা এরকম মার্ক/এটেনডেন্স নিয়ে হুমকি বা যেসব অভিযোগ আসছে সেসব ফেস করিনি। স্যার সবসময় ন্যায্য নাম্বার দেন এবং চেষ্টা করেন ডিপার্টমেন্টকে কিভাবে আরও ভালো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়। স্যারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ কোনদিনও কাম্য নয়।

জুবায়ের হোসেন লিখেছেন, বিগত একবছরে উনার ক্লাস করে যা বুঝেছি উনি অনেক জেদি টাইপের একটা মানুষ। তবে এই জেদ কখনো আমাদের অমঙ্গলের জন্য করেনি বরং আমাদের অলস ভাব দূর করতে, আমাদের অন্য দশজনের থেকে আলাদা করতে করেছেন। তাছাড়া স্যার যেভাবে পরিশ্রম করে আমাদের ডিপার্টমেন্টকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন বা যাচ্ছেন, দিন শেষে এসব অভিযোগ সত্যিই উনার জন্য অনেক কষ্টের।

রবিউল ইসলাম লিখেছেন, স্যার খুব ভালো মনের মানুষ, তিনি যেটা করেন আমাদের ভালোর জন্যই করেন, এমন নিউজের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের রূপালি আক্তার লিখেছেন, অর্ধ সত্য মিথ্যা অপেক্ষা ভয়ংকর, যেখানে এই অভিযোগ সম্পূর্ণটাই মিথ্যা। স্যারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের পিছনে কারো কি ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা পূর্ববর্তী কোনো প্রতিহিংসা কাজ করছে??? নাকি এর পিছনে রয়েছে আরো রহস্য। স্যারের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

জাহিদুল ইসলাম লিখেছেন, তন্ময় স্যার যা করেন, আমাদের ভালোর কথা ভেবেই করেন। সেশনজটের বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি সবসময় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাস নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিভাগকে দ্রুত এগিয়ে নিতে তিনি যথেষ্ট  পরিশ্রম করেন। ফলাফল ভ্যানিশ করে দেওয়ার মতো হুমকি আমরা কখনোই পাইনি। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি দায়িত্ববোধ নিয়েই কাজ করেন। স্যারের বিরুদ্ধে ফলাফল ভ্যানিশ করে দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

নূর সানজিদা স্মৃতি লিখেছেন, তন্ময় সাহা জয় স্যার সব সময় শিক্ষার্থীদের মঙ্গলের চিন্তা করেন। কীভাবে বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি করবে, এটিই তাঁর মূল লক্ষ্য থাকে। তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ যথেষ্ট ভিত্তিহীন ।

হাসনাত জাহান লিখেছেন, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে একজন গুণী শিক্ষকের সম্মান নষ্ট করার এহেন আচরণ সম্পূর্ণ নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। যারা এ ধরনের অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের মনে রাখা উচিত—মিথ্যা দিয়ে কখনো সত্যকে ঢেকে রাখা যায় না।

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের অনন্যা মিম লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বা আমার শিক্ষাজীবনে ‘তন্ময়’ স্যারের মতো স্যার পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার বলেই মনে করি। আমার অন্তঃসত্ত্বাকালীন সময়ে স্যার একাডেমিক বিষয়ে অনেক সাহায্য করেছেন জন্যই আমার পড়াশোনা বেশ নির্ঝঞ্ঝাট ভাবে চলছে। তিনি নিজে যেচে আমাকে সাহায্য করেছেন, কারণ আমি অনেক কিছুই জানতাম না বুঝতাম না কি করতে হবে। স্যার বকা দেন না এমন না, তবে সবটাই আমাদের ভালোর জন্য। আর আজ পর্যন্ত স্যারকে কোন বিষয়ে হুমকি দিতে আমি দেখিনি।সর্বোপরি স্যারের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে সবটাই ভিত্তিহীন।

একই সেশনের শামীম হোসেন লিখেছেন, শুরু থেকে বিভাগের যে অবস্থা, যদি তন্ময় স্যার না থাকতো তাহলে ২০-২১ হয়তো এখনো ৩য় বর্ষের ১ম সেমিস্টারের ক্লাস করতো। ৯টায় ক্লাস দিলে তাদের ঘুম ভাঙ্গে না আবার ২টার পর ক্লাস দিলে ঘুম পায়। ইবিতে এমন এলিট ব্যাচ শুধু জার্নালিজমেই পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় না হয়ে এটা যদি স্কুল হতো তবে ক্লাস না করার জন্য স্যাররা এনাদের বেঞ্চের উপর কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখতো।

ফারহানা ইয়াসমিন লিখেছেন, তন্ময় স্যার যেমন আমাদের শাসন করেন তেমন স্যারই আমাদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতাও করেন। শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর রাখাকে যদি কেউ ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে দাবি করে তাহলে তাদের বিষয়ে বলার কিছু নেই। আর হ্যাঁ, এই স্যারই আমার সেই প্রেগন্যান্ট বান্ধবীরও খোঁজ রাখছেন, যেন তার ইয়ার ড্রপ না যায়।

 

শু/সবা