12:07 pm, Tuesday, 28 April 2026

যুদ্ধের মধ্যে টয়লেট নিয়ে নাজেহাল দশা মার্কিন রণতরিতে

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এখন এক অদ্ভুত সংকটে পড়েছে। যুদ্ধ বা সামরিক কৌশল নয়, বরং জাহাজটির পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার ত্রুটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করে একে বলা হচ্ছে ‘টয়লেট যুদ্ধ’।

এনপিআর এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও সেনাসদস্য বহনকারী এই বিশাল রণতরিতে সচল টয়লেটের সংখ্যা এখন খুবই কম। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একেকজন নাবিককে শৌচাগার ব্যবহারের জন্য ৪৫ মিনিট পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

গত ১৫ জানুয়ারি এনপিআর প্রথম জানায়, জাহাজটির অত্যাধুনিক ভ্যাকুয়ামভিত্তিক বর্জ্যনিষ্কাশনব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে। মোতায়েন থাকা অবস্থায় নালাগুলো বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সিস্টেমটি এতটাই জটিল যে ডকইয়ার্ডে না ফেরা পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মেরামত সম্ভব নয়। ফলে সাগরে থাকা অবস্থায় নাবিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তবে মার্কিন নৌবাহিনী দাবি করেছে, এ সমস্যা তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি বা সামরিক সক্ষমতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তা সত্ত্বেও শৌচাগার সংকট ঘিরে নাবিকদের দুর্ভোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সেনাদের মনোবল তলানিতে

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ হিসেবে পরিচিত এই রণতরিটি কয়েক মাস সাগরে থাকার পর আবারও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে সহায়তা করতেই এর মিশনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রণতরিটির অধিনায়ক ক্যাপ্টেন ডেভিড স্কারোসি নাবিকদের পরিবারের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে মিশনের মেয়াদ দ্বিতীয়বার বাড়ানোয় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি ফিরে ব্যক্তিগত কাজ করার আশা করেছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

সাধারণত শান্তিকালীন সময়ে একটি বিমানবাহী রণতরির মিশন ছয় মাস স্থায়ী হয়। অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে বলেন, জরুরি প্রয়োজনে মিশন কিছুটা দীর্ঘায়িত করা হলেও জেরাল্ড আর ফোর্ড স্বাভাবিক সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে সাগরে রয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে ১১টি বিমানবাহী রণতরি রয়েছে। এর মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-কেও মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থানের ফলে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, জাহাজের ৬৫০টি শৌচাগার নিয়ন্ত্রণকারী বর্জ্যনিষ্কাশনব্যবস্থায় নিয়মিত ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। এমনকি প্রতিদিন গড়ে অন্তত একবার প্রকৌশলীদের ডেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে সামরিক সক্ষমতা অটুট রাখার পাশাপাশি নাবিকদের মনোবল ধরে রাখা এখন মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

eighteen + nineteen =

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

যুদ্ধের মধ্যে টয়লেট নিয়ে নাজেহাল দশা মার্কিন রণতরিতে

Update Time : ০২:০৭:১০ pm, Wednesday, ৪ মার্চ ২০২৬

মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এখন এক অদ্ভুত সংকটে পড়েছে। যুদ্ধ বা সামরিক কৌশল নয়, বরং জাহাজটির পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার ত্রুটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করে একে বলা হচ্ছে ‘টয়লেট যুদ্ধ’।

এনপিআর এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও সেনাসদস্য বহনকারী এই বিশাল রণতরিতে সচল টয়লেটের সংখ্যা এখন খুবই কম। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একেকজন নাবিককে শৌচাগার ব্যবহারের জন্য ৪৫ মিনিট পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

গত ১৫ জানুয়ারি এনপিআর প্রথম জানায়, জাহাজটির অত্যাধুনিক ভ্যাকুয়ামভিত্তিক বর্জ্যনিষ্কাশনব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে। মোতায়েন থাকা অবস্থায় নালাগুলো বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সিস্টেমটি এতটাই জটিল যে ডকইয়ার্ডে না ফেরা পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মেরামত সম্ভব নয়। ফলে সাগরে থাকা অবস্থায় নাবিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তবে মার্কিন নৌবাহিনী দাবি করেছে, এ সমস্যা তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি বা সামরিক সক্ষমতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তা সত্ত্বেও শৌচাগার সংকট ঘিরে নাবিকদের দুর্ভোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সেনাদের মনোবল তলানিতে

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ হিসেবে পরিচিত এই রণতরিটি কয়েক মাস সাগরে থাকার পর আবারও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে সহায়তা করতেই এর মিশনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রণতরিটির অধিনায়ক ক্যাপ্টেন ডেভিড স্কারোসি নাবিকদের পরিবারের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে মিশনের মেয়াদ দ্বিতীয়বার বাড়ানোয় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি ফিরে ব্যক্তিগত কাজ করার আশা করেছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

সাধারণত শান্তিকালীন সময়ে একটি বিমানবাহী রণতরির মিশন ছয় মাস স্থায়ী হয়। অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে বলেন, জরুরি প্রয়োজনে মিশন কিছুটা দীর্ঘায়িত করা হলেও জেরাল্ড আর ফোর্ড স্বাভাবিক সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে সাগরে রয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে ১১টি বিমানবাহী রণতরি রয়েছে। এর মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-কেও মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থানের ফলে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, জাহাজের ৬৫০টি শৌচাগার নিয়ন্ত্রণকারী বর্জ্যনিষ্কাশনব্যবস্থায় নিয়মিত ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। এমনকি প্রতিদিন গড়ে অন্তত একবার প্রকৌশলীদের ডেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে সামরিক সক্ষমতা অটুট রাখার পাশাপাশি নাবিকদের মনোবল ধরে রাখা এখন মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শু/সবা