5:09 am, Tuesday, 28 April 2026

১৫ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার: প্রধানমন্ত্রী

বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় সংসদে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে-বিদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ (ফ্রিজিং) করা হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)।

প্রধানমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বছরে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, পাচার হওয়া এই অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

অর্থপাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন।

এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। বাকি সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে চিহ্নিত ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এসব মামলার অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর নেতৃত্বে পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

2 × 3 =

About Author Information

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

১৫ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৭:৪১:৫২ pm, Wednesday, ১ এপ্রিল ২০২৬

বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় সংসদে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে-বিদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ (ফ্রিজিং) করা হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)।

প্রধানমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বছরে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, পাচার হওয়া এই অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

অর্থপাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন।

এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। বাকি সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে চিহ্নিত ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এসব মামলার অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর নেতৃত্বে পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

শু/সবা