ইরানে সামরিক অভিযানের লক্ষ্য প্রায় অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং এই অভিযান এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে “অত্যন্ত কঠোর” হামলা চালিয়ে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করা হবে।
স্থানীয় সময় বুধবার (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে) জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রায় ২০ মিনিটের টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের নৌবাহিনী, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে “ধ্বংসস্তুপে পরিণত” করেছে। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে একযোগে হামলা চালানো হবে। তবে এখনো ইরানের তেল খাতে সরাসরি আঘাত হানা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে সাহস দেখিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের হামলার কারণে প্রণালীটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
ভাষণের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলার থাকলেও ভাষণের পর তা বেড়ে ১০৫ ডলারে পৌঁছায়, যা বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দাবি “ভিত্তিহীন ও মিথ্যা” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম বড় নীতিগত ভুল হিসেবে বিবেচিত হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, “অপারেশন এপিক ফিউরি” শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ১২ হাজার ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ট্রাম্পের বিজয় দাবি সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
একটি জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে, এমনকি ট্রাম্পের লক্ষ্য পূরণ না হলেও। জরিপে ৬০ শতাংশ মানুষ ইরানে সামরিক হামলার বিরোধিতা করেছেন।
























