রংপুর অঞ্চলে কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদনে লেগেছে সুবাতাস » দৈনিক সবুজ বাংলা
০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুর অঞ্চলে কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদনে লেগেছে সুবাতাস

এক সময়ের মঙ্গা কবলিত রংপুর অঞ্চলে কৃষিতে লেগেছে নতুন সুবাতাস। সেই সুবাতাসে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন কৃষকরা। আনন্দে জমিতে চাষ করছেন নানা ধরনের ফসল। প্রতিবছরই কৃষি অফিসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফসল উৎপাদন করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে এসব ফসল। এতে একটি ফসলে লোকসান হলেও অন্য ফসল দিয়ে তা পুষিয়ে নিতে পারছেন কৃষকরা।

রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলা নিয়ে গঠিত রংপুর কৃষি অঞ্চল। বর্তমানে এখানে চলছে বোরো মৌসুমের ব্যস্ত সময়। চলতি মৌসুমে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৪ হেক্টর জমি। সেখানে চাষ হয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার ১৯৪ হেক্টরে।

এ বছর আলুতে কিছুটা লোকসান হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু চাষ হয়েছে। আলুর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৭০০ হেক্টর, আর চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টরে। গত বছরও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার হেক্টরে আলু চাষ হয়েছিল।

রংপুর অঞ্চলে ভুট্টা চাষও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর, সেখানে চাষ হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ২৩০ হেক্টরে। একইভাবে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৯৩১ হেক্টর, আর চাষ হয়েছে ১২ হাজার ১০৪ হেক্টরে।

শাকসবজি উৎপাদনেও এগিয়ে রয়েছে এ অঞ্চল। চলতি বছর শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ১৩০ হেক্টর, সেখানে চাষ হয়েছে ৪৪ হাজার ৩০৯ হেক্টরে। উৎপাদিত এসব শাকসবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দেখা যায় সারিবদ্ধ ট্রাকে এসব সবজি পরিবহন করা হচ্ছে।

প্রায় হারিয়ে যাওয়া ফসল তিল চাষেও নতুন করে আগ্রহ দেখা গেছে কৃষকদের মধ্যে। তিল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২৬ হেক্টর, সেখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে।

কৃষিবিদরা বলছেন, রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা বছরে ৩ থেকে ৪টি ফসল আবাদ করছেন। ফলে একটি ফসলে ক্ষতি হলেও অন্য ফসল দিয়ে তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে আলুর মতো ক্ষতির পুনরাবৃত্তি হলে কৃষকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুর ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগের নিয়মিত মনিটরিং ও সহযোগিতার কারণে কৃষকরা উৎসাহিত হয়েছেন। এ কারণেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় শিক্ষার্থীসহ ৪ খুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন ভাগনেসহ ৩ জন আটক

রংপুর অঞ্চলে কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদনে লেগেছে সুবাতাস

আপডেট সময় : ০৫:১৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

এক সময়ের মঙ্গা কবলিত রংপুর অঞ্চলে কৃষিতে লেগেছে নতুন সুবাতাস। সেই সুবাতাসে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন কৃষকরা। আনন্দে জমিতে চাষ করছেন নানা ধরনের ফসল। প্রতিবছরই কৃষি অফিসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফসল উৎপাদন করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে এসব ফসল। এতে একটি ফসলে লোকসান হলেও অন্য ফসল দিয়ে তা পুষিয়ে নিতে পারছেন কৃষকরা।

রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলা নিয়ে গঠিত রংপুর কৃষি অঞ্চল। বর্তমানে এখানে চলছে বোরো মৌসুমের ব্যস্ত সময়। চলতি মৌসুমে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৪ হেক্টর জমি। সেখানে চাষ হয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার ১৯৪ হেক্টরে।

এ বছর আলুতে কিছুটা লোকসান হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু চাষ হয়েছে। আলুর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৭০০ হেক্টর, আর চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টরে। গত বছরও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার হেক্টরে আলু চাষ হয়েছিল।

রংপুর অঞ্চলে ভুট্টা চাষও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর, সেখানে চাষ হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ২৩০ হেক্টরে। একইভাবে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৯৩১ হেক্টর, আর চাষ হয়েছে ১২ হাজার ১০৪ হেক্টরে।

শাকসবজি উৎপাদনেও এগিয়ে রয়েছে এ অঞ্চল। চলতি বছর শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ১৩০ হেক্টর, সেখানে চাষ হয়েছে ৪৪ হাজার ৩০৯ হেক্টরে। উৎপাদিত এসব শাকসবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দেখা যায় সারিবদ্ধ ট্রাকে এসব সবজি পরিবহন করা হচ্ছে।

প্রায় হারিয়ে যাওয়া ফসল তিল চাষেও নতুন করে আগ্রহ দেখা গেছে কৃষকদের মধ্যে। তিল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২৬ হেক্টর, সেখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে।

কৃষিবিদরা বলছেন, রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা বছরে ৩ থেকে ৪টি ফসল আবাদ করছেন। ফলে একটি ফসলে ক্ষতি হলেও অন্য ফসল দিয়ে তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে আলুর মতো ক্ষতির পুনরাবৃত্তি হলে কৃষকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুর ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগের নিয়মিত মনিটরিং ও সহযোগিতার কারণে কৃষকরা উৎসাহিত হয়েছেন। এ কারণেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

শু/সবা