মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। গত ১৬ মাসে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা UNHCR।
বুধবার প্রকাশিত ইউএনএইচসিআরের মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রবেশ করা এক লাখ ৪৯ হাজার ৭৬৯ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে গত এপ্রিল মাসে নতুন আগত হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ হাজার ৭৮০ জন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে মোট ১১ লাখ ৯৪ হাজার ১২৩ জন রোহিঙ্গার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ নারী ও শিশু। এছাড়া মোট শরণার্থীর ১২ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিরাপত্তার সন্ধানে অনেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন।
সংস্থার তথ্যমতে, গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৪ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন করেছে ইউএনএইচসিআর, যারা ১৯৯০ সাল এবং ২০১৭ সালের পর বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৬৯১ জন ১৯৯০ সালের পর এবং ১০ লাখ ৪ হাজার ৬৬৩ জন ২০১৭ সালের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাখাইন রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে নতুন শরণার্থীদের একটি বড় ঢেউ শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন আগতদের বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নাম রোহিঙ্গা। যারা দশকের পর দশক ধরে নিপীড়নের শিকার। ২০১৭ সালের আগস্টে সামরিক বাহিনীর সহিংসতার মুখে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার ক্যাম্পে এবং ভাসানচরে বসবাস করছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শরণার্থী সংকট।
শু/সবা
কক্সবাজার প্রতিনিধি 



















