১২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিএনপি ও সমমনা দলের রাজনৈতিক অস্থিরতায় খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পে ধস

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বিএনপি ও সমমনা দলের হরতাল ও অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতে। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে সাজেকগামী পরিবহন সেক্টরগুলো। দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটক শূন্য হয়ে আছে জেলার সবকটি পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড় কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছে ব্যবসায়ীরা। ফাঁকা রয়েছে হোটেল-মোটেলগুলো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খাগড়াছড়ির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র আলুটিলা ও হর্টিকালচার পার্ক একদম পর্যটক শূন্য। পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেকও। প্রকৃতি পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকলেও চারদিকে সুনসান নীরবতা।
এতে একদিকে যেমন মৌসুম শুরুতে পর্যটক হারাচ্ছে তেমনি আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে পর্যটক সংশ্লিষ্টদের। তাদের দাবি পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করতে পর্যটকদের চলাচলে হরতাল অবরোধমুক্ত রাখা। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে প্রশাসনের সহযোগিতা থাকবে।
খাগড়াছড়ির সবত্রই ছড়িয়ে রয়েছে নয়নাভিরাম হাজারো দৃষ্টনন্দন দৃশ্য। উঁচু-নিচু ঢেউ খেলানো অসংখ্য পাহাড়, সর্পিল রাস্তা, সবুজের সমাবেশের মধ্যদিয়ে গড়ে উঠেছে এখানকার বিভিন্ন বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র। যার সৌন্দর্য উপভোগ করতে সারা বছরই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে এ জেলায়। প্রতি বছর এ সময় খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পর্টগুলো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকতো। কিন্তু বিএনপিসহ বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে পর্যটক শূন্য হয়ে আছে জেলার রিচাং ঝর্ণা, জেলা পরিষদ পার্কসহ সবক’টি পর্যটন বিনোদন কেন্দ্র। চারিদিকে এখন যেন সুনসান নিরবতা। পর্যটন বিনোদন কেন্দ্রেগুলোতে নেই কোন পর্যটক।

এদিকে হরতাল অবরোধের কারণে বেকার সময় পার করছেন বিনোদন কেন্দ্রের দায়িত্বপালনকারীরা। পর্যটক না আসায় চাকা ঘুরছেনা পরিবহনের। পর্যটক মৌসুমে পর্যটক না থাকায় হতাশ পর্যটকবাহী পরিবহন চালক-শ্রমিকরা। লোকসানের পাশাপাশি হরতাল-অবরোধে পর্যটক চলাচলে সহায়তা চান তারা।
সাজেকের জীপ চালক মো. কিবরিয়া বলেন, আগে প্রতিদিনই তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা আয় করেছি। কিন্তু, হরতাল ও অবরোধের কারণে পর্যটক না আসায় গেলো ১৫ দিন ধরে গাড়ি চালাতে পারছিনা। হরতাল-অবরোধে আমাদেরকে একদম শেষ করে দিয়েছে। পর্যটকদের অবরোধের আওতামুক্ত রাখার দাবী জানান তিনি।

খাগড়াছড়ি হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা পর্যটন শিল্পকে হরতাল অবরোধমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আর্থিক লোকসান গুনছেন পর্যটন খাত নির্ভর ব্যবসায়ীরা। কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে পারছে না অনেক হোটেল মালিক। পর্যটক নির্ভর যানবাহনের চালক ও মালিকরাও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এব্যাপারে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মুক্তাধর বলেন,
সম্মিলিতভাবে জনগণকে সচেতন করতে এগিয়ে আসলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা করা হবে। প্রয়োজনে জেলার বাইরেও সমন্বয় করে সার্বিক ব্যবস্থার নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে দেশে দ্রুত রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান হয়ে পর্যটন খাত নতুন রুপ ফিরে পাবে এমনটাই প্রত্যাশা খাগড়াছড়ি বাসীর।

অব্যাহত অভিযানেও চলছে অবৈধ ক্লিনিক হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

বিএনপি ও সমমনা দলের রাজনৈতিক অস্থিরতায় খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পে ধস

আপডেট সময় : ০৭:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বিএনপি ও সমমনা দলের হরতাল ও অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতে। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে সাজেকগামী পরিবহন সেক্টরগুলো। দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটক শূন্য হয়ে আছে জেলার সবকটি পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড় কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছে ব্যবসায়ীরা। ফাঁকা রয়েছে হোটেল-মোটেলগুলো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খাগড়াছড়ির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র আলুটিলা ও হর্টিকালচার পার্ক একদম পর্যটক শূন্য। পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেকও। প্রকৃতি পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকলেও চারদিকে সুনসান নীরবতা।
এতে একদিকে যেমন মৌসুম শুরুতে পর্যটক হারাচ্ছে তেমনি আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে পর্যটক সংশ্লিষ্টদের। তাদের দাবি পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করতে পর্যটকদের চলাচলে হরতাল অবরোধমুক্ত রাখা। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে প্রশাসনের সহযোগিতা থাকবে।
খাগড়াছড়ির সবত্রই ছড়িয়ে রয়েছে নয়নাভিরাম হাজারো দৃষ্টনন্দন দৃশ্য। উঁচু-নিচু ঢেউ খেলানো অসংখ্য পাহাড়, সর্পিল রাস্তা, সবুজের সমাবেশের মধ্যদিয়ে গড়ে উঠেছে এখানকার বিভিন্ন বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র। যার সৌন্দর্য উপভোগ করতে সারা বছরই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে এ জেলায়। প্রতি বছর এ সময় খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পর্টগুলো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকতো। কিন্তু বিএনপিসহ বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে পর্যটক শূন্য হয়ে আছে জেলার রিচাং ঝর্ণা, জেলা পরিষদ পার্কসহ সবক’টি পর্যটন বিনোদন কেন্দ্র। চারিদিকে এখন যেন সুনসান নিরবতা। পর্যটন বিনোদন কেন্দ্রেগুলোতে নেই কোন পর্যটক।

এদিকে হরতাল অবরোধের কারণে বেকার সময় পার করছেন বিনোদন কেন্দ্রের দায়িত্বপালনকারীরা। পর্যটক না আসায় চাকা ঘুরছেনা পরিবহনের। পর্যটক মৌসুমে পর্যটক না থাকায় হতাশ পর্যটকবাহী পরিবহন চালক-শ্রমিকরা। লোকসানের পাশাপাশি হরতাল-অবরোধে পর্যটক চলাচলে সহায়তা চান তারা।
সাজেকের জীপ চালক মো. কিবরিয়া বলেন, আগে প্রতিদিনই তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা আয় করেছি। কিন্তু, হরতাল ও অবরোধের কারণে পর্যটক না আসায় গেলো ১৫ দিন ধরে গাড়ি চালাতে পারছিনা। হরতাল-অবরোধে আমাদেরকে একদম শেষ করে দিয়েছে। পর্যটকদের অবরোধের আওতামুক্ত রাখার দাবী জানান তিনি।

খাগড়াছড়ি হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা পর্যটন শিল্পকে হরতাল অবরোধমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আর্থিক লোকসান গুনছেন পর্যটন খাত নির্ভর ব্যবসায়ীরা। কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে পারছে না অনেক হোটেল মালিক। পর্যটক নির্ভর যানবাহনের চালক ও মালিকরাও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এব্যাপারে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মুক্তাধর বলেন,
সম্মিলিতভাবে জনগণকে সচেতন করতে এগিয়ে আসলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা করা হবে। প্রয়োজনে জেলার বাইরেও সমন্বয় করে সার্বিক ব্যবস্থার নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে দেশে দ্রুত রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান হয়ে পর্যটন খাত নতুন রুপ ফিরে পাবে এমনটাই প্রত্যাশা খাগড়াছড়ি বাসীর।