০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নড়াইলে অসম প্রেমের জেরে কিশোরের হাত-পায়ের রগ কাটার অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইল সদর উপজেলায় মো. আরিয়ান মোল্লা (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর হাত ও পায়ের রগ কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এস এম পলাশসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবাইদুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আরিয়ানের দাদি মাসুমা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলায় আসামিরা হলেন – জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলুর দেহরক্ষী তুষার শেখ (৩৫), রয়েল শেখ (৩২), শিবশংকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রোমানা পারভিন কেয়া (৩৮), কেয়ার বাড়ি গৃহপরিচারিকা নিশি (৩০), আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম পলাশ (৪২), কেয়ার ছেলে মোস্তাইন হাবিব এলহান (২০)।

আরিয়ান অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার দুপুরের পর দাদী ডেকে বলেন, আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম পলাশ বাড়িতে আসছেন, তিনি কথা বলবেন। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে তুষার শেখ ও রয়েল শেখ বাড়ির মধ্যে থেকে টেনে হিঁচড়ে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয় আমাকে। এরপর গাড়ি থেকে নামিয়ে কাড়ার বিলের মধ্যে ঘেরের পাড়ে নিয়ে যায় তারা। সেখানে তুষার, রয়েল, এলান তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেয় এবং কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায়। আহত অবস্থায় ভ্যানে করে একা সদর হাসপাতালে পৌঁছান বলে জানান তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্কুলছাত্র আরিয়ানের সঙ্গে শিবশংকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আরিয়ানের পারিবারিক অবস্থা তার প্রেমিকার পারিবারিক অবস্থার থেকে খারাপ হওয়ায় প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মেয়ের পরিবার। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। এর সূত্র ধরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আরিয়ানের পরিবার।

অপর একটি সূত্র থেকে জানা যায়, আরিয়ানের সাথে ওই ছাত্রীর কোন সম্পর্ক ছিলোনা, বিভিন্ন সময়ে আরিয়ান ওই ছাত্রীকে উত্তাক্ত করতো। তাকে একাধিকবার এর থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হলেও সে শোনে নি।

নড়াইল পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল হক বলেন, ‘কোনো ধরণের অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে পারতো। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নিয়ে এটার সমাধান করা যেত। আমার ওয়ার্ড থেকে এভাবে দিনে দুপুরে একটা ছেলেকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাত পায়ের রগ কেটে দেয়া, এটা কোনো সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই সম্পৃক্ত থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

আউড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম পলাশ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই ছেলের পরিবার আমার চেম্বারে (আদালতের চেম্বার) এসে আমাকে ওই ছাত্রীর পরবিারের সাথে কথা বলার জন্য যেতে বলে। আমি না গিয়ে ওদের যেয়ে কথা বলতে বলেছি। না যাওয়ার কারণে হয়তো আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছে। তবে অন্য অভিযুক্তদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক স্বপ্নীল শিকদার নীল বলেন, হামলার শিকার কিশোর জেলা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন হয়ে এলে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবে সে। তাকে যারা এভাবে আহত করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

সদর থানার ওসি ওবাইদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নাম্বার – ১১ এবং এ মামলায় আসামি ৬ জন। অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুতই তাদেরকে থানায় হাজির করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

নড়াইলে অসম প্রেমের জেরে কিশোরের হাত-পায়ের রগ কাটার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৪২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩

নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইল সদর উপজেলায় মো. আরিয়ান মোল্লা (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর হাত ও পায়ের রগ কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এস এম পলাশসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবাইদুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আরিয়ানের দাদি মাসুমা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলায় আসামিরা হলেন – জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলুর দেহরক্ষী তুষার শেখ (৩৫), রয়েল শেখ (৩২), শিবশংকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রোমানা পারভিন কেয়া (৩৮), কেয়ার বাড়ি গৃহপরিচারিকা নিশি (৩০), আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম পলাশ (৪২), কেয়ার ছেলে মোস্তাইন হাবিব এলহান (২০)।

আরিয়ান অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার দুপুরের পর দাদী ডেকে বলেন, আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম পলাশ বাড়িতে আসছেন, তিনি কথা বলবেন। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে তুষার শেখ ও রয়েল শেখ বাড়ির মধ্যে থেকে টেনে হিঁচড়ে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয় আমাকে। এরপর গাড়ি থেকে নামিয়ে কাড়ার বিলের মধ্যে ঘেরের পাড়ে নিয়ে যায় তারা। সেখানে তুষার, রয়েল, এলান তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেয় এবং কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায়। আহত অবস্থায় ভ্যানে করে একা সদর হাসপাতালে পৌঁছান বলে জানান তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্কুলছাত্র আরিয়ানের সঙ্গে শিবশংকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আরিয়ানের পারিবারিক অবস্থা তার প্রেমিকার পারিবারিক অবস্থার থেকে খারাপ হওয়ায় প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মেয়ের পরিবার। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। এর সূত্র ধরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আরিয়ানের পরিবার।

অপর একটি সূত্র থেকে জানা যায়, আরিয়ানের সাথে ওই ছাত্রীর কোন সম্পর্ক ছিলোনা, বিভিন্ন সময়ে আরিয়ান ওই ছাত্রীকে উত্তাক্ত করতো। তাকে একাধিকবার এর থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হলেও সে শোনে নি।

নড়াইল পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল হক বলেন, ‘কোনো ধরণের অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে পারতো। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নিয়ে এটার সমাধান করা যেত। আমার ওয়ার্ড থেকে এভাবে দিনে দুপুরে একটা ছেলেকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাত পায়ের রগ কেটে দেয়া, এটা কোনো সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই সম্পৃক্ত থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

আউড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম পলাশ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই ছেলের পরিবার আমার চেম্বারে (আদালতের চেম্বার) এসে আমাকে ওই ছাত্রীর পরবিারের সাথে কথা বলার জন্য যেতে বলে। আমি না গিয়ে ওদের যেয়ে কথা বলতে বলেছি। না যাওয়ার কারণে হয়তো আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছে। তবে অন্য অভিযুক্তদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক স্বপ্নীল শিকদার নীল বলেন, হামলার শিকার কিশোর জেলা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন হয়ে এলে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবে সে। তাকে যারা এভাবে আহত করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

সদর থানার ওসি ওবাইদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নাম্বার – ১১ এবং এ মামলায় আসামি ৬ জন। অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুতই তাদেরকে থানায় হাজির করা হবে।