০৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রাবির ভেটেরিনারি বিভাগ

বিসিএস-এ অংশগ্রহণ করাতে ছয় মাসের  ইন্টার্নশীপের পরীক্ষা ২য় মাসেই

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থীদের ৬ মাসের ইন্টার্নি কোর্সের পরীক্ষা ইন্টার্নশীপের ২ মাস শেষ না হতেই নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ‘বিসিএস’ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে বিভাগ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৬ ডিসেম্বর অনুুষ্ঠিত অ্যাকাডেমিক কমিটির এক জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তবে শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে অঙ্গিকারনামা নিয়েছে বিভাগ। যেখানে দুই মাসে পরীক্ষা নেওয়া হলেও বাকি চার মাস তাদের ইন্টার্নি চালিয়ে যেতে হবে। ততদিন পর্যন্ত তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হবে না।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অ্যাপিয়ার হিসেবে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিভাগে আবেদন করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ ডিসেম্বর বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির নিয়মিত সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। তবে সেই সভায় শেষ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারেনি কমিটি। পরে, গত ৬ ডিসেম্বর অ্যাকাডেমিক কমিটির এক জরুরী সভা আহবান করেন বিভাগের চেয়ারম্যান। সেই সভাতে এ নিয়ে আলোচনা শেষে ইন্টার্নশীপ শেষ না করেই এ মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে তাদের পরীক্ষা শেষ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কারিকুলামের অংশ হিসেবে ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের ৬ মাস ইন্টার্নি করতে হয়। এরমধ্যে ৫ মাস ইন্টার্নশীপ করে ১ মাসের বিরতী দিয়ে পরীক্ষা শেষ করতে হবে। এসময় শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে প্লেসমেন্ট করা হয়। প্রতি গ্রুপে ১৪ জন শিক্ষার্থীকে ভাগ করে বিভিন্ন জায়গায় ইন্টার্নির জন্য পাঠানো হয়। এতে তারা প্রশিক্ষকের কাছ থেকে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, রোগের প্রাদুর্ভাব রোধ এবং ক্ষেত্রবিশেষে সার্জারির কলাকৌশল হাতে-কলমে রপ্ত করার চেষ্টা করেন।
এদিকে ইন্টার্নশীপকালীন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রতি শিক্ষার্থীকে এ বাবদ প্রতি মাসে ১৫ হাজার করে টাকা প্রদান করে। এছাড়াও ইন্টার্নিতে দায়িত্বরত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষক সম্মানী বাবদ প্রতিদিন ১৫০ টাকা করে ভাতা পাবেন। সবমিলিয়ে ৬ মাসে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন দায়িত্বরত শিক্ষকগণ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মইজুর রহমান বলেন, ২ মাসে ইন্টার্নি শেষ করার বিষয়টি মিথ্যা। আমরা তাদেরকে ৬ মাসই ইন্টার্নশীপ করাবো। তবে, করোনাকালীন অবস্থার কথা বিবেচনা করে আমরা তাদের থেকে অঙ্গিকারনামা নিয়ে অ্যাপিয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা যদি অ্যাপিয়ারেন্স পেয়ে ইন্টার্নিতে গাফিলতি করে সেক্ষেত্রে একাডেমিক কমিটির জরুরী সভা ডেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিষয়টি কতটুকু যৌক্তিক এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমনটা আমিই প্রথম করছিনা। আমাদের বিভাগে এর আগেও এমনটা হয়ে এসেছে। করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এজন্য তাদের আর্থিক কষ্ট লাঘব করতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আলমগীর হোসাইন সরকার বলেন, এ বিষয়ে আমি শুনেছি। তবে বিভাগের চেয়ারম্যান আমার কাছে এখনো আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তো পরীক্ষা নেয়া ঠিক হবে না। বিসিএস কে কেন্দ্র করে শিক্ষা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা তো এক নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, এ বিষয়ে আমাকে অফিশিয়ালি কিছু জানানো হয়নি। এক্ষেত্রে আমরা শিক্ষার্থীদের যেমন ভালোটা দেখবো তেমনি আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বৈধ হলে আমরা তাদেরকে সুযোগ দিতে পারবো। অন্যথায় আমরা আইনকে উপেক্ষা করে অবৈধ পন্থায় কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারিনা।
জনপ্রিয় সংবাদ

রাবির ভেটেরিনারি বিভাগ

বিসিএস-এ অংশগ্রহণ করাতে ছয় মাসের  ইন্টার্নশীপের পরীক্ষা ২য় মাসেই

আপডেট সময় : ১১:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৩
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থীদের ৬ মাসের ইন্টার্নি কোর্সের পরীক্ষা ইন্টার্নশীপের ২ মাস শেষ না হতেই নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ‘বিসিএস’ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে বিভাগ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৬ ডিসেম্বর অনুুষ্ঠিত অ্যাকাডেমিক কমিটির এক জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তবে শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে অঙ্গিকারনামা নিয়েছে বিভাগ। যেখানে দুই মাসে পরীক্ষা নেওয়া হলেও বাকি চার মাস তাদের ইন্টার্নি চালিয়ে যেতে হবে। ততদিন পর্যন্ত তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হবে না।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অ্যাপিয়ার হিসেবে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিভাগে আবেদন করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ ডিসেম্বর বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির নিয়মিত সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। তবে সেই সভায় শেষ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারেনি কমিটি। পরে, গত ৬ ডিসেম্বর অ্যাকাডেমিক কমিটির এক জরুরী সভা আহবান করেন বিভাগের চেয়ারম্যান। সেই সভাতে এ নিয়ে আলোচনা শেষে ইন্টার্নশীপ শেষ না করেই এ মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে তাদের পরীক্ষা শেষ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কারিকুলামের অংশ হিসেবে ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের ৬ মাস ইন্টার্নি করতে হয়। এরমধ্যে ৫ মাস ইন্টার্নশীপ করে ১ মাসের বিরতী দিয়ে পরীক্ষা শেষ করতে হবে। এসময় শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে প্লেসমেন্ট করা হয়। প্রতি গ্রুপে ১৪ জন শিক্ষার্থীকে ভাগ করে বিভিন্ন জায়গায় ইন্টার্নির জন্য পাঠানো হয়। এতে তারা প্রশিক্ষকের কাছ থেকে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, রোগের প্রাদুর্ভাব রোধ এবং ক্ষেত্রবিশেষে সার্জারির কলাকৌশল হাতে-কলমে রপ্ত করার চেষ্টা করেন।
এদিকে ইন্টার্নশীপকালীন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রতি শিক্ষার্থীকে এ বাবদ প্রতি মাসে ১৫ হাজার করে টাকা প্রদান করে। এছাড়াও ইন্টার্নিতে দায়িত্বরত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষক সম্মানী বাবদ প্রতিদিন ১৫০ টাকা করে ভাতা পাবেন। সবমিলিয়ে ৬ মাসে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন দায়িত্বরত শিক্ষকগণ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মইজুর রহমান বলেন, ২ মাসে ইন্টার্নি শেষ করার বিষয়টি মিথ্যা। আমরা তাদেরকে ৬ মাসই ইন্টার্নশীপ করাবো। তবে, করোনাকালীন অবস্থার কথা বিবেচনা করে আমরা তাদের থেকে অঙ্গিকারনামা নিয়ে অ্যাপিয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা যদি অ্যাপিয়ারেন্স পেয়ে ইন্টার্নিতে গাফিলতি করে সেক্ষেত্রে একাডেমিক কমিটির জরুরী সভা ডেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিষয়টি কতটুকু যৌক্তিক এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমনটা আমিই প্রথম করছিনা। আমাদের বিভাগে এর আগেও এমনটা হয়ে এসেছে। করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এজন্য তাদের আর্থিক কষ্ট লাঘব করতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আলমগীর হোসাইন সরকার বলেন, এ বিষয়ে আমি শুনেছি। তবে বিভাগের চেয়ারম্যান আমার কাছে এখনো আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তো পরীক্ষা নেয়া ঠিক হবে না। বিসিএস কে কেন্দ্র করে শিক্ষা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা তো এক নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, এ বিষয়ে আমাকে অফিশিয়ালি কিছু জানানো হয়নি। এক্ষেত্রে আমরা শিক্ষার্থীদের যেমন ভালোটা দেখবো তেমনি আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বৈধ হলে আমরা তাদেরকে সুযোগ দিতে পারবো। অন্যথায় আমরা আইনকে উপেক্ষা করে অবৈধ পন্থায় কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারিনা।