নিউজিল্যান্ডের ডানেডিন শহর ছেড়ে নেলসন শহরের সৌন্দর্য উপভোগে ব্যস্ত বাংলাদেশ দল। উপভোগ না করারও কোনো কারণ নেই। তাসমান পাড়ের দেশটির একেকটি শহর যেন প্রকৃতির অপার মুগ্ধতায় ভরা। যার রূপ কিংবা প্রেম প্রত্যাখান করার সুযোগ নেই। প্রতিটি শহর দেখতে ভিউ কার্ডের মতো সাজানো গোছানো স্বপ্নরাজ্য। যে স্বপ্নরাজ্যে তিলকের মতো জায়গা জুড়ে আছে শান্ত-মিরাজরা। বাহিরের জগতে টাইগারদের মুখ উজ্জ্বল হলেও ভেতরে ভেতরে অস্বস্তির খবর দৃশ্যমান। তাইতো দরজায় কড়া নাড়ছে সিরিজ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ। ভোরে বাংলাদেশ সময় চারটায় কিউইদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামবে হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। ম্যাচটা হারলে আবারো আরেকটি সিরিজ হারের দুঃস্মৃতি যোগ হবে। জিততে পারলে শুধু সিরিজেই সমতা আনবে না, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো স্বাগতিকদের বিপক্ষে রঙিন পোশাকে ম্যাচ জিতবে বাংলাদেশ। এর আগে নিউজিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে কখনো ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে একটি ওয়ানডে জয় অবশ্য রয়েছে। নেলসনের স্যাক্সটন ওভালেই বাংলাদেশ ৩১৯ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতেছিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।
এবারের লড়াইটা এতটা সহজ নয় অবশ্য। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড দারুণ ফর্মে। নিয়মিত অনেক খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়ে টম লাথামের নেতৃত্বে কিউইরা মাঠে নামলেও অভিজ্ঞতার অভাব বাকিরা বুঝতে দিচ্ছেন না। ব্যাট-বলের পারফরম্যান্সের দারুণ ধারাবাহিকতা। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিরুদ্ধ কন্ডিশনে খাবি খাচ্ছে বারবার। প্রথম ওয়ানডেতে ভালো অবস্থানে থেকেও ম্যাচ নিজেদের হাত থেকে ফসকে দিয়েছে। বিশ্বকাপের আগে থেকেই ব্যর্থতার চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। কখনো পুরোপুরি ধস, কখনো ভালো শুরুর পর আটকে যাচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা। কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাও কাজে আসছে না। যা রীতিমতো উদ্বেগের।
সমাধানের পথ জানা নেই বলে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে গণমাধ্যমের কাছে উত্তর চাইলেন, ‘বিশাল উদ্বেগের (ব্যাটসম্যানদের বড় রান না করা)। আপনার কাছে যদি উত্তর (সমাধান) থাকে বলবেন, তাদেরকে আমি জানাব।’ তিনি আরো বলেন, ‘সব সময় উন্নতির কথা বলি আমরা। যেভাবে পরিকল্পনা প্রয়োগ করেছি সেটা আরো ভালো হতে পারত। বোলিংয়ে কন্ডিশন অনুযায়ী লেন্থ-লাইন মানিয়ে নিতে পারি। ব্যাটিংয়ে শুরু করে বড় রান হয়নি। আমাদের এক-দুজনকে বড় রান করতে হবে।’
ব্যাটিং ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় নমুনাই হয়ে আছে সৌম্য সরকার। কোথাও পারফর্ম না করেই নিউজিল্যান্ড সফরে সুযোগ পেয়ে যাওয়া সৌম্য যেন দলের অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন আরো। বিকল্প না থাকাতেই যে তাকে নিয়ে যেতে হয়। প্রথম ওয়ানডেতে ওপেনার এনামুলসহ চার ব্যাটসম্যান উইকেটে থিতু হওয়ার পরও বরাবরের মতো বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
বোলিংও হয়েছে ছন্নছাড়া। চার নিয়মিত বোলারের সঙ্গে সৌম্যকে দিয়ে পঞ্চম বোলারের অভাব পূরণ করতে চেয়েছিল দল। কিন্তু সিদ্ধান্ত হীতে বিপরীত হয়েছে। চারিদিকে খোলা এই মাঠে ৭ ওয়ানডেতে ৬টিতেই জিতেছে নিউজিল্যান্ড। তাদেরকে হারাতে তাই কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশকে। ওয়ানডেতে লম্বা সময় ধরেই বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলতে পারছে না। দুয়েকটি জয় আসলেও সেগুলোতে মনে ধরার মতো পারফরম্যান্স নেই। নেলসনে সব প্রশ্নের উত্তর ঠিকানা খুঁজে পায় কি না সেটাই দেখার।























