যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণ (অবজারভেশন) ওয়ার্ডটি নামমাত্র ভাবে চলছে। সেখানে নেই কোন চিকিৎসা সরঞ্জাম। জরুরি বিভাগের এক কোনে দুটি বেড বসানোর পর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শেষ। আর লাল কালি দিয়ে লেখা পর্যবেক্ষণ কক্ষের দরজা রয়েছে তালাবদ্ধ। অথচ রোগীদের চিকিৎসা সুবিধার জন্য জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড চালু করা হয়েছিলো। কর্তৃপক্ষের নির্দেশা ছিলো সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসায় রোগী সুস্থ হলে ভর্তি না করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে। কিন্তু কার্যক্রম নিয়মের মধ্যে না থাকায় রোগীরা সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে সাস্থ্য অধিদফতর থেকে এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীদের জন্য পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড তৈরির নির্দেশনা পত্র আসে। নির্দেশনা পত্রে উল্লেখ করা হয়, ,জরুরি বিভাগে আসা সব রোগীকে ভর্তি করা যাবে না। রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে দায়িত্বরত চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাকে ভর্তি করতে হবে না পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসককে অনকলে ডাকতে হবে। জরুরি বিভাগে রোগীকে কয়েক ঘন্টা পর্যবেক্ষনে রাখার পর যদি শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয় তাহলে ভর্তি না করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে। এতে ওয়ার্ডে বাড়তি রোগীর চাপ কমে যাবে। এমন নির্দেশনা পেয়ে তখনকার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুর রহিম মোড়লের নির্দেশে ২০মার্চ অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোলাম ফারুককে সভাপতি করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যরা ছিলেন সদস্য সচিব আরএমও ডা. ওয়াহিদুজ্জামান ডিটু ও সদস্য ডা. এবিএম সাইফুল আলম ও ডা. রীনা ঘোষ। গত ৫ এপ্রিল কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড কিভাবে তৈরি করা যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন দিক উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। সেই অনুযায়ী জুলাই মাসে জরুরি বিভাগে অবজারভেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হলেও কার্যক্রম ছিলো না। এদিকে, ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়ের নির্দেশে পর্যবেক্ষন ওয়ার্ডে চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা হয়। দুটি শয্যায় রোগীদের চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছিলো। কিন্তু বর্তমানে পর্যবেক্ষন ওয়ার্ডটি নামমাত্রভাবে চলছে। সূত্র জানিয়েছে, পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে রোগীদের কোন সুবিধা নেই বললেই চলে। সেখানে কর্তৃপক্ষের দেখানো ২ টি শয্যা পাতিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ কোন রোগীকে পর্যবেক্ষণেও রাখা হয়না। রোগীর চিকিৎসায় নেবুলাইজার ও ইসিজি মেশিনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নেই।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ জানান, গুরুতর নয় এমন রোগীকে পর্যবেক্ষনে রাখার জন্য দায়িত্বরতদের নির্দেশনা দেয়া আছে। এরপর নির্দিষ্ট সময়ে সুস্থ হলে প্রাথমকি চিকিৎসা প্রদান করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে। কিন্ত পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে রোগী না রাখার বিষয়টি জানা ছিলোনা। খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


























