০৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শীতের রাতে পায়ে মোজা পরে ঘুমানো ভালো নাকি খারাপ, জানুন

শীতের দাপট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাতের ঘুমেও প্রভাব পড়ছে। কম্বলের ভেতর ঢুকেও অনেকের পা ঠান্ডা হয়ে থাকে, ঘুম আসতে চায় না। তখন বাধ্য হয়েই কেউ কেউ মোজা পরে ঘুমান। আবার কারও কাছে বিষয়টি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে— মোজা না পরলে নাকি ঘুমই আসে না। অথচ ছোটবেলা থেকেই অনেকেই মা-বাবার মুখে শুনে এসেছেন, “মোজা পরে ঘুমাস না।” তখন এর কারণ বোঝার সুযোগ হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আসলেই কি মোজা পরে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, নাকি উপকারী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মোজা পরে ঘুমানো উপকারী হতে পারে। তবে নিয়মিত কিংবা ভুলভাবে এই অভ্যাস চালু থাকলে তা শরীরের জন্য ক্ষতির কারণও হতে পারে। তাই শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানোর আগে এর ভালো-মন্দ দিক জানা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন অনেক ক্ষেত্রে মোজা পরে ঘুমানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়—

১. রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে

অনেকের ধারণা, মোজা পরে ঘুমালে পায়ে রক্ত চলাচল ভালো হয়। বাস্তবে বিষয়টি সব সময় এমন নয়। বিশেষ করে যদি মোজাটি খুব টাইট হয়, তাহলে উল্টো পায়ের রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘ সময় টাইট মোজা পরে থাকলে শিরা-উপশিরায় চাপ পড়ে, যা অস্বস্তি বা ব্যথার কারণ হতে পারে। তাই পা ঠান্ডা হলে দিনের বেলায় ব্যবহৃত টাইট মোজার বদলে ঢিলেঢালা ‘বেড সক্স’ ব্যবহার করাই ভালো।

 

২. ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়

নাইলন বা সিনথেটিক কাপড়ের মোজা ত্বকের জন্য মোটেও উপযোগী নয়। এসব মোজা বাতাস চলাচলে বাধা দেয়, ফলে পায়ে ঘাম জমে যায়। এতে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর ফল হিসেবে চুলকানি, ফাঙ্গাল ইনফেকশন কিংবা দুর্গন্ধের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ঘুমানোর সময় মোজা পরতেই হলে তুলা দিয়ে তৈরি, বাতাস চলাচলযোগ্য মোজা বেছে নেওয়াই নিরাপদ।

৩. শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে

ঘুমের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনে, যা ভালো ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু মোজা পরে ঘুমালে বিশেষ করে যদি মোজাটি মোটা বা বাতাস চলাচলহীন হয়, তাহলে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। এতে ঘুম ব্যাহত হয় এবং শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিতে পারে না।

৪. আরামদায়ক ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে

টাইট বা অস্বস্তিকর মোজা পরে ঘুমালে অনেক সময় অজান্তেই ঘুম ভেঙে যায়। পায়ে চাপ লাগা, ঘাম জমা বা অস্বস্তির কারণে গভীর ঘুম ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন হলে অনিদ্রার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

৫. স্বাস্থ্যবিধির অবনতি ঘটে

দিনভর ব্যবহৃত বা অপরিষ্কার মোজা পরে ঘুমানো একেবারেই অস্বাস্থ্যকর। এতে পায়ের জীবাণু বিছানায় ছড়িয়ে পড়ে, যা দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই ঘুমানোর সময় মোজা পরতে হলে অবশ্যই পরিষ্কার মোজা ব্যবহার করা জরুরি।

চিকিৎসা গবেষণায় এমন তথ্যও পাওয়া গেছে, যেখানে বলা হয়েছে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মোজা পরে ঘুমানো উপকারী হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে শর্ত হলো, মোজাটি যেন খুব টাইট না হয়, বাতাস চলাচল করতে পারে এমন কাপড়ের হয় এবং অবশ্যই পরিষ্কার থাকতে হবে।

শীতের রাতে ঠান্ডা পা নিয়ে বিছানায় যাওয়া নিঃসন্দেহে বিরক্তিকর। তবে আরামের খোঁজে ভুল অভ্যাস গড়ে তুললে ভবিষ্যতে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই মোজা পরে ঘুমানোর আগে নিশ্চিত করুন, মোজাটি আরামদায়ক, ঢিলেঢালা ও পরিষ্কার কি না। সচেতন থাকলেই শীতের রাত কাটবে আরামদায়ক ও নিরাপদ।

এমআর/সবা

কুড়িগ্রামে ভারতীয় পণ্য আটক করেছে বিজিবি

শীতের রাতে পায়ে মোজা পরে ঘুমানো ভালো নাকি খারাপ, জানুন

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

শীতের দাপট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাতের ঘুমেও প্রভাব পড়ছে। কম্বলের ভেতর ঢুকেও অনেকের পা ঠান্ডা হয়ে থাকে, ঘুম আসতে চায় না। তখন বাধ্য হয়েই কেউ কেউ মোজা পরে ঘুমান। আবার কারও কাছে বিষয়টি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে— মোজা না পরলে নাকি ঘুমই আসে না। অথচ ছোটবেলা থেকেই অনেকেই মা-বাবার মুখে শুনে এসেছেন, “মোজা পরে ঘুমাস না।” তখন এর কারণ বোঝার সুযোগ হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আসলেই কি মোজা পরে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, নাকি উপকারী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মোজা পরে ঘুমানো উপকারী হতে পারে। তবে নিয়মিত কিংবা ভুলভাবে এই অভ্যাস চালু থাকলে তা শরীরের জন্য ক্ষতির কারণও হতে পারে। তাই শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানোর আগে এর ভালো-মন্দ দিক জানা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন অনেক ক্ষেত্রে মোজা পরে ঘুমানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়—

১. রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে

অনেকের ধারণা, মোজা পরে ঘুমালে পায়ে রক্ত চলাচল ভালো হয়। বাস্তবে বিষয়টি সব সময় এমন নয়। বিশেষ করে যদি মোজাটি খুব টাইট হয়, তাহলে উল্টো পায়ের রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘ সময় টাইট মোজা পরে থাকলে শিরা-উপশিরায় চাপ পড়ে, যা অস্বস্তি বা ব্যথার কারণ হতে পারে। তাই পা ঠান্ডা হলে দিনের বেলায় ব্যবহৃত টাইট মোজার বদলে ঢিলেঢালা ‘বেড সক্স’ ব্যবহার করাই ভালো।

 

২. ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়

নাইলন বা সিনথেটিক কাপড়ের মোজা ত্বকের জন্য মোটেও উপযোগী নয়। এসব মোজা বাতাস চলাচলে বাধা দেয়, ফলে পায়ে ঘাম জমে যায়। এতে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর ফল হিসেবে চুলকানি, ফাঙ্গাল ইনফেকশন কিংবা দুর্গন্ধের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ঘুমানোর সময় মোজা পরতেই হলে তুলা দিয়ে তৈরি, বাতাস চলাচলযোগ্য মোজা বেছে নেওয়াই নিরাপদ।

৩. শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে

ঘুমের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনে, যা ভালো ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু মোজা পরে ঘুমালে বিশেষ করে যদি মোজাটি মোটা বা বাতাস চলাচলহীন হয়, তাহলে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। এতে ঘুম ব্যাহত হয় এবং শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিতে পারে না।

৪. আরামদায়ক ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে

টাইট বা অস্বস্তিকর মোজা পরে ঘুমালে অনেক সময় অজান্তেই ঘুম ভেঙে যায়। পায়ে চাপ লাগা, ঘাম জমা বা অস্বস্তির কারণে গভীর ঘুম ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন হলে অনিদ্রার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

৫. স্বাস্থ্যবিধির অবনতি ঘটে

দিনভর ব্যবহৃত বা অপরিষ্কার মোজা পরে ঘুমানো একেবারেই অস্বাস্থ্যকর। এতে পায়ের জীবাণু বিছানায় ছড়িয়ে পড়ে, যা দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই ঘুমানোর সময় মোজা পরতে হলে অবশ্যই পরিষ্কার মোজা ব্যবহার করা জরুরি।

চিকিৎসা গবেষণায় এমন তথ্যও পাওয়া গেছে, যেখানে বলা হয়েছে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মোজা পরে ঘুমানো উপকারী হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে শর্ত হলো, মোজাটি যেন খুব টাইট না হয়, বাতাস চলাচল করতে পারে এমন কাপড়ের হয় এবং অবশ্যই পরিষ্কার থাকতে হবে।

শীতের রাতে ঠান্ডা পা নিয়ে বিছানায় যাওয়া নিঃসন্দেহে বিরক্তিকর। তবে আরামের খোঁজে ভুল অভ্যাস গড়ে তুললে ভবিষ্যতে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই মোজা পরে ঘুমানোর আগে নিশ্চিত করুন, মোজাটি আরামদায়ক, ঢিলেঢালা ও পরিষ্কার কি না। সচেতন থাকলেই শীতের রাত কাটবে আরামদায়ক ও নিরাপদ।

এমআর/সবা