১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, বারোজন শিক্ষার্থী সহ তিন জন কর্মকর্তা শহিদ হন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তরের কর্মচারী মোহাম্মদ হোসেনকে বীরপ্রতীক খেতাব দেয়া হয়। এই মানুষগুলোর অবদান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কখনো স্মরণ করেনা।
এই মানুষগুলোর স্মরণে ২০০৯ সালে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয় যা বেশিরভাগ সময় ঢেকে থাকে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন ও নানা ধরনের অনুষ্ঠানের ব্যানারে। বিজয় দিবস উপলক্ষে চবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিষ্কার এবং সাজানো হলেও কারো মনোযোগ নেই এই স্মৃতিস্তম্ভের দিকে। স্মৃতিস্তম্ভটি অন্য দিনের মত বিজয়ের মাসেও ঢেকে রয়েছে বিভিন্ন সংগঠন বা অনুষ্ঠানের ব্যানারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে লাখ লাখ টাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে, কত টাকা কতদিকে অপচয় হচ্ছে কিন্তু এই স্মৃতিস্তম্ভটি মেরামতে সামান্য টাকা খরচ করার প্রয়োজন মনে করেন না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
স্মৃতিস্তম্ভটিতে লেখা আছে “আমাদের আত্মত্যাগ তোমাদের জন্য” কিন্তু আমরা কি আসলেই তাদের এই আত্মত্যাগের যোগ্য?
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক নুরুল আজিম শিকদারে সাথে কথা বললে তিনি সবুজ বাংলাকে বলেন, অঙ্গ সংগঠনের ব্যানার গুলো আমাদের থেকে অনুমতি না নিয়ে ঝুলিয়েছে।তবে যারা এই ধরনের কাজ করেছে তাদের সাথে কথা বলবো। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের দায়িত্বে যারা আছে তাদেরকে আমি বলে দিব অতিদ্রুত যেন পরিষ্কার করে দেয়।
বিজয়ের এই মাসে স্মরণ করছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সন্তানদের। যারা হলেন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতরের চেইনম্যান বীরপ্রতীক মোহাম্মদ হোসেন, দর্শন বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক অবনী মোহন দত্ত, চাকসুর সাধারণ সম্পাদক ইতিহাস বিভাগের ছাত্র আবদুর রব, উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রভাস কুমার বড়ুয়া, বাংলা বিভাগের ছাত্র মনিরুল ইসলাম খোকা, মোহাম্মদ হোসেন ও মোস্তফা কামাল, অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র নাজিম উদ্দিন খান ও আবদুল মান্নান, ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ফরহাদ উদ-দৌলা, বাণিজ্য অনুষদের ছাত্র খন্দকার এহসানুল হক আনসারি, ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আশুতোষ চক্রবর্তী, সমাজতত্ত্ব বিভাগের ছাত্র ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আবুল মনসুর, গণিত বিভাগের ছাত্র ভুবন
ও আলাওল হলের প্রহরী সৈয়দ আহমদ।

























