কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের জেগে উঠা চরের বিস্তির্ণ এলাকা জুড়ে এবার বিভিন্ন জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। চরাঞ্চলের জমিতে বেগুন চাষ করে সফল হচ্ছে চাষীরা। চাষীরা বলছেন বেগুন ক্ষেতের দিকে তাকালে দু’চোখ জুড়িয়ে যায় ভরে যায় মন। তাই চলতি মৌসুমে বেগুন বিক্রি করে দ্বিগুন লাভের স্বপ্ন দেখছেন বেগুন চাষীরা। চলতি মৌসুমে অনুকুল আবহাওয়া থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার বেশী জমিতে বেগুন চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। এবছর বেগুনের ফলনও ভাল। দামও ভাল পাচ্ছে কৃষক। উপজেলার দুধকুমার নদের চরাঞ্চল তিলাই ইউনিয়নের খোচাবাড়ি, পাইকের ছড়া ইউনিয়নের পাইক ডাঙ্গাসহ চরাঞ্চলের চাষীরা নিজের ও অন্যরে জমি বর্গা বা ভাড়া নিয়ে লাভের আশায় ব্যাপক পরিমাণে বেগুন চাষ করেছেন। সফলতাও পাচ্ছে কৃষক।এবছর বেগুনের ফলন ও দাম দুটাই তুলনামূলকভাবে ভাল। কৃষিবিদদের মতে,দুধকুমার নদ বিধৌত চরাঞ্চলের মাটি বেগুন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রতি বছর রবি মওসুমে এই উপজেলার দুধকুমার নদের তীরবর্তী শত শত হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ হয়ে থাকে। স্বল্প সময় ও স্বল্প খরচের বেগুন চাষে অধিক টাকা আয় করে থাকেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। তাই স্থানীয় কৃষকরা বেগুন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রতিকুল অবস্ধসঢ়;হাতেও এই অঞ্চলের বেগুন উপজেলার মানুষের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌছে যাচ্ছে। চলতি বছর বন্যা কম হওয়ায় চাষিরা আগাম বেগুন চাষ করেছেন। দুধকুমার নদের চরাঞ্চলে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের বেগুন, শীতের সবজি হিসাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক কদর ও সুখ্যাতি রয়েছে। এই অঞ্চলের উৎপাদিত সাদা, কালো ও বল বেগুন দেশের চাহিদা মিটাচ্ছে। এছাড়াও বেগুন চাষ লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে বেগুন চাষীর সংখ্যা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা
গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বেগুনের বিভিন্ন জাতের মধ্যে বারি বিটি-১২ বারি বিটি-২ বারি বিটি-৪ ইসলামপুরী,শিংনাথ,খটখটিয়া ও স্ধসঢ়;হানীয় জাতের বেগুন চাষ হয়ে থাকে। চলতি বছর প্রায় ১২০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এই লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ১৩০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে বেগুন বিক্রি করে কৃষকরা দ্বিগুন লাভ করতে পারবে বলে উপজেলা কৃষি বিভাগের দাবী। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে,বর্তমান বাজার এক কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। বেগুন চাষীরা জানিয়েছে তাদের উৎপাদিত বেগুন স্ধসঢ়;হানীয় বাজারে বিক্রি করেন না। তাদের বেগুন সপ্তাহে একবার করে উঠানো হয়।সেই বেগুন ট্রাকে করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।ঢাকার ব্যাবসায়ীদের কাছে প্রতিমন বেগুন বিক্রি করেন ৮৫০ টাকা দরে। বেগুন চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৩২ শতাংশের এক বিঘা জমিতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার বেগুনের চারা রোপণ করা যায়। ফল আসতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে। এসময় পর্যন্ত সেচ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাবাবদ কৃষকদের খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মতো। আবহাওয়া ও জমির উর্বরতা ভালো হলে টানা তিন মাস প্রতি সপ্তাহে থেকে ৪০ থেকে ৪৫ মণ বেগুন তুলে বিক্রি করতে পারেন কৃষকরা। গড় হিসাবে এ তিন মাসে বিঘা প্রতি উৎপাদন হয়ে থাকে প্রায় ৪ শ থেকে ৪শ ৫০ মন বেগুন। পাইকারি গড় হিসাবে ১৫ টাকার দরে বাজার মূল্যে দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এতে কৃষকের খরচ বাদে লাভ হয় প্রচুর। উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক জানে আলম বলেন আমার নিজের জায়গা জমি নাই। তাই আমি দুধকুমার নদের খোচাবাড়ি চরের ৬ বিঘা জমি কন্ট্রাক নিয়ে বেগুন চাষ করেছি, প্রতি বিঘা জমিতে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো।এযাবত আমি বেগুন বিক্রি করেছি প্রায় ৮০ হাজার টাকার মতো। কম খরচে বেশী লাভ হওয়ায় এবছর আমি গত বছরের চেয়ে বেশি জমিতে বেগুন চাষ করেছি। তিনি আরো বলেন, বেগুন চাষে আরও লাভ বেশী হতো । আমাদেরকে সঠিক সময়ে যদি বিএসরা (উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা) সঠিক পরামর্শ দিতো। তারা আমাদের কোন খোঁজ-খবরই রাখেন না। ফোন করেও তাদেরকে পাইনা। আমরা গ্রামের মানুষ চাষাবাদ করেই সংসার চালাই।তাদের সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলেআমরা আরো লাভবান হতাম?
উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার মজিবর মিজানুর ও পাইকের ছড়া ইউনিয়নের কৃষক রবিউল বলেন, ‘সত্যি বলতে আমরা কৃষক মানুষ। এই যে আমরা আমাদের জমিতে বেগুন গাছের চারা লাগিয়েছি, এটাকে আমরা চারা গাছ মনে করি না , মনে করি টাকার গাছ। আশা করছি গত বছরের চেয়ে এবছর আরো ভালো ফলন হবে। তাই দিন রাত রোদে পুড়ে পরিশ্রম করে যাচ্ছি অধিক লাভের আশায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘চলতি বছর এই অঞ্চলে বন্যা কম হওয়ায় কৃষকদের আমরা পরামর্শ দিয়েছি বেগুন চাষে। তাই তারা আমাদের পরামর্শে আগাম বেগুন চাষে মাঠে নেমেছেন। এ উপজেলায় বারি-১২ বারি-২ ও বারি ৪ সহ স্ধসঢ়;হানীয় জাতের বেগুন বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে। এছাড়াও বোম্বাই বেগুন, লম্বা বেগুন ও বাগলতি (ফম বেগুন) বেগুন নামে আরও তিন জাতের বেগুনের চারা রোপন করা হয়েছে। এই উপজেলার মাটি পলি দো-আঁশ হওয়ায় এখানে বেগুন চাষ বেশি হয়। আমরাও কৃষকদের বেগুন চাষে উদ্বুদ্ধ করেছি ও বেগুন চাষের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।যাতে এই অঞ্চলে আরো বেশী বেশী বেগুন চাষে আগ্রহী হয় কৃষক। তবে উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে না পাওয়া যাওয়ার কৃষকদের অভিযোগের বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবী করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।


























