০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাহাজ বাড়া বৃদ্ধি পেলে আমদানি – রপ্তানি খরচ বাড়ার শংকা 

ইউরোপ আমেরিকাসহ সমুদ্র পথে পণ্য আমদানি রপ্তানি খরচ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ার প্রবণতায় এই আশংকা প্রকট হয়ে উঠেছে ব্যবসায়ি মহলে। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে বিদ্রোহীদের হামলাসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন অপারেটর জাহাজ ভাড়া বাড়াতে শুরু করেছে। শতাধিক কন্টেইনার জাহাজ রুট পরিবর্তন করে তাদের গন্তব্যে পৌঁছছে। চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনে শুধুমাত্র একটি লাইন ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও অপারেটরেরা এখনো ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়নি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেক লাইনে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তৈরি পোশাকসহ নানা আমদানি রপ্তানি পণ্য নিয়ে চলাচলকারী সমুদ্রগামী জাহাজসমূহ লোহিত সাগর হয়ে চলাচল করে। চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে জাহাজ সিংগাপুর, কলম্বো কিংবা মালয়েশিয়া গিয়ে মাদার ভ্যাসেলে তুলে দেয়া হয়। মাদার ভ্যাসেল লোহিত সাগর হয়ে ইউরোপ, কানাডা, আমেরিকা ও ল্যাতিন আমেরিকার দেশসহ নানাদেশে পণ্য নিয়ে যাতায়াত করে। একইভাবে আমদানি পণ্যও একইপথ ধরে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা কলম্বো বন্দরে আসার পর  এসব পণ্য ফিডার ভ্যাসেলে চট্টগ্রাম বন্দর বা মংলা বন্দরে পৌঁছে। বাংলাদেশসহ  ইউরোপ, কানাডা এবং আমেরিকা অঞ্চলে পণ্য রপ্তানিতে সহজ এবং সাশ্রয়ী পথ হচ্ছে লোহিত সাগর বা রেড–সি অতিক্রম করে। কিন্তু ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটছেে একাধিকবার।এই হামলার জন্য পরস্পর বিরোধী প্রচারণা থাকলেও বিশ্বের শিপিং সেক্টরে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে কোরিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশের কন্টেইনার জাহাজসহ বাণিজ্যিক জাহাজগুলো রুট পরিবর্তন করে আফ্রিকা হয়ে চলাচল শুরু করে। সুয়েজ চ্যানেল হয়ে চলাচল করতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা জাহাজগুলোকে ঘুরে ফেরার কারণে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে প্রচুর জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি সময়ও লাগছে অনেক বেশি। এর ভয়াবহ  প্রভাবে পণ্য পরিবহন খাতে খরচ বাড়ছে অস্বাভাবিক ভাবে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং অপারেটরেরা ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। জার্মানির হ্যাপাক–লয়েড আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে ভারত থেকে আমেরিকা এবং কানাডার পশ্চিম উপকূলে পণ্য পরিবহনে জেনারেল রেট ইনক্রিস (জিআরআই) এবং জেনারেল রেট এডজাস্টমেন্ট (জিআরএ) কন্টেনার প্রতি ২০০ ডলার ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে ভারত উপমহাদেশ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার পূর্বাঞ্চল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে প্রতি কন্রের জন্য দেড় হাজার ডলার ভাড়া বাড়িয়েছে। অপরদিকে ভারত উপমহাদেশ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে কানাডার পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনে দেড় হাজার ডলার করে প্রতি কন্টেইনারের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার কন্টেইনার ক্যারিয়ার এইচএমএম অবিলম্বে কার্যকরের ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে পণ্য পরিবহন খরচ প্রতি কন্টেইনারে দেড় হাজার ডলার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং লাইনগুলোর পক্ষ থেকে ভারত উপমহাদেশ থেকে পণ্য পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হলেও বাংলাদেশ থেকে ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে শুধুমাত্র একটি লাইন ঘোষণা দিয়েছে। ওয়ান লাইন নামের কন্টেইনার অপারেটর বাংলাদেশ থেকে ইউরোপগামী প্রতি কন্টেইনারের জন্য  পাঁচশত ডলার করে বাড়ানোর কথা বলে দিয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এই বাড়তি ভাড়া কার্যকর করা হবে। আগামী দু”এক দিনের মধ্যেই অন্যান্য কন্টেইনার অপারেটরেরাও একইভাবে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারে বলেও শিপিং বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিশ্বের নানাদেশে পণ্য পরিবহনে জড়িত একজন শীর্ষ কর্মকর্তা  জানান, এই বিষয়ে ইতিমধ্যে আমাদের আভাস দেয়া হয়েছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের ছুটির পরপরই ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে বলে আশংকা করেছেন এই কর্মকর্তা। শিপিং খরচ বাড়লে দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পরতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিজিএমইএর প্রথম সহ সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, কন্টইনার পরিবহন সহ শীপের ভাড়া বাড়ানোর প্রক্রিয়ার বিষয়টি শুনেছি। বহু পথ ঘুরে জাহাজ বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে। এতে জাহাজের পরিচালনা খরচ বেড়ে গেছে। তবে জাহাজ ভাড়া বাড়লে গার্মেন্টস খাত নতুন করে সংকটে পড়বে বলে মন্তব্য করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প। অনেক অর্ডার কমে গেছে। একই সাথে কমেছে রপ্তানিও। এরমধ্যে ভাড়ার খড়গ নামলে ব্যবসায়িরা বড় ধরনের বিপদে পড়তে পারে। তিনি সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূল নয় বলেও মন্তব্য করেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে আল হাবিব ইন্টা.ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাঝে বই বিতরণ

জাহাজ বাড়া বৃদ্ধি পেলে আমদানি – রপ্তানি খরচ বাড়ার শংকা 

আপডেট সময় : ০৫:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
ইউরোপ আমেরিকাসহ সমুদ্র পথে পণ্য আমদানি রপ্তানি খরচ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ার প্রবণতায় এই আশংকা প্রকট হয়ে উঠেছে ব্যবসায়ি মহলে। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে বিদ্রোহীদের হামলাসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন অপারেটর জাহাজ ভাড়া বাড়াতে শুরু করেছে। শতাধিক কন্টেইনার জাহাজ রুট পরিবর্তন করে তাদের গন্তব্যে পৌঁছছে। চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনে শুধুমাত্র একটি লাইন ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও অপারেটরেরা এখনো ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়নি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেক লাইনে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তৈরি পোশাকসহ নানা আমদানি রপ্তানি পণ্য নিয়ে চলাচলকারী সমুদ্রগামী জাহাজসমূহ লোহিত সাগর হয়ে চলাচল করে। চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে জাহাজ সিংগাপুর, কলম্বো কিংবা মালয়েশিয়া গিয়ে মাদার ভ্যাসেলে তুলে দেয়া হয়। মাদার ভ্যাসেল লোহিত সাগর হয়ে ইউরোপ, কানাডা, আমেরিকা ও ল্যাতিন আমেরিকার দেশসহ নানাদেশে পণ্য নিয়ে যাতায়াত করে। একইভাবে আমদানি পণ্যও একইপথ ধরে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা কলম্বো বন্দরে আসার পর  এসব পণ্য ফিডার ভ্যাসেলে চট্টগ্রাম বন্দর বা মংলা বন্দরে পৌঁছে। বাংলাদেশসহ  ইউরোপ, কানাডা এবং আমেরিকা অঞ্চলে পণ্য রপ্তানিতে সহজ এবং সাশ্রয়ী পথ হচ্ছে লোহিত সাগর বা রেড–সি অতিক্রম করে। কিন্তু ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটছেে একাধিকবার।এই হামলার জন্য পরস্পর বিরোধী প্রচারণা থাকলেও বিশ্বের শিপিং সেক্টরে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে কোরিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশের কন্টেইনার জাহাজসহ বাণিজ্যিক জাহাজগুলো রুট পরিবর্তন করে আফ্রিকা হয়ে চলাচল শুরু করে। সুয়েজ চ্যানেল হয়ে চলাচল করতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা জাহাজগুলোকে ঘুরে ফেরার কারণে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে প্রচুর জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি সময়ও লাগছে অনেক বেশি। এর ভয়াবহ  প্রভাবে পণ্য পরিবহন খাতে খরচ বাড়ছে অস্বাভাবিক ভাবে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং অপারেটরেরা ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। জার্মানির হ্যাপাক–লয়েড আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে ভারত থেকে আমেরিকা এবং কানাডার পশ্চিম উপকূলে পণ্য পরিবহনে জেনারেল রেট ইনক্রিস (জিআরআই) এবং জেনারেল রেট এডজাস্টমেন্ট (জিআরএ) কন্টেনার প্রতি ২০০ ডলার ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে ভারত উপমহাদেশ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার পূর্বাঞ্চল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে প্রতি কন্রের জন্য দেড় হাজার ডলার ভাড়া বাড়িয়েছে। অপরদিকে ভারত উপমহাদেশ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে কানাডার পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনে দেড় হাজার ডলার করে প্রতি কন্টেইনারের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার কন্টেইনার ক্যারিয়ার এইচএমএম অবিলম্বে কার্যকরের ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে পণ্য পরিবহন খরচ প্রতি কন্টেইনারে দেড় হাজার ডলার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং লাইনগুলোর পক্ষ থেকে ভারত উপমহাদেশ থেকে পণ্য পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হলেও বাংলাদেশ থেকে ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে শুধুমাত্র একটি লাইন ঘোষণা দিয়েছে। ওয়ান লাইন নামের কন্টেইনার অপারেটর বাংলাদেশ থেকে ইউরোপগামী প্রতি কন্টেইনারের জন্য  পাঁচশত ডলার করে বাড়ানোর কথা বলে দিয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এই বাড়তি ভাড়া কার্যকর করা হবে। আগামী দু”এক দিনের মধ্যেই অন্যান্য কন্টেইনার অপারেটরেরাও একইভাবে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারে বলেও শিপিং বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিশ্বের নানাদেশে পণ্য পরিবহনে জড়িত একজন শীর্ষ কর্মকর্তা  জানান, এই বিষয়ে ইতিমধ্যে আমাদের আভাস দেয়া হয়েছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের ছুটির পরপরই ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে বলে আশংকা করেছেন এই কর্মকর্তা। শিপিং খরচ বাড়লে দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পরতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিজিএমইএর প্রথম সহ সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, কন্টইনার পরিবহন সহ শীপের ভাড়া বাড়ানোর প্রক্রিয়ার বিষয়টি শুনেছি। বহু পথ ঘুরে জাহাজ বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে। এতে জাহাজের পরিচালনা খরচ বেড়ে গেছে। তবে জাহাজ ভাড়া বাড়লে গার্মেন্টস খাত নতুন করে সংকটে পড়বে বলে মন্তব্য করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প। অনেক অর্ডার কমে গেছে। একই সাথে কমেছে রপ্তানিও। এরমধ্যে ভাড়ার খড়গ নামলে ব্যবসায়িরা বড় ধরনের বিপদে পড়তে পারে। তিনি সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূল নয় বলেও মন্তব্য করেন।