১২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জরুরি বিভাগ ফেলে ময়নাতদন্তে চিকিৎসক! 

জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একই চিকিৎসকে যেতে হয় লাশের ময়নাতদন্ত করতে। ফলে দ্বিবিধ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও জরুরি বিভাগে আসা রোগীর স্বজনদের গালমন্দের শিকার হচ্ছেন তারা। চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে রোগী ভর্তিতে বিলম্ব হলে হট্টগোল করেন স্বজনেরা। জানা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ৬ জন চিকিৎসক নিয়মিত লাশের ময়নাতদন্তের দায়িত্ব পালন করেন। প্রত্যেককে জরুরি বিভাগের রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের ফাঁকে ময়নাতদন্তের কাজ করতে হয়। ফলে একদিকে রোগী ভর্তিতে বিলম্ব হয়; অন্যদিকে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় থাকতে হয় স্বজনদের।  সূত্র জানায়, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাশের ময়না তদন্তে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এই হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত হয় দুপুর ২টার পর। চিকিৎসকের অভাবে সময়মতো ময়নাতদন্ত হয়না। ফলে লাশ নিতে আসা স্বজনেরা ভোগান্তির শিকার হন। জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. আব্দুর রশিদ জানান, নিয়ম অনুযায়ী ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা লাশের ময়নাতদন্ত করবেন। কিন্তু এই নিয়মের কোন বালাই নেই। যশোর মেডিকেল কলেজে ফরেনসিক বিভাগ থাকা সত্তে¡ও প্রতিনিয়ত ইমাজেন্সির মেডিকেল অফিসার দিয়ে লাশের ময়নাতদন্ত করানো হচ্ছে। তিনি বলেন, জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে লাশের ময়নাতদন্ত করা সত্যিই অনেক কষ্টের। জরুরি বিভাগ মানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে সব সময় রোগীর চাপ থাকে। তবুও বাধ্য হয়ে এখানকার দায়িত্বের ফাঁকে তাদের ছুটতে হয় মর্গে ময়নাতদন্তের কাজে। এই সময়ে যদি কোন ‘সিরিয়াস’ রোগী ভর্তির জন্য আসে তাহলে বিপাকে পড়তে হয়। এমনিতেই জরুরি বিভাগে একজন চিকিৎসকের পক্ষে দায়িত্ব পালন করা কষ্টদায়ক। তারপরেও ময়নাতদন্তের বাড়তি দায়িত্ব পালনে হাপিয়ে ওঠার মতো অবস্থা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ জ্যেষ্ঠ একজন চিকিৎসক জানান, বিগত দিনে হাসপাতালের কর্মকর্তারা ময়নাতদন্ত বিভাগ বুঝে নেয়ার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সেখানে হাসপাতাল চালু না হলে তারা ময়নাতদন্তের কাজ কর্ম বুঝে নেবেন না। হাসপাতালের তথ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোর্তুজা জানান, চিকিৎসক সংকটের কারণে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকালীন চিকিৎসককে লাশের ময়নাতদন্তে যেতে হয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হওয়ার পর এই সমস্যা কেটে যাবে। তখন হাসপাতালের মর্গ মেডিকেলে চলে যাবে। আর সেখানকার ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা লাশের ময়নাতদন্ত করবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জরুরি বিভাগ ফেলে ময়নাতদন্তে চিকিৎসক! 

আপডেট সময় : ০১:১২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩

জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একই চিকিৎসকে যেতে হয় লাশের ময়নাতদন্ত করতে। ফলে দ্বিবিধ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও জরুরি বিভাগে আসা রোগীর স্বজনদের গালমন্দের শিকার হচ্ছেন তারা। চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে রোগী ভর্তিতে বিলম্ব হলে হট্টগোল করেন স্বজনেরা। জানা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ৬ জন চিকিৎসক নিয়মিত লাশের ময়নাতদন্তের দায়িত্ব পালন করেন। প্রত্যেককে জরুরি বিভাগের রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের ফাঁকে ময়নাতদন্তের কাজ করতে হয়। ফলে একদিকে রোগী ভর্তিতে বিলম্ব হয়; অন্যদিকে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় থাকতে হয় স্বজনদের।  সূত্র জানায়, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাশের ময়না তদন্তে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এই হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত হয় দুপুর ২টার পর। চিকিৎসকের অভাবে সময়মতো ময়নাতদন্ত হয়না। ফলে লাশ নিতে আসা স্বজনেরা ভোগান্তির শিকার হন। জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. আব্দুর রশিদ জানান, নিয়ম অনুযায়ী ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা লাশের ময়নাতদন্ত করবেন। কিন্তু এই নিয়মের কোন বালাই নেই। যশোর মেডিকেল কলেজে ফরেনসিক বিভাগ থাকা সত্তে¡ও প্রতিনিয়ত ইমাজেন্সির মেডিকেল অফিসার দিয়ে লাশের ময়নাতদন্ত করানো হচ্ছে। তিনি বলেন, জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে লাশের ময়নাতদন্ত করা সত্যিই অনেক কষ্টের। জরুরি বিভাগ মানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে সব সময় রোগীর চাপ থাকে। তবুও বাধ্য হয়ে এখানকার দায়িত্বের ফাঁকে তাদের ছুটতে হয় মর্গে ময়নাতদন্তের কাজে। এই সময়ে যদি কোন ‘সিরিয়াস’ রোগী ভর্তির জন্য আসে তাহলে বিপাকে পড়তে হয়। এমনিতেই জরুরি বিভাগে একজন চিকিৎসকের পক্ষে দায়িত্ব পালন করা কষ্টদায়ক। তারপরেও ময়নাতদন্তের বাড়তি দায়িত্ব পালনে হাপিয়ে ওঠার মতো অবস্থা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ জ্যেষ্ঠ একজন চিকিৎসক জানান, বিগত দিনে হাসপাতালের কর্মকর্তারা ময়নাতদন্ত বিভাগ বুঝে নেয়ার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সেখানে হাসপাতাল চালু না হলে তারা ময়নাতদন্তের কাজ কর্ম বুঝে নেবেন না। হাসপাতালের তথ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোর্তুজা জানান, চিকিৎসক সংকটের কারণে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকালীন চিকিৎসককে লাশের ময়নাতদন্তে যেতে হয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হওয়ার পর এই সমস্যা কেটে যাবে। তখন হাসপাতালের মর্গ মেডিকেলে চলে যাবে। আর সেখানকার ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা লাশের ময়নাতদন্ত করবেন।