০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে সাফল্য

যশোরের শার্শায় মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষক মমিনুর রহমান। তাকে দেখে আধুনিক পদ্ধতির চাষে অন্য কৃষকরাও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেননা  এ পদ্ধতিতে খরচ কম কিন্তু উৎপাদন বেশি। কৃষি কর্মকর্তারা বলেছেন, মালচিং পদ্ধতিটি অন্য কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করা হচ্ছে।
শার্শা উপজেলার কাঠশেকরা গ্রামের মৃত সামছের রহমানের ছেলে মমিনুর রহমান জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে ৩ বছর আগে তিনি মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেন। সেই থেকে তিনি প্রতি মৌসুমে আধুনিক এ পদ্ধতিতে হরেক রকমের সবজি চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তিনি ২ বিঘা ৬৬ শতাংশ জমিতে পটল, উচ্ছে, বেগুন, ঝিঙে ও শসার চাষ করেছেন। তিনি জানান, তার উৎপাদন খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে তিনি লক্ষাধিক টাকার শসা ও পটল বিক্রি করতে পেরেছন। বর্তমানে তার উৎপাদনের চেয়ে বেশি টাকা ওঠে গেছে। এছাড়া আরও কয়েক প্রকারের সবজি ক্ষেতে রয়েছে। মমিনুর রহমান জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষে তিনি সফলতা পেয়েছেন। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কারণে তার পরিবারেও হাসি ফুটেছে। তার সাফল্য দেখে অনেকে কৃষক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
এক প্রশ্নে মমিনুর রহমান জানান, মালচিং পদ্ধতিতে বেড তৈরি এবং রাসায়নিক ও জৈব সার একসাথে প্রয়োগ করে আবাদকৃত জমি পলিথিনের মালচিং সেড দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। ফলে অতি বৃষ্টিতেও মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয় না। শসা ও ঝিঙে রোপণের ২৫ দিনের মধ্যে ফুল আসে ও ৪৫ দিনের মধ্যে বড় হয়ে যায় এবং ৭০ দিন পর্যন্ত ভালো ফলন পাওয়া যায়।
আশিকুর রহমান নামে আরেক কৃষক জানান, মমিনুর একজন সফল চাষি। তার মালচিং পদ্ধতির চাষ তার মতো অনেক কৃষককে অবাক করেছেন। তারাও আগামতে মালচিং পদ্ধতিতে সবজির আবাদ করবেন।
এই বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ মন্ডল জানান,  মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ একটি আধুনিক চাষ পদ্ধতি। সবুজ কৃষির জন্য পদ্ধতিগুলো খুবই কার্যকর। এতে যেমন খরচ কম তেমন ফলন বেশি। ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হয়। ফলে মালচিং পদ্ধতিটি অন্য কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

যশোরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে সাফল্য

আপডেট সময় : ০১:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৪

যশোরের শার্শায় মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষক মমিনুর রহমান। তাকে দেখে আধুনিক পদ্ধতির চাষে অন্য কৃষকরাও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেননা  এ পদ্ধতিতে খরচ কম কিন্তু উৎপাদন বেশি। কৃষি কর্মকর্তারা বলেছেন, মালচিং পদ্ধতিটি অন্য কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করা হচ্ছে।
শার্শা উপজেলার কাঠশেকরা গ্রামের মৃত সামছের রহমানের ছেলে মমিনুর রহমান জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে ৩ বছর আগে তিনি মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেন। সেই থেকে তিনি প্রতি মৌসুমে আধুনিক এ পদ্ধতিতে হরেক রকমের সবজি চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তিনি ২ বিঘা ৬৬ শতাংশ জমিতে পটল, উচ্ছে, বেগুন, ঝিঙে ও শসার চাষ করেছেন। তিনি জানান, তার উৎপাদন খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে তিনি লক্ষাধিক টাকার শসা ও পটল বিক্রি করতে পেরেছন। বর্তমানে তার উৎপাদনের চেয়ে বেশি টাকা ওঠে গেছে। এছাড়া আরও কয়েক প্রকারের সবজি ক্ষেতে রয়েছে। মমিনুর রহমান জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষে তিনি সফলতা পেয়েছেন। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কারণে তার পরিবারেও হাসি ফুটেছে। তার সাফল্য দেখে অনেকে কৃষক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
এক প্রশ্নে মমিনুর রহমান জানান, মালচিং পদ্ধতিতে বেড তৈরি এবং রাসায়নিক ও জৈব সার একসাথে প্রয়োগ করে আবাদকৃত জমি পলিথিনের মালচিং সেড দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। ফলে অতি বৃষ্টিতেও মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয় না। শসা ও ঝিঙে রোপণের ২৫ দিনের মধ্যে ফুল আসে ও ৪৫ দিনের মধ্যে বড় হয়ে যায় এবং ৭০ দিন পর্যন্ত ভালো ফলন পাওয়া যায়।
আশিকুর রহমান নামে আরেক কৃষক জানান, মমিনুর একজন সফল চাষি। তার মালচিং পদ্ধতির চাষ তার মতো অনেক কৃষককে অবাক করেছেন। তারাও আগামতে মালচিং পদ্ধতিতে সবজির আবাদ করবেন।
এই বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ মন্ডল জানান,  মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ একটি আধুনিক চাষ পদ্ধতি। সবুজ কৃষির জন্য পদ্ধতিগুলো খুবই কার্যকর। এতে যেমন খরচ কম তেমন ফলন বেশি। ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হয়। ফলে মালচিং পদ্ধতিটি অন্য কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করা হচ্ছে।