আদরের সন্তান মফিজুরকে হারিয়ে পাগল প্রায় হতভাগ্য মা রেহেনা বেগম। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী জিনিয়া খাতুন। তারা বলছেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জ্যেষ্ঠ বাস চালক ছিলেন মফিজুর রহমান। বিশ্বদ্যিালয়ের পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. জাফিরুল ইসলাম ও ভাইস চ্যান্সেলরের পিএস আব্দুর রশিদসহ ৪ কর্মকর্তার অত্যাচারে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করতে বাঁধ্য হয়েছেন মফিজুর রহমান। এসব কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করে ইতোমধ্যে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন তারা। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। এখন পরিবারের একটাই দাবি, তদন্ত করে অত্যাচারী কর্মকর্তাদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। যাতে করে আর কোন কর্মচারীর তাদের রোষানলে পড়তে না হয়। মফিজুর রহমান যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে।
মফিজুরের মা রেহেনা বেগম জানান, পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. জাফিরুল ইসলাম, যানবাহন কর্মকর্তা হাসান আসকারী, নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুন্সি মনিরুজ্জামান ও ভাইস চ্যান্সেলরের পিএস আব্দুর রশিদের কারসাজি ও অত্যাচারে তার মফিজুর অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে তার ছেলেকে ৮ মাস সাসপেন্ডে রাখা হয়। পরে কর্মস্থলে ফিরে গেলেও বাস চালক থেকে অফিস সহকারির দায়িত্ব দেয়া হয়। একজন জ্যেষ্ঠ বাস চালক হয়ে কিভাবে তিনি চা বানানোসহ পিওনের কাজ করবেন তা নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপরও তার সাথে অশোভন আচরণ করা হয়। পরিবহন প্রশাসকের কারণে তার ছেলে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। অত্যাচারী ওইসব কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছেন তিনি। রেহেনা বেগম আরও জানান, সন্তান হারানোর কষ্ট প্রতিটি মুহুর্ত খারাপ কাটছে। পরিবারের অন্য সদস্যরাও ভালো নেই। অথচ অত্যাচারী ওই সব কর্মকর্তারা মহাসুখে দিন পার করছেন।
গত ৯ জানুয়ারি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলায় মফিজুরের স্ত্রী জিনিয়া খাতুন উল্লেখ করেছেন, পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. জাফিরুল ইসলাম, যানবাহন কর্মকর্তা হাসান আসকারী, নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুন্সি মনিরুজ্জামান ও ভাইস চ্যান্সেলরের পিএস আব্দুর রশিদ তার স্বামীর ড্রাইভারের পদ বাতিল করে অফিসের পিয়ন হিসেবে কাজ করার নির্দেশ দেন। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। গত ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে দেখা করতে যান। এসময় আসামিরা বিষয়টি জানতে পেরে ভাইস চ্যান্সেলরের অফিসের সামনে যেয়ে দেখা করতে বাধা প্রদান করেন। এছাড়া নানা অত্যাচারের শিকার হয়ে তার স্বামী মফিজুর ওই রাতে নিজ বাড়ির ওঠানে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মফিজুর রহমান। গুরুতর অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক? সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ দিন পর তিনি মারা যান। জিনিয়া খাতুন জানান, স্বামীকে হারিয়ে তার পরিবার অসহায় হয়ে গেছে। স্বামীহারা স্ত্রীর দাবি কোনভাবে যেনো ওই অত্যাচারী কর্মকর্তারা আইনের হাত থেকে রক্ষা না পায়। তদন্তপূর্বক কঠিন শাস্তির দাবি করেছেন জিনিয়া।
উল্লেখ্য, পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. জাফিরুল ইসলামের অত্যাচারে অন্য বাস চালক ও হেলপাররা অতিষ্ঠ। কর্মচারী সমিতির মাধ্যমে চালক-হেলপাররা ৩০ ডিসেম্বর তার নামে রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। কর্মচারী সমিতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনিছুর রহমানকে আহবায়ক করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা দেয়া হয়নি।
শিরোনাম
যবিপ্রবির বাস চালকের আত্মহত্যা : বিচার দাবি মফিজুরের পরিবারের
-
যশোর প্রতিনিধি - আপডেট সময় : ১২:১১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৪
- ।
- 147
জনপ্রিয় সংবাদ

























