১২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রামগতিতে স্লুইচ গেইট মেরামতের অভাবে হাজারো মানুষের ভোগান্তি চরমে

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা চরগাজী ইউনিয়নে মেঘনা নদী
সংলগ্ন চরলক্ষ্মী গ্রামের মেরামতের অভাবে স্লুইচ গেইটটি নিয়ে স্থানীয় হাজার
হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অথচ আশ্বাশ দিয়ে ও সংশ্লিষ্টরা এর
কোন সুরাহা এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন না করায় লোকালয়ে পানি ডুকে
বাড়ীঘর, ফসলি জমি, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান,স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন
স্থাপনা পানিতে ডুবে যায়। এতে জানমাল, জীবনের নিরাপত্তা সহ আর্থিক
ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে সাধারন মানুষ। পরিরেশ ও জীব বৈচিত্রের সৃষ্টি হয় নানা ধরনের
হুমকি। স্থানীয়দের মতে, স্লুইস গেটটি বানানো হয়েছিল পানি ধরে রাখার জন্য।
আবার জোয়ারের সময় লোকালয়ে পানি প্রবেশে আটকানো এবং জলাবদ্ধতার হুমকির
সৃষ্টি করা সহ লোকালয়ের জমে থাকা পানি খাল হয়ে নদীতে প্রবেশের
সুবিধার্থে কেবল স্লুইস গেটটি ব্যাবহারের কথা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে
ডালা অকেজো অবস্থায় রয়েছে এ স্লুইচ গেইটটির। ফলে জোয়ারের পানিতে
প্লাবিত হচ্ছে লোকালয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্লুইচ গেইটটি পানি প্রবেশের প্রথম ডালা
মরিচা ধরে অকেজো হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া অন্যটির ডালা নেই, অনেক আগেই
মরিচা পড়ে তা নষ্ট হয়ে রয়েছে। এখন এ গেইটটি দিয়ে অনায়াসে জোয়ারের
পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। স্থানীয়রা বলেছেন, দীর্ঘদিনের এ সমস্যা
সমাধানের জন্য একাধিকবার জানালেও কোন কাজ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড।
অন্যদিকে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদেরও নেই কোন এ নিয়ে কোন মাথাব্যাথা ও ভ্রুক্ষেপ।
ফলে অধিক জোয়ারের পানিতে সাধারন মানুষ ও নিম্নবিত্ত, কৃষিজীবিদের
ভোগান্তির শেষ থাকে না।
কৃষক মো. জমির উদ্দিন জানান, অচল স্লুইচ গেইটের কারণে জোয়ারের পানি
লোকালয়ে ঢুকে যাচ্ছে। জোয়ারের পানি নামতে পারছে না। ফলে, কৃষকদের ফসলী
জমি তলিয়ে যায় এবং ফসলাদি নষ্ট হয়ে মারাত্নক আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
তারা।
চরলক্ষ্মী গ্রামের বাসিন্দা মীর আজমল হোসেন বাবু জানান, শুরু থেকে এ গ্রামে
স্থাপিত স্লুইচ গেইটটির উপকার এখানকার মানুষ পেয়েছিল। কিন্তু যখন ডালা
অকেজো হয়ে গেছে, তারপর থেকেই তাদের ভোগান্তি শুরু হয়ে গেছে। স্লুইচ
গেইটের ডালাটি সচল থাকলে জোয়ারের সময় বন্ধ করে দিলে লোকালয়ে পানি
ডুকতোনা এবং এ নিয়ে আর সমস্যা হত না। অধিক জোয়ারের পানি প্রবেশ

করতে পারতো না। এখন জোয়ারের পানিতে ঘর-বাড়ির আঙিনা ও ফসল তলিয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বরাকাত হোসেন জনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে কাজ
করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ দুর্ভোগ সমাধানে আমরা কি করবো।
রামগতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আ ম ম নাঈম
বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে গিয়েছি। নদীর পাড়ে অর্থাৎ স্লুইচ গেইটের
পানি প্রবেশের মুখ থেকে নদী পর্যন্ত পলি জমার কারণে লোকালয়ের পানি বের হতে
পারছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দেখিয়েছি। ডালাগুলো সচল করার
ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এম
এম জাহাঙ্গীর বলেন, পলি অপসারণ করা না গেলে আমাদের কিছুই করার নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগতিতে স্লুইচ গেইট মেরামতের অভাবে হাজারো মানুষের ভোগান্তি চরমে

আপডেট সময় : ১১:২৬:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৪

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা চরগাজী ইউনিয়নে মেঘনা নদী
সংলগ্ন চরলক্ষ্মী গ্রামের মেরামতের অভাবে স্লুইচ গেইটটি নিয়ে স্থানীয় হাজার
হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অথচ আশ্বাশ দিয়ে ও সংশ্লিষ্টরা এর
কোন সুরাহা এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন না করায় লোকালয়ে পানি ডুকে
বাড়ীঘর, ফসলি জমি, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান,স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন
স্থাপনা পানিতে ডুবে যায়। এতে জানমাল, জীবনের নিরাপত্তা সহ আর্থিক
ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে সাধারন মানুষ। পরিরেশ ও জীব বৈচিত্রের সৃষ্টি হয় নানা ধরনের
হুমকি। স্থানীয়দের মতে, স্লুইস গেটটি বানানো হয়েছিল পানি ধরে রাখার জন্য।
আবার জোয়ারের সময় লোকালয়ে পানি প্রবেশে আটকানো এবং জলাবদ্ধতার হুমকির
সৃষ্টি করা সহ লোকালয়ের জমে থাকা পানি খাল হয়ে নদীতে প্রবেশের
সুবিধার্থে কেবল স্লুইস গেটটি ব্যাবহারের কথা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে
ডালা অকেজো অবস্থায় রয়েছে এ স্লুইচ গেইটটির। ফলে জোয়ারের পানিতে
প্লাবিত হচ্ছে লোকালয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্লুইচ গেইটটি পানি প্রবেশের প্রথম ডালা
মরিচা ধরে অকেজো হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া অন্যটির ডালা নেই, অনেক আগেই
মরিচা পড়ে তা নষ্ট হয়ে রয়েছে। এখন এ গেইটটি দিয়ে অনায়াসে জোয়ারের
পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। স্থানীয়রা বলেছেন, দীর্ঘদিনের এ সমস্যা
সমাধানের জন্য একাধিকবার জানালেও কোন কাজ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড।
অন্যদিকে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদেরও নেই কোন এ নিয়ে কোন মাথাব্যাথা ও ভ্রুক্ষেপ।
ফলে অধিক জোয়ারের পানিতে সাধারন মানুষ ও নিম্নবিত্ত, কৃষিজীবিদের
ভোগান্তির শেষ থাকে না।
কৃষক মো. জমির উদ্দিন জানান, অচল স্লুইচ গেইটের কারণে জোয়ারের পানি
লোকালয়ে ঢুকে যাচ্ছে। জোয়ারের পানি নামতে পারছে না। ফলে, কৃষকদের ফসলী
জমি তলিয়ে যায় এবং ফসলাদি নষ্ট হয়ে মারাত্নক আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
তারা।
চরলক্ষ্মী গ্রামের বাসিন্দা মীর আজমল হোসেন বাবু জানান, শুরু থেকে এ গ্রামে
স্থাপিত স্লুইচ গেইটটির উপকার এখানকার মানুষ পেয়েছিল। কিন্তু যখন ডালা
অকেজো হয়ে গেছে, তারপর থেকেই তাদের ভোগান্তি শুরু হয়ে গেছে। স্লুইচ
গেইটের ডালাটি সচল থাকলে জোয়ারের সময় বন্ধ করে দিলে লোকালয়ে পানি
ডুকতোনা এবং এ নিয়ে আর সমস্যা হত না। অধিক জোয়ারের পানি প্রবেশ

করতে পারতো না। এখন জোয়ারের পানিতে ঘর-বাড়ির আঙিনা ও ফসল তলিয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বরাকাত হোসেন জনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে কাজ
করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ দুর্ভোগ সমাধানে আমরা কি করবো।
রামগতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আ ম ম নাঈম
বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে গিয়েছি। নদীর পাড়ে অর্থাৎ স্লুইচ গেইটের
পানি প্রবেশের মুখ থেকে নদী পর্যন্ত পলি জমার কারণে লোকালয়ের পানি বের হতে
পারছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দেখিয়েছি। ডালাগুলো সচল করার
ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এম
এম জাহাঙ্গীর বলেন, পলি অপসারণ করা না গেলে আমাদের কিছুই করার নেই।