রংপুর নগরীর চিলারঝাড় এলাকা থেকে উদ্ধার করা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশের নেপথ্যের নৃশংস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। এ ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করার পাশাপাশি হত্যাকান্ডের ব্যবহৃত আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আলেফ উদ্দিনের কাছ থেকে তার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে চায়ের সঙ্গে ঘুমের ঔষধ ও মাদকদ্রব্য সেবনে অচেতন করে তাকে হত্যা করে। ইজিবাইক চালক আলেফ উদ্দিনের হত্যারহস্য উন্মোচন ও আসামিদের গ্রেফতারের পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মো.মনিরুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
আজ ররবিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে আরপিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান সবুজ বাংলাকে বলেন, মরদেহ উদ্ধারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যারহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে আসামিরা তাদের পূর্বপরিচিত আলেফ উদ্দিনকে হত্যা করে তার ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। এরই অংশ হিসেবে প্রথমে রংপুর সদরের লাহড়ীরহাটে এলাকায় তাকে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে আলেফ উদ্দিনকে হত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর আলেফ উদ্দিনকে হত্যা করে তার ইজিবাইক নেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ১১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আলেফ উদ্দিনকে চায়ের সঙ্গে ঘুমের ঔধষ খাওয়ানো হয়। তারপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বুড়াইল বাজার চিলারঝাড় গ্রামের পাশের কয়ার দোলায় ফাঁকা জমিতে নিয়ে নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য গাঁজা সেবন করিয়ে অচেতন করেন। পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দা দিয়ে প্রথমে গলা কেটে এরপর মাথা, হাত ও পায়ের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
আরপিএমপি কমিশনার আরও বলেন, এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশ। রবিবার ভোরে অভিযান পরিচারিয়ে করে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও ভিকটিমের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক একটি ভাংড়ির দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত হলেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর চাঁদখানা গ্রামের নবাব আলীর ছেলে সম্রাট গোলজার (৩৩), রংপুর নগরীর কোবারু ডাক্তারপাড়ার মৃত ছইমুদ্দিনের ছেলে বকুল মিয়া (৫২), একই এলাকার মৃত জাহির উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩৮) এবং রংপুর সদর উপজেলার মহেশপুর বালাপাড়া গ্রামের মৃত করিম উদ্দিনের ছেলে ভাংড়ি ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী (৩৭)। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানান পুলিশ কমিশনার।




















