দিনাজপুরে আলু প্রক্রিয়াজাতকরণ উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রপাতি বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার জেলা শহরের জেল রোডস্থ ইয়াম্মী রেস্টুরেন্টে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আনারুল হক, জেলা সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, গ্রেডার ইনচার্জ শাহীন আল মামুন, আলু প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলামসহ প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
যন্ত্রপাতি পাওয়া উম্মে মরিয়ম বলেন, আমি হোমমেড আইটেমগুলো নিয়ে কাজ করছি। আমি কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে কিছু যন্ত্রপাতি পেয়েছি যেগুলো আমার ব্যবসাটাকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। আজকে আলু কাটিং মেশিন, আলু ড্রায়ার, আলু ছিলার মেশিনসহ ১০ থেকে ১২ টার মতো যন্ত্রপাতি তারা দিয়েছে। আমি আগে অনলাইন ভিত্তিক কাজ করছিলাম । এখন অফলাইন বা আউলেট দিতে পারব। আগে তো সব কাজ ম্যানুয়ালি করতে হতো এখন তো মেশিনের সাহায্যে কাজগুলো করতে পারব। এর মাধ্যমে আমার ব্যবসার পরিধিটা বাড়াতে পারব এবং আমার স্বপ্ন পূরণে আরও এগিয়ে যাব। এগুলো প্রদানের জন্য কৃষি অধিদপ্তরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
যন্ত্রপাতির সুবিধাভোগী শহরের বড়বন্দরের বাসিন্দা মাইশা আক্তার বলেন, আমরা ২০২৩ সাল থেকে আলুর বহুমুখী ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছি। আমরা রংপুর থেকেও প্রশিক্ষণ নিয়েছি।আমাদের দেশে যে পরিমাণ আলু উৎপাদিত হয় সেই পরিমাণে ব্যবহৃত হয় না। তরকারি রান্না ছাড়াও আলু অনেকভাবে ব্যবহার করা যায়। যা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জেনেছি। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে আলু আবাদের খরচ কম। আমরা যদি আলুর সঠিক ব্যবহার করতে পারি তাহলে আমরা অবশ্যই লাভবান হতে পারব।
শহরের মিশন রোডের বাসিন্দা সাহেলা পারভীন। তিনি কাজ করছেন আলু দিয়ে তৈরি বিভিন্ন হোমমেড আইটেমের। কথা হল তিনি বলেন, আমরা তো আলু নিয়ে মাত্র কয়েকটা আইটেম নিয়ে কাজ করছি। এখানে প্রশিক্ষণে এসে আলুর এমন কিছু ব্যবহারের কথা জানলাম যেটা আমি কখনই চিন্তাও করিনি। আমরা আলুর পচনরোধ, বহুমুখী ব্যবহারসহ যন্ত্রপাতি দিয়ে সহজে কাজ করার ধারণা পেলাম। এর মাধ্যমে আমরা আরও সামনে এগিয়ে যেতে পারব।
জেলা শহরের গোর-এ শহীদ মাঠে ফুচকার ব্যবসা করেন শাজাহান আলী। প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, ফুচকার পাশাপাশি আলু দিয়ে বিভিন্ন খাবার তৈরি করার পদ্ধতি শিখতে পারলাম। কোল্ড স্টোরেজ ছাড়াও কিভাবে দীর্ঘ সময় ধরে আলু সংরক্ষণ করা যায় সেটাও জানলাম। কোল্ড স্টোরেজে আলু রাখলে আমাদের কেজি প্রতি প্রায় ১০ টাকার মতো খরচ হতো। এখন সেটা আর লাগবে না। আমরা বাসাতেই সংরক্ষণ করে রাখতে পারব। এতে করে আমাদের অনেক টাকা বেচে যাবে।
আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আনারুল হক বলেন, আজকে দিনাজপুরে প্রায় ৩০ জনের মতো উদ্যেক্তাকে প্রশিক্ষণ ও তিনজনকে যন্ত্রপাতি প্রদান করা হলো। পর্যায়ক্রমে এ জেলার আরও অনেকজনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। দেশের ১৬টি আলু উৎপাদকারী জেলায় ২১৬ জনের মাঝে এমন যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়েছে। আর এর চারগুণ উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেরাই তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়াতে পারবে। দেশে যে পরিমাণ আলু উৎপাদন হয় তা পুরোপুরি সংরক্ষণ করার মতো স্টোরেজ দেশে নেই। এর মাধ্যমে আলুর অপচয় রোধ করে সঠিক ব্যবহার করা সম্ভব।
দপ্তরটি সম্পর্কে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দেশে প্রতি বছর আলুর উৎপাদন ছিলো ১৫ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়। দেশে মোট কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে ৩৬৫টি যার ধারণ ক্ষমতা ৩০ থেকে ৩২ লাখ মেট্রিক টন। এতে তিন-চতুর্থাংশ আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। এখনো পর্যন্ত আলু রপ্তানির বাজার সেভাবে সম্প্রসারিত না হওয়ায় অনেক আলু অপচয় হয়। সেই অপচয় রোধে আলুর চিপস ও ফ্রেঞ্চ-ফ্রাই ছাড়াও আলুর বহুমুখী ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে দপ্তরটি।

























