০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্রামীণ ঐতিহ্য গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগীতা

ব্যাপক উৎসব আমেজের মধ্যে দিয়েই ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামীণ ঐতিহ্য গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা।

গত বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দিনব্যাপি ওই প্রতিযোগিতায় ঝিনাইদহ সহ আশপাশের জেলা থেকে আগত মোট ২৪ টি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাটিকে ঘিরে উপজেলার মোল্লাডাঙ্গা গ্রামের ফাঁকা ধান ক্ষেতের মাঠ যেন উৎসবে মেতে উঠে। সকাল থেকেই কুয়াশা আচ্ছন্ন কনকনে শীতের মধ্যেই নারী, শিশু, পুরুষ সহ সব বয়সের হাজার হাজার উৎসুক জনতার সমাগম ঘটে। সেই সাথেই মাঠের চারপাশে বিভিন্ন পসরার স্টল ও খাবারের দোকান সহ শিশুদের বিনোদনের জন্যও বসে নাগরদোলা। এ উপলক্ষে গ্রামবাসীদের অনেকেই আবার তাদের আত্বীয় স্বজনদের দাওয়াত দিয়ে বাড়ীতে আনেন।

বুধবার সকালে মোল্ল্যাডাঙ্গা গ্রামের ধান ক্ষেতের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কুয়াশা ঢাকা কনকনে শীত উপেক্ষা করেও দুর দুরান্ত থেকে প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে গরুর গাড়ীগুলি জড়ো হচ্ছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথেই শুরু হয় প্রথম পর্বের বাছাই রাউন্ডের দৌড়। দুপুরের পর তাদের নিয়েই অনুষ্টিত হয় চুড়ান্ত পর্বের আর্কষনীয় গরু গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগীতা। এ প্রতিযোগীতায় যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ওয়ালিদ হোসেন প্রথম, চৌগাছা উপজেলার সজিব হোসেন দ্বিতিয় এবং সৈয়দপুর এলাকার সাগর হোসেন তৃতীয় হবার গৌরব লাভ করে।

প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে এক অনুষ্টানের মাধ্যমে প্রধান অতিথি স্থানীয় সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। বিজয়ীদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারীকে একটি বড় ছাগল, দ্বিতিয় স্থান অধিকারীকে একটি মাঝারী ছাগল ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে একটি বাইসাইকেল দিয়ে পূরস্কৃত করা হয়। অনুষ্টানে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী সহ এলাকার অন্নান্য সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী সবুজ বাংলাকে জানান, গরু গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগিতাটি তাদের গ্রামের একটি ঔতিহ্য। তাদের পূর্ব পুরুষেরা এ খেলা শুরু করেছিল। এখনো সেই ধাারাবাহিকতা তাদের গ্রামবাসীরা ধরে রেখেছেন। তিনি জানান, আমন মৌসুমের ধান কাটার পর মাঠ ফাকা থাকে। এ
সময়ে তারা মানুষের বিনোদন দিতেই এ প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে থাকেন।

প্রতিযোগিতা দেখতে আসা চৌগাছার আবুল হোসেন জানায়, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য গরু গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগীতার খবর শুনলেই তিনি ছুটে যান। তাদের এলাকার অনেক প্রতিযোগিও অংশ নেন। খেলা দেখার নেশা মেটানো ছাড়াও এলাকার প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতেই তার এ মাঠে আগমন।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত

গ্রামীণ ঐতিহ্য গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগীতা

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৪

ব্যাপক উৎসব আমেজের মধ্যে দিয়েই ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামীণ ঐতিহ্য গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা।

গত বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দিনব্যাপি ওই প্রতিযোগিতায় ঝিনাইদহ সহ আশপাশের জেলা থেকে আগত মোট ২৪ টি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাটিকে ঘিরে উপজেলার মোল্লাডাঙ্গা গ্রামের ফাঁকা ধান ক্ষেতের মাঠ যেন উৎসবে মেতে উঠে। সকাল থেকেই কুয়াশা আচ্ছন্ন কনকনে শীতের মধ্যেই নারী, শিশু, পুরুষ সহ সব বয়সের হাজার হাজার উৎসুক জনতার সমাগম ঘটে। সেই সাথেই মাঠের চারপাশে বিভিন্ন পসরার স্টল ও খাবারের দোকান সহ শিশুদের বিনোদনের জন্যও বসে নাগরদোলা। এ উপলক্ষে গ্রামবাসীদের অনেকেই আবার তাদের আত্বীয় স্বজনদের দাওয়াত দিয়ে বাড়ীতে আনেন।

বুধবার সকালে মোল্ল্যাডাঙ্গা গ্রামের ধান ক্ষেতের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কুয়াশা ঢাকা কনকনে শীত উপেক্ষা করেও দুর দুরান্ত থেকে প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে গরুর গাড়ীগুলি জড়ো হচ্ছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথেই শুরু হয় প্রথম পর্বের বাছাই রাউন্ডের দৌড়। দুপুরের পর তাদের নিয়েই অনুষ্টিত হয় চুড়ান্ত পর্বের আর্কষনীয় গরু গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগীতা। এ প্রতিযোগীতায় যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ওয়ালিদ হোসেন প্রথম, চৌগাছা উপজেলার সজিব হোসেন দ্বিতিয় এবং সৈয়দপুর এলাকার সাগর হোসেন তৃতীয় হবার গৌরব লাভ করে।

প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে এক অনুষ্টানের মাধ্যমে প্রধান অতিথি স্থানীয় সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। বিজয়ীদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারীকে একটি বড় ছাগল, দ্বিতিয় স্থান অধিকারীকে একটি মাঝারী ছাগল ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে একটি বাইসাইকেল দিয়ে পূরস্কৃত করা হয়। অনুষ্টানে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী সহ এলাকার অন্নান্য সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী সবুজ বাংলাকে জানান, গরু গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগিতাটি তাদের গ্রামের একটি ঔতিহ্য। তাদের পূর্ব পুরুষেরা এ খেলা শুরু করেছিল। এখনো সেই ধাারাবাহিকতা তাদের গ্রামবাসীরা ধরে রেখেছেন। তিনি জানান, আমন মৌসুমের ধান কাটার পর মাঠ ফাকা থাকে। এ
সময়ে তারা মানুষের বিনোদন দিতেই এ প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে থাকেন।

প্রতিযোগিতা দেখতে আসা চৌগাছার আবুল হোসেন জানায়, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য গরু গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগীতার খবর শুনলেই তিনি ছুটে যান। তাদের এলাকার অনেক প্রতিযোগিও অংশ নেন। খেলা দেখার নেশা মেটানো ছাড়াও এলাকার প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতেই তার এ মাঠে আগমন।