০৭:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রিয়ালের গোল নিয়ে ক্ষোভের ঝড়

ম্যাচজুড়ে এত কিছু হয়ে গেছে, সেসবের রেশ ম্যাচের পর রয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। রিয়াল মাদ্রিদ ও আলমেরিয়ার নাটকীয় ম্যাচের পর অনুমিতভাবেই বয়ে চলেছে কথার ঝড়। দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর হারের পর ক্ষোভে ফেটে পড়ছে আলমেরিয়ার ফুটবলাররা। তাদের কাঠগড়ায় ম্যাচের রেফারি। তবে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও শেষ সময়ে গোল করে দলকে জেতানো দানি কারভাহালের মতে, রেফারির সিদ্ধান্তগুলো সঠিকই ছিল।

 

অন্তিম সময়ে কামব্যাক করা যেন রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কদিন আগেই অ্যান্টনি রুডিগারের গোলে লা লিগায় মায়োর্কাকে হারিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এরপর আবার যখন লা লিগায় দেখা গেল তাদের প্রত্যাবর্তন। এবার ত্রাতা হয়ে এলেন দানি কারভাহাল। অতিরিক্ত সময়ে তার গোলেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া ম্যাচে আলমেরিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। রিয়ালের অন্য দুটি গোল জুড বেলিংহাম ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের।

 

রাতের অন্য ম্যাচে আরেক ফেবারিট বার্সেলোনাও জয় পেয়েছে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে। কাকতালীয়ভাবে রিয়াল মাদ্রিদের মত তারাও জয় পেয়েছে অতিরিক্ত সময়ে এসে। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন স্প্যানিশ উইঙ্গার ফেরান তরেস। অপর গোলটি করেছেন হোয়াও ফেলিক্স।
চলতি মৌসুমে লিগে মাত্র একটি ম্যাচ হারা রিয়ালকে এদিন কিছুটা চ্যালেঞ্জই জানিয়েছিল কোনো জয় না পাওয়া আলমেরিয়া। রিয়াল পিছিয়ে পড়েছিল ম্যাচের বয়স ৩৮ সেকেন্ড হতেই। লারজি রামাজানি এগিয়ে দেন আলেমেরিয়াকে। এরপর রিয়াল কয়েকবার আক্রমণ করলেও তাতে গোল হওয়ার মত সম্ভাবনা ছিল না মোটেই। প্রথমার্ধে তারা আলমেরিয়ার গোলের শোধ করতেই পারেনি।

 

উল্টো ৪৩ মিনিটে এদগার গঞ্জালেসের দুর্দান্ত ভলিতে ২-০ গোলের লিড নেয় আলমেরিয়া। তবে দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটাই ছিল রিয়ালেরই। টানেল থেকে ফিরে ব্রাহিম দিয়াজ, ফ্রান্সিসকো গার্সিয়া ও হোসেলুকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। সুফল পেতে দেরি হয়নি রিয়ালের। ৫৭ মিনিটেই গোল পেয়ে যায় দলটি।

 

সাদামাটা এক ক্রস থেকে হোসেলুর হেড হাতে লাগে আলমেরিয়ার কাইকির। ভিএআর মনিটরের সাহায্য নিয়ে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিকে ভুল করেননি জুড বেলিংহাম (২-১)। এরপর ভিএআর আবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে রিয়ালের দ্বিতীয় গোলের সময়ে এসে। গোলটা বাতিল হয়েছিল হ্যান্ডবলের কারণে। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্টের সাহায্য নিয়ে রেফারি জানালেন গোল বৈধ।

২-২ গোলের সমতায় থাকা ম্যাচে একেবারেই শেষ সময়ে গোল করে বসেন দানি কারভাহাল। বেলিংহামের ভাসানো বলে দূরহ কোণ থেকে গোল করে রিয়াল সমর্থকদের আনন্দে ভাসান এই রাইটব্যাক।

এদিকে সময়টা বার্সেলোনার জন্য খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। কাতালুনিয়ার ক্লাবটি ধুঁকছে এই মৌসুমে এসে। স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে তারা বিধ্বস্তই হয়েছিল রিয়ালের কাছে। এরপর দরকার ছিল স্বস্তির এক জয়ের। এরপর লাল লিগার প্রত্যাবর্তন। সেখানেও শুরুটা সুন্দর ছিল বার্সার। তবে প্রথমে দুই গোলে এগিয়ে থাকার পরও পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা জেগেছিল তাদের।

যদিও ম্যাচের বাড়ানো সময়ে দুই গোল করে বার্সেলোনা। তাতে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জাভির দল। বেনিটো ভিলামারিনায় রিয়াল বেতিসকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবটির হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন ফেরান তোরেস। বাকি গোলটি এসেছে জোয়াও ফেলিক্সের পা থেকে। বেতিসের হয়ে গোল দুইটি করেছেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার ইস্কো।

বার্সা ম্যাচের ২১ মিনিটে প্রথমবার লিড পায়। গুন্ডোগানের দূরপাল্লার শট বেতিসের ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে পেদ্রির কাছে চলে আসে। পেদ্রির পাস যায় তোরেসের কাছে। সেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি স্প্যানিশ তারকা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার গোল করে বসেন ফেরান তরেস।

দুই গোলের লিড অবশ্য তারা ধরে রাখতে পারেনি। ৫৬ থেকে ৫৯ মিনিটে দুইটি গোল করেন ইস্কো। তাতে সমতায় ফেরে বেতিস। এরপরেই বেশকিছু পরিবর্তন আনেন জাভি। তাতেই জয়ের স্বাদ পায় বার্সা।

পেদ্রির বদলি হিসেবে নামা ফেলিক্স নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে গোল করে বার্সেলোনাকে জয়ের উল্লাসে ভাসান। তবে এরপরও আরেকটি গোল করে বার্সেলোনা। এবারও স্কোরশিটে তরেস। লামিন ইয়ামালের বাড়ানো বলে দারুণ দক্ষতায় ফিনিশিং দেন তিনি।

এই জয়ের পর টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে বার্সেলোনা। ২০ ম্যাচে ১৩ জয় নিয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৪৪। সমান ম্যাচে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দুইয়ে আছে জিরোনা। আর ২১ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের নয়ে রয়েছে রিয়াল বেতিস।

 

 

 

স/মিফা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএলে শেষের নাটকীয়তার পর ৫ রানে জিতল রাজশাহী

রিয়ালের গোল নিয়ে ক্ষোভের ঝড়

আপডেট সময় : ১০:০০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৪

ম্যাচজুড়ে এত কিছু হয়ে গেছে, সেসবের রেশ ম্যাচের পর রয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। রিয়াল মাদ্রিদ ও আলমেরিয়ার নাটকীয় ম্যাচের পর অনুমিতভাবেই বয়ে চলেছে কথার ঝড়। দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর হারের পর ক্ষোভে ফেটে পড়ছে আলমেরিয়ার ফুটবলাররা। তাদের কাঠগড়ায় ম্যাচের রেফারি। তবে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও শেষ সময়ে গোল করে দলকে জেতানো দানি কারভাহালের মতে, রেফারির সিদ্ধান্তগুলো সঠিকই ছিল।

 

অন্তিম সময়ে কামব্যাক করা যেন রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কদিন আগেই অ্যান্টনি রুডিগারের গোলে লা লিগায় মায়োর্কাকে হারিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এরপর আবার যখন লা লিগায় দেখা গেল তাদের প্রত্যাবর্তন। এবার ত্রাতা হয়ে এলেন দানি কারভাহাল। অতিরিক্ত সময়ে তার গোলেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া ম্যাচে আলমেরিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। রিয়ালের অন্য দুটি গোল জুড বেলিংহাম ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের।

 

রাতের অন্য ম্যাচে আরেক ফেবারিট বার্সেলোনাও জয় পেয়েছে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে। কাকতালীয়ভাবে রিয়াল মাদ্রিদের মত তারাও জয় পেয়েছে অতিরিক্ত সময়ে এসে। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন স্প্যানিশ উইঙ্গার ফেরান তরেস। অপর গোলটি করেছেন হোয়াও ফেলিক্স।
চলতি মৌসুমে লিগে মাত্র একটি ম্যাচ হারা রিয়ালকে এদিন কিছুটা চ্যালেঞ্জই জানিয়েছিল কোনো জয় না পাওয়া আলমেরিয়া। রিয়াল পিছিয়ে পড়েছিল ম্যাচের বয়স ৩৮ সেকেন্ড হতেই। লারজি রামাজানি এগিয়ে দেন আলেমেরিয়াকে। এরপর রিয়াল কয়েকবার আক্রমণ করলেও তাতে গোল হওয়ার মত সম্ভাবনা ছিল না মোটেই। প্রথমার্ধে তারা আলমেরিয়ার গোলের শোধ করতেই পারেনি।

 

উল্টো ৪৩ মিনিটে এদগার গঞ্জালেসের দুর্দান্ত ভলিতে ২-০ গোলের লিড নেয় আলমেরিয়া। তবে দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটাই ছিল রিয়ালেরই। টানেল থেকে ফিরে ব্রাহিম দিয়াজ, ফ্রান্সিসকো গার্সিয়া ও হোসেলুকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। সুফল পেতে দেরি হয়নি রিয়ালের। ৫৭ মিনিটেই গোল পেয়ে যায় দলটি।

 

সাদামাটা এক ক্রস থেকে হোসেলুর হেড হাতে লাগে আলমেরিয়ার কাইকির। ভিএআর মনিটরের সাহায্য নিয়ে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিকে ভুল করেননি জুড বেলিংহাম (২-১)। এরপর ভিএআর আবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে রিয়ালের দ্বিতীয় গোলের সময়ে এসে। গোলটা বাতিল হয়েছিল হ্যান্ডবলের কারণে। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্টের সাহায্য নিয়ে রেফারি জানালেন গোল বৈধ।

২-২ গোলের সমতায় থাকা ম্যাচে একেবারেই শেষ সময়ে গোল করে বসেন দানি কারভাহাল। বেলিংহামের ভাসানো বলে দূরহ কোণ থেকে গোল করে রিয়াল সমর্থকদের আনন্দে ভাসান এই রাইটব্যাক।

এদিকে সময়টা বার্সেলোনার জন্য খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। কাতালুনিয়ার ক্লাবটি ধুঁকছে এই মৌসুমে এসে। স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে তারা বিধ্বস্তই হয়েছিল রিয়ালের কাছে। এরপর দরকার ছিল স্বস্তির এক জয়ের। এরপর লাল লিগার প্রত্যাবর্তন। সেখানেও শুরুটা সুন্দর ছিল বার্সার। তবে প্রথমে দুই গোলে এগিয়ে থাকার পরও পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা জেগেছিল তাদের।

যদিও ম্যাচের বাড়ানো সময়ে দুই গোল করে বার্সেলোনা। তাতে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জাভির দল। বেনিটো ভিলামারিনায় রিয়াল বেতিসকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবটির হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন ফেরান তোরেস। বাকি গোলটি এসেছে জোয়াও ফেলিক্সের পা থেকে। বেতিসের হয়ে গোল দুইটি করেছেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার ইস্কো।

বার্সা ম্যাচের ২১ মিনিটে প্রথমবার লিড পায়। গুন্ডোগানের দূরপাল্লার শট বেতিসের ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে পেদ্রির কাছে চলে আসে। পেদ্রির পাস যায় তোরেসের কাছে। সেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি স্প্যানিশ তারকা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার গোল করে বসেন ফেরান তরেস।

দুই গোলের লিড অবশ্য তারা ধরে রাখতে পারেনি। ৫৬ থেকে ৫৯ মিনিটে দুইটি গোল করেন ইস্কো। তাতে সমতায় ফেরে বেতিস। এরপরেই বেশকিছু পরিবর্তন আনেন জাভি। তাতেই জয়ের স্বাদ পায় বার্সা।

পেদ্রির বদলি হিসেবে নামা ফেলিক্স নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে গোল করে বার্সেলোনাকে জয়ের উল্লাসে ভাসান। তবে এরপরও আরেকটি গোল করে বার্সেলোনা। এবারও স্কোরশিটে তরেস। লামিন ইয়ামালের বাড়ানো বলে দারুণ দক্ষতায় ফিনিশিং দেন তিনি।

এই জয়ের পর টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে বার্সেলোনা। ২০ ম্যাচে ১৩ জয় নিয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৪৪। সমান ম্যাচে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দুইয়ে আছে জিরোনা। আর ২১ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের নয়ে রয়েছে রিয়াল বেতিস।

 

 

 

স/মিফা