বরিশালের বানারীপাড়ায় জীবিত ঝর্নাকে মৃত্যু দেখিয়ে স্বামীর পরিত্যাক্তা নারীকে ভাতা পাওয়ার অধিকার থেকে নাম বাদ দিল উপজেলা সমাজ সেবা কার্যলায়। পাওনা ভাতার দাবিতে সমাজ সেবা অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বৃদ্ধা ঝর্না। এমন অভিযোগ উঠেছে বানারীপাড়া উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ঝর্না দারিদ্রতার কারণে ভাতার টাকা না পেয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে আকুতি জানাল। বানারীপাড়া উপজেলার ৫ নং সলিয়া বাকপুর ইউনিয়নের গোয়াইল বাড়ি ২ নং ওয়ার্ডের মৃত খালেক মৃধার মেয়ে, স্বামীর পরিত্যক্তা ঝর্না সরকারী ভাবে স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা পেত। হঠাৎ করে তার মোবাইলে ভাতা না আসলে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে গিয়ে জানতে পারে সে মারা গেছে। নিজে জীবিত অথচ সমাজ সেবা অফিসের তালিকায় মৃত্যু দেখে হতবাক ও নির্বাক হয়ে যায় ঝর্না বেগম। এর কারণ জানতে চাইলে সমাজ সেবা অফিস থেকে জানা যায় সে তার ওয়ার্ডের মহিদুল ( ইউনিয়ন মহিলা মেম্বরের স্বামী) নামের ব্যক্তির কাছে গিয়েছিল কিনা। তাকে আরো বলা হয় আপনাকে খুজে পাওয়া যায় নি তাই আপনাকে মৃত্যু দেখিয়ে ভাতা প্রাপ্তি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সমাজ সেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, আমরা সহজে কারও নাম বাদ দিতে চাই না। অনেক খোজাখুজি করে না পেয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের অবহিত করি। চেয়ারম্যানের দেয়া তালিকা অনুয়ায়ী এই নারীর (ঝর্ণা) নাম বাদ পড়ে। পরবর্তীতে তালিকা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত মৃত্যুর প্রত্যয়ন কিংবা নিরুদ্দেশ প্রত্যয়নে দেখে সমাজ সেবা অফিস নাম কর্তন করেন।
তারা আরো বলেন, সলিয়াকবাকপুর ইউনিয়ন পরিষদের দেয়া চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত মৃত্যু তালিকায় ঝর্নার নাম রয়েছে বলে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সে এলাকায় না থেকে চাখার বসবাস করে তাই তাকে খুজে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সরকার অসহায় মানুষদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেন তার মধ্যে অন্যতম বিভিন্ন ধরনের ভাতা সমাজের অসহায় মানুষদের দুঃখ দুর্দশা লাগব করে। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি বর্গের স্বজনপ্রীতি ও হিংসাত্মক মনোভাবের কারনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাধাগ্রস্থ হয়। যেখানে আইন মানুষের জন্য তৈরি করা হয় সেখানে সেই আইনের দোহাই দিয়েই মানুষের জীবন জীবিকাকে নস্যাৎ করে দেয়া হয়।
স/মিফা





















