১১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘুমধুম সীমান্তে স্কুল মাদ্রাসা বন্ধ সর্বোচ্চ সতর্কতায় বিজিবি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় নিরাপত্তার কারণে সেখানকার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। বিদ্যালয়গুলো হলো, বাইশপারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাজাবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুমব্রু পশ্চিমকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা কর হয়েছে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তের কাছে পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয় একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিয়ানমার-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত ঘেঁষে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও মিয়ানমার জান্তা সরকারের অনুগত সেনাদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হচ্ছে। সীমান্ত ঘেঁষে ওপারে কামানের গোলা নিক্ষেপের পাশাপাশি বিমান থেকে গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে। নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে মিয়ানমার অংশে তিন দিনে অর্ধশতাধিক মর্টার শেলের প্রকট শব্দে ৪৭ ও ৪৮ নম্বর সীমান্ত পিলারের বাংলাদেশের অভ্যন্তর এসব গোলার আওয়াজে কেঁপে উঠেছে। আর এ কাঁপুনিতে আতঙ্কে আছেন তারা।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর জানান, সোমবার সকাল থেকেই ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তে গোলাগুলি চলছে। সকালেও মর্টার শেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এতে কেউ হতাহত না হলেও আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্তে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দারা। ইউপি সদস্য দিল মোহাম্মদ ভুট্টো বলেন, আমরা যারা এপারে বসবাস করছি সবাই আতঙ্কে আছি, কখন কোন সময় কী হয় জানি না। বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে। জানা গেছে, মিয়ানমারের বিভিন্ন প্রদেশে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের চলা সংঘাত বর্তমানে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় ভারী অস্ত্র থেকে ছোড়া গুলি এবং মর্টার শেলের শব্দ শোনা যাচ্ছে, দেখা যাচ্ছে আগুনের ধোঁয়া। এর আগেও মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গোলা বাংলাদেশ সীমান্তে এসে পড়েছিল। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম নাজমুল হাসান বলেন, মিয়ানমারে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

 

 

স/ম

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

ঘুমধুম সীমান্তে স্কুল মাদ্রাসা বন্ধ সর্বোচ্চ সতর্কতায় বিজিবি

আপডেট সময় : ১১:৫০:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৪

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় নিরাপত্তার কারণে সেখানকার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। বিদ্যালয়গুলো হলো, বাইশপারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাজাবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুমব্রু পশ্চিমকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা কর হয়েছে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তের কাছে পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয় একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিয়ানমার-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত ঘেঁষে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও মিয়ানমার জান্তা সরকারের অনুগত সেনাদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হচ্ছে। সীমান্ত ঘেঁষে ওপারে কামানের গোলা নিক্ষেপের পাশাপাশি বিমান থেকে গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে। নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে মিয়ানমার অংশে তিন দিনে অর্ধশতাধিক মর্টার শেলের প্রকট শব্দে ৪৭ ও ৪৮ নম্বর সীমান্ত পিলারের বাংলাদেশের অভ্যন্তর এসব গোলার আওয়াজে কেঁপে উঠেছে। আর এ কাঁপুনিতে আতঙ্কে আছেন তারা।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর জানান, সোমবার সকাল থেকেই ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তে গোলাগুলি চলছে। সকালেও মর্টার শেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এতে কেউ হতাহত না হলেও আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্তে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দারা। ইউপি সদস্য দিল মোহাম্মদ ভুট্টো বলেন, আমরা যারা এপারে বসবাস করছি সবাই আতঙ্কে আছি, কখন কোন সময় কী হয় জানি না। বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে। জানা গেছে, মিয়ানমারের বিভিন্ন প্রদেশে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের চলা সংঘাত বর্তমানে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় ভারী অস্ত্র থেকে ছোড়া গুলি এবং মর্টার শেলের শব্দ শোনা যাচ্ছে, দেখা যাচ্ছে আগুনের ধোঁয়া। এর আগেও মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গোলা বাংলাদেশ সীমান্তে এসে পড়েছিল। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম নাজমুল হাসান বলেন, মিয়ানমারে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

 

 

স/ম