০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এমপি ও আ.লীগ সভাপতির পাশে খুনের আসামি

খুনের বদলা খুন

কুমিল্লা-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি আব্দুল মজিদ দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছেন, পাশে সোফায় বসা মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল আলম। তাদের পেছনে বুকে হাত ভাঁজ করে দাঁড়ানো জেলা পরিষদ সদস্য আবদুল কাইয়ুম। চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নিজাম সরকার হত্যার প্রধান আসামি এই কাইয়ুম। তিনি এক পর্যায়ে এমপি আব্দুল মজিদের পাশের সোফায়ও বসেন। মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নে ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি খুন হওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত করতে গতকাল এমপি আব্দুল মজিদ জানান, ‘সারা দেশে মারামারি হয়, এ ধরনের ঘটনা ঘটে না। এই চালিভাঙ্গা ইউনিয়নে ৭ বছরে ৮টা খুন হয়েছে। ৮০-৯০টা ঘর ভেঙেচুরে শেষ, বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটে কি না সন্দেহ হয়। এটা দেখতে খারাপ লাগে। মামলা চলবে স্বাভাবিক নিয়মে। সঠিক বিচারের জন্য সেই ব্যবস্থা আমরা নেব। মিথ্যা মামলা দেওয়া যাবে না, সঠিক ব্যক্তিদের আসামি করবেন। শফিকুল আলম গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঈগল মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন। মামলা পরিচালনার জন্য আবদুল কাইয়ুমকে দায়িত্ব দিয়ে শফিকুল আলম জানান, ‘মামলাকে কেন্দ্র করে যেন আর কেউ খুন না হয়। কেউ যেন বাণিজ্য করতে না পারে, আক্রোশের বশবর্তী হয়ে যেন নিরীহ ও নিরপরাধী কাউকে আসামি না করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন চালিভাঙ্গায় কোম্পানির বালি ভরাটের নামে আধিপত্য বিস্তার বন্ধ না হবে, ততদিন এই দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আশা সম্ভব নয়।’ গত সোমবার মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা বাগ বাজারে পুলিশ মোতায়েন অবস্থায় প্রতিপক্ষের হামলায় কামরুল হাসান নামের এক যুবক নিহত ও ৮ জন আহত হয়। নিহত কামরুল চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগের সভাপতি। তিনি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি আব্দুল মজিদের নির্বাচনি এজেন্ট ছিলেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বালু ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। দেড় বছর আগে একটি কোম্পানির জায়গা ভরাট করেন চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নিজাম সরকার, জেলা পরিষদ সদস্য কাইয়ুম, গাফ্ফার সহ কয়েকজন। প্রায় ৬ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করে নিজের কাছে রেখে দেন কাইয়ুম। এ নিয়ে নিজাম সরকার ও কাইয়ুমের মধ্যে বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করে। একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও নিষ্পত্তি হয়নি। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বাগবাজারের কাছে চালিভাঙ্গা
ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নিজাম সরকারকে কুপিয়ে হত্যা করেন কাইয়ুম ও তার লোকজন। এ ঘটনায় জেলা পরিষদ সদস্য কাইয়ুমসহ ২৪ জনের নামে মামলা করেন নিহত নিজাম সরকারের ভাই টিটু সরকার। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয় ৫০-৬০ জনকে। প্রধান আসামি করা হয় জেলা পরিষদের সদস্য আবদুল কাইয়ুমকে। তিনি ‘শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদ’র উপজেলা সভাপতি।
নিজাম হত্যাকাণ্ডের পর কাইয়ুমকে তার কয়েকজন সহযোগী সহ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার অনুসারীরা আত্মগোপনে চলে যান। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন পূর্বে জামিন পেলেও প্রতিপক্ষের লোকজনের হামলার ভয়ে এলাকায় ঢুকতে পারছিলেন না কাইয়ুম। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিমা আহমদ মেরীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা চালান। নির্বাচনের তিন দিন আগে থেকে তিনি আব্দুল মজিদ এমপির পক্ষ নেন। নিজাম সরকার খুনের প্রধান আসামি কাইয়ুম নির্বাচনের সময় প্রকাশ্যে চালিভাঙ্গায় না থাকলেও নিহত কামরুলকে আব্দুল মজিদ এমপির এজেন্ট নিয়োগ দেন।
গত রোববার মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহা. দেলোয়ার হোসেন নিজাম সরকার হত্যা মামলার আসামিদের থানায় ডেকে নিয়ে এলাকায় যেতে বলেন এবং এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে রোববার রাত থেকে চালিভাঙ্গা বাজারে এসআই শরিফের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। সোমবার দুপুর থেকে নলচর, ফরাজিকান্দি, চালিভাঙ্গা গ্রামের কাইয়ুমের সমর্থকরা বাড়িঘরে ফেরার চেষ্টা করেন। দুপুর ১টার দিকে কিছু সমর্থক ট্রলারে এসে চালিভাঙ্গা বাজারে নামেন। তাদেরকে দেখে প্রতিপক্ষের লোকজনও জড়ো হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এতে আটজন আহত হয়। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে টেঁটাবিদ্ধ যুবলীগ নেতা কামরুল বিকালে মারা যান।’ এ বিষয়ে জেলা পরিষদ সদস্য আবদুল কাইয়ুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে কয়েক গ্রামের মানুষ এলাকায় যেতে পারছিল না। কুমিল্লা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ১০ জন পুলিশ চালিভাঙ্গায় একটি পুলিশ ক্যাম্প করে, যাতে এলাকায় নিশ্চিন্তে মানুষ ফিরতে পারে। গত রোববার মেঘনা থানার ওসি লোকজনকে ডেকে আশ^স্ত করেন, আপনারা এলাকায় যান, পুলিশ রয়েছে। ওনার কথায় মানুষ এলাকায় এলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত ছিল। তাদের সামনে হামলা হলেও কোনো ভুমিকা নেয়নি। পুলিশের গাফিলতির কারণে কামরুলকে মরতে হয়েছে। আর চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির মুঠোফোনে বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। বিকাল ৪টায় গ্রামে আসি। আমার ছোট ভাই টিটু কাইয়ুমের আব্বাকে লোকজন নিয়ে বাজারে ঘুরতে দেখলে গ্রামের সবাইকে ডাকে, পরবর্তীতে কী হয়েছে জানি না। মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহা, দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ও আমার সার্কেল এসপি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলি। যারা এলাকার বাইরে ছিল, তাদের আশ^স্ত করি এলাকায় যেতে। বাজারে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করি। হুমায়ুন চেয়ারম্যান ও তাঁর ভাই সানাউল্লাহ আমাদের কথা দিয়েছিলেন কোনো রকম ঝামেলা করবেন না। কিন্তু তারা তলে তলে পরিকল্পনা করে কাজটা করেছেন। ঘটনার সময় পুলিশ পাশে ছিল না; একটু দূরে ছিল। বাজারে ছিল পুলিশ; ঘটনা ঘটেছে নদীর পাড়ে। পুলিশ যাওয়ার আগেই তারা ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। আমি আশ^স্ত করেছিলাম ঠিকই। কিন্তু হুমায়ুন চেয়ারম্যান ও তার ভাই সানাউল্লাহ কথা না রাখার কারণে ঘটনা ঘটেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। অভিযোগের কপি জমা দিলে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।’ খুনিকে পাশে নিয়ে নবনির্বাচিত এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির এমন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এমপি আব্দুল মজিদকে মুঠোফোনে কল করা হলেও উনি রিসিভ করেননি। মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল আলম জানান, ‘আমি কোনো ব্যক্তিকে দেখে ঘটনাস্থলে যাইনি। নিজের দায়িত্ব মনে করে গিয়েছি। তবে অপরাধী যে-ই হোক, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। যেন আর কেউ অপরাধ করার সাহস না পায়।’

 

 

 

স/ম

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

এমপি ও আ.লীগ সভাপতির পাশে খুনের আসামি

আপডেট সময় : ০৩:০০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

কুমিল্লা-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি আব্দুল মজিদ দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছেন, পাশে সোফায় বসা মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল আলম। তাদের পেছনে বুকে হাত ভাঁজ করে দাঁড়ানো জেলা পরিষদ সদস্য আবদুল কাইয়ুম। চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নিজাম সরকার হত্যার প্রধান আসামি এই কাইয়ুম। তিনি এক পর্যায়ে এমপি আব্দুল মজিদের পাশের সোফায়ও বসেন। মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নে ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি খুন হওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত করতে গতকাল এমপি আব্দুল মজিদ জানান, ‘সারা দেশে মারামারি হয়, এ ধরনের ঘটনা ঘটে না। এই চালিভাঙ্গা ইউনিয়নে ৭ বছরে ৮টা খুন হয়েছে। ৮০-৯০টা ঘর ভেঙেচুরে শেষ, বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটে কি না সন্দেহ হয়। এটা দেখতে খারাপ লাগে। মামলা চলবে স্বাভাবিক নিয়মে। সঠিক বিচারের জন্য সেই ব্যবস্থা আমরা নেব। মিথ্যা মামলা দেওয়া যাবে না, সঠিক ব্যক্তিদের আসামি করবেন। শফিকুল আলম গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঈগল মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন। মামলা পরিচালনার জন্য আবদুল কাইয়ুমকে দায়িত্ব দিয়ে শফিকুল আলম জানান, ‘মামলাকে কেন্দ্র করে যেন আর কেউ খুন না হয়। কেউ যেন বাণিজ্য করতে না পারে, আক্রোশের বশবর্তী হয়ে যেন নিরীহ ও নিরপরাধী কাউকে আসামি না করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন চালিভাঙ্গায় কোম্পানির বালি ভরাটের নামে আধিপত্য বিস্তার বন্ধ না হবে, ততদিন এই দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আশা সম্ভব নয়।’ গত সোমবার মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা বাগ বাজারে পুলিশ মোতায়েন অবস্থায় প্রতিপক্ষের হামলায় কামরুল হাসান নামের এক যুবক নিহত ও ৮ জন আহত হয়। নিহত কামরুল চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগের সভাপতি। তিনি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি আব্দুল মজিদের নির্বাচনি এজেন্ট ছিলেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বালু ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। দেড় বছর আগে একটি কোম্পানির জায়গা ভরাট করেন চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নিজাম সরকার, জেলা পরিষদ সদস্য কাইয়ুম, গাফ্ফার সহ কয়েকজন। প্রায় ৬ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করে নিজের কাছে রেখে দেন কাইয়ুম। এ নিয়ে নিজাম সরকার ও কাইয়ুমের মধ্যে বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করে। একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও নিষ্পত্তি হয়নি। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বাগবাজারের কাছে চালিভাঙ্গা
ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নিজাম সরকারকে কুপিয়ে হত্যা করেন কাইয়ুম ও তার লোকজন। এ ঘটনায় জেলা পরিষদ সদস্য কাইয়ুমসহ ২৪ জনের নামে মামলা করেন নিহত নিজাম সরকারের ভাই টিটু সরকার। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয় ৫০-৬০ জনকে। প্রধান আসামি করা হয় জেলা পরিষদের সদস্য আবদুল কাইয়ুমকে। তিনি ‘শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদ’র উপজেলা সভাপতি।
নিজাম হত্যাকাণ্ডের পর কাইয়ুমকে তার কয়েকজন সহযোগী সহ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার অনুসারীরা আত্মগোপনে চলে যান। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন পূর্বে জামিন পেলেও প্রতিপক্ষের লোকজনের হামলার ভয়ে এলাকায় ঢুকতে পারছিলেন না কাইয়ুম। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিমা আহমদ মেরীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা চালান। নির্বাচনের তিন দিন আগে থেকে তিনি আব্দুল মজিদ এমপির পক্ষ নেন। নিজাম সরকার খুনের প্রধান আসামি কাইয়ুম নির্বাচনের সময় প্রকাশ্যে চালিভাঙ্গায় না থাকলেও নিহত কামরুলকে আব্দুল মজিদ এমপির এজেন্ট নিয়োগ দেন।
গত রোববার মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহা. দেলোয়ার হোসেন নিজাম সরকার হত্যা মামলার আসামিদের থানায় ডেকে নিয়ে এলাকায় যেতে বলেন এবং এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে রোববার রাত থেকে চালিভাঙ্গা বাজারে এসআই শরিফের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। সোমবার দুপুর থেকে নলচর, ফরাজিকান্দি, চালিভাঙ্গা গ্রামের কাইয়ুমের সমর্থকরা বাড়িঘরে ফেরার চেষ্টা করেন। দুপুর ১টার দিকে কিছু সমর্থক ট্রলারে এসে চালিভাঙ্গা বাজারে নামেন। তাদেরকে দেখে প্রতিপক্ষের লোকজনও জড়ো হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এতে আটজন আহত হয়। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে টেঁটাবিদ্ধ যুবলীগ নেতা কামরুল বিকালে মারা যান।’ এ বিষয়ে জেলা পরিষদ সদস্য আবদুল কাইয়ুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে কয়েক গ্রামের মানুষ এলাকায় যেতে পারছিল না। কুমিল্লা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ১০ জন পুলিশ চালিভাঙ্গায় একটি পুলিশ ক্যাম্প করে, যাতে এলাকায় নিশ্চিন্তে মানুষ ফিরতে পারে। গত রোববার মেঘনা থানার ওসি লোকজনকে ডেকে আশ^স্ত করেন, আপনারা এলাকায় যান, পুলিশ রয়েছে। ওনার কথায় মানুষ এলাকায় এলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত ছিল। তাদের সামনে হামলা হলেও কোনো ভুমিকা নেয়নি। পুলিশের গাফিলতির কারণে কামরুলকে মরতে হয়েছে। আর চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির মুঠোফোনে বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। বিকাল ৪টায় গ্রামে আসি। আমার ছোট ভাই টিটু কাইয়ুমের আব্বাকে লোকজন নিয়ে বাজারে ঘুরতে দেখলে গ্রামের সবাইকে ডাকে, পরবর্তীতে কী হয়েছে জানি না। মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহা, দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ও আমার সার্কেল এসপি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলি। যারা এলাকার বাইরে ছিল, তাদের আশ^স্ত করি এলাকায় যেতে। বাজারে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করি। হুমায়ুন চেয়ারম্যান ও তাঁর ভাই সানাউল্লাহ আমাদের কথা দিয়েছিলেন কোনো রকম ঝামেলা করবেন না। কিন্তু তারা তলে তলে পরিকল্পনা করে কাজটা করেছেন। ঘটনার সময় পুলিশ পাশে ছিল না; একটু দূরে ছিল। বাজারে ছিল পুলিশ; ঘটনা ঘটেছে নদীর পাড়ে। পুলিশ যাওয়ার আগেই তারা ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। আমি আশ^স্ত করেছিলাম ঠিকই। কিন্তু হুমায়ুন চেয়ারম্যান ও তার ভাই সানাউল্লাহ কথা না রাখার কারণে ঘটনা ঘটেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। অভিযোগের কপি জমা দিলে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।’ খুনিকে পাশে নিয়ে নবনির্বাচিত এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির এমন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এমপি আব্দুল মজিদকে মুঠোফোনে কল করা হলেও উনি রিসিভ করেননি। মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল আলম জানান, ‘আমি কোনো ব্যক্তিকে দেখে ঘটনাস্থলে যাইনি। নিজের দায়িত্ব মনে করে গিয়েছি। তবে অপরাধী যে-ই হোক, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। যেন আর কেউ অপরাধ করার সাহস না পায়।’

 

 

 

স/ম