০৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

রাখাইন রাজ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি ও মর্টারশেল নিক্ষেপ

বিজিপি সদস্যরা ফাঁড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন, মর্টাশেলের আঘাতে দুই বাংলাদেশী নিহত

মিয়ানমারের আরাকান ও রাখাইন এলাকায় উত্তেজনা থমছেনা। বিদ্রোহী আরকান আর্মি যোদ্ধাদের প্রতিহত করতে মিয়ানমার সামরিক জান্তা ও বিজিপি এক সাথে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গতকাল সোমবারও থেমে থেমে গোলাগুলি ও মর্টারশেল নিক্ষেপরে ঘটনা ঘটেছে। চলমান অঘোষিত যুদ্ধে হুমকীর মুখে রয়েছেন বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। ঘুমধুম , নাইক্ষ্যংছড়ি ও তুমব্রু সীমান্তবর্তী এলাকার বাংলাদেশীদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। গত রবিবার ও সােমবার তীব্র গোলাগুলির ঘটনায় আরকান আর্মির একচ্ছত্র হামলায় দাঁড়াতে না পেরে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের ৯৫ জন সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় বাংলাদেশে প্রবেশ করায় বিজিবি উদ্যোগে আহত বিজিপি সদস্যদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে কক্সবাজারসহ আশেপাশের হাসপাতালে। এদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্ট নির্র্ভরযোগ্য সূত্র। গতকাল সোমবার মিয়ানমারের বিমান বাহিনীর সদস্যরা বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার রাখাইনে হেলিকপ্টার নিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিজিপি সদস্যরা

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম জলপাইতলী সীমান্তে মিয়ানমারের মর্টার শেলে বাংলাদেশি এক নারী ও এক রোহিঙ্গা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বিদ্রোহী আরকান আর্মিরা গত দুই সপ্তাহের অধিক সময় ধরে চরম মারমুখি হয়ে হামলা অব্যাহত রাখায় সামরিক জান্তা ও বিজিপি সদস্যরা তাদের প্রতিহত করতে অভিযান শুরু করায় পুরো রাখাইন ও আরকান রাজ্যে যুদ্ধের মতো অবস্থা বিরাজ করছে। গতকাল সোমবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম হোসনে আরা (৫৫)। তিনি স্থানীয় বাদশা মিয়ার স্ত্রী বলে জানা গেছে।  তিনি ঘুমধুম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুরে বাড়ির পাশে ধান ক্ষেতে হোসনে আরা ও এক রোহিঙ্গা শ্রমিক কাজ করছিলেন। কাজ শেষে ক্ষেত সংলগ্ন বাড়িতে দুপুরের খাবার খেতে বসেন তারা। এ সময় মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেল এসে তাদের শরীরে আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই রোহিঙ্গা শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় হোসনে আরাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

নিহত ওই রোহিঙ্গা শ্রমিক হিসাবে ক্ষেতে কাজ করছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পালংখালীর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পালংখালী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। সোমবার সকালে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু সীমান্তে ২/৩টি গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন ঘুমধুম ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) আশিকুর রহমান বলেন, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির দুই সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়ছেন। এই বিজিপি সদস্যদের অবস্থা আশংকাজনক। বিজিপির চিকিৎসাধীন ওই দুই সদস্য হলেন—রি লি থাইন (২২) এবং জা নি মং (৩০)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, কক্সবাজার শহরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে আহত অবস্থায় বিদ্রোহী আরাকান আর্মির ছয় সদস্যকে ভর্তি করা হয়েছে। তারা রাত থেকে ভোরের মধ্যে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন বলে জানা গেছে।
আহতরা রাখাইন রাজ্যের বুচিডং, টাংগো এবং ম্রাউ এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ২৪, দুজন ২৩, একজন ২০ এবং বাকি একজন ২২ বছর বয়সী বলে জানা গেছে। মিয়ানমার বিজিপির ৯৫ সদস্য পালিয়ে এলেন বাংলাদেশে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠি আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বর্ডার গার্ড পুলিশ-বিজিপি) আরো ২৭ জন সদস্য  পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশে। এ নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিজিপি সদস্যের সংখ্যা দাঁড়াল ৯৫ জনে।

রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টায় ও সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ৮টা পর্যন্ত পালিয়ে আসার এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম দফায় আসা বিজিপির ৬৮ জন সদস্যের মধ্যে ১৫ জনের বেশি আহত। এর মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিজিবি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, রবিবার দিনভর বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) মধ্যে গোলাগুলি অব্যাহত ছিল। সংঘর্ষের জেরে রবিবার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বিজিপির ৯৫ জন সদস্য অস্ত্রসহ তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পরে তারা বিজিবির কাছে আশ্রয় চাইলে, বিজিবি তাদেরকে নিনরস্ত্র করে হেফাজতে রাখেন।
অন্যদিকে রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ২টা পর্যন্ত কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ধামনখালী সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরের ঢেঁকিবুনিয়া এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি ও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তেজনা থাকায় সাময়িক সময়ের জন্য সীমান্তবর্তী ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে জনগণের যাতায়াত সীমিত করার পাশাপাশি ঘুমধুম-তুমব্রু এলাকার বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে জনপ্রতিনিধিদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাখাইন রাজ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি ও মর্টারশেল নিক্ষেপ

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মিয়ানমারের আরাকান ও রাখাইন এলাকায় উত্তেজনা থমছেনা। বিদ্রোহী আরকান আর্মি যোদ্ধাদের প্রতিহত করতে মিয়ানমার সামরিক জান্তা ও বিজিপি এক সাথে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গতকাল সোমবারও থেমে থেমে গোলাগুলি ও মর্টারশেল নিক্ষেপরে ঘটনা ঘটেছে। চলমান অঘোষিত যুদ্ধে হুমকীর মুখে রয়েছেন বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। ঘুমধুম , নাইক্ষ্যংছড়ি ও তুমব্রু সীমান্তবর্তী এলাকার বাংলাদেশীদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। গত রবিবার ও সােমবার তীব্র গোলাগুলির ঘটনায় আরকান আর্মির একচ্ছত্র হামলায় দাঁড়াতে না পেরে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের ৯৫ জন সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় বাংলাদেশে প্রবেশ করায় বিজিবি উদ্যোগে আহত বিজিপি সদস্যদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে কক্সবাজারসহ আশেপাশের হাসপাতালে। এদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্ট নির্র্ভরযোগ্য সূত্র। গতকাল সোমবার মিয়ানমারের বিমান বাহিনীর সদস্যরা বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার রাখাইনে হেলিকপ্টার নিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিজিপি সদস্যরা

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম জলপাইতলী সীমান্তে মিয়ানমারের মর্টার শেলে বাংলাদেশি এক নারী ও এক রোহিঙ্গা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বিদ্রোহী আরকান আর্মিরা গত দুই সপ্তাহের অধিক সময় ধরে চরম মারমুখি হয়ে হামলা অব্যাহত রাখায় সামরিক জান্তা ও বিজিপি সদস্যরা তাদের প্রতিহত করতে অভিযান শুরু করায় পুরো রাখাইন ও আরকান রাজ্যে যুদ্ধের মতো অবস্থা বিরাজ করছে। গতকাল সোমবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম হোসনে আরা (৫৫)। তিনি স্থানীয় বাদশা মিয়ার স্ত্রী বলে জানা গেছে।  তিনি ঘুমধুম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুরে বাড়ির পাশে ধান ক্ষেতে হোসনে আরা ও এক রোহিঙ্গা শ্রমিক কাজ করছিলেন। কাজ শেষে ক্ষেত সংলগ্ন বাড়িতে দুপুরের খাবার খেতে বসেন তারা। এ সময় মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেল এসে তাদের শরীরে আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই রোহিঙ্গা শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় হোসনে আরাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

নিহত ওই রোহিঙ্গা শ্রমিক হিসাবে ক্ষেতে কাজ করছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পালংখালীর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পালংখালী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। সোমবার সকালে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু সীমান্তে ২/৩টি গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন ঘুমধুম ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) আশিকুর রহমান বলেন, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির দুই সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়ছেন। এই বিজিপি সদস্যদের অবস্থা আশংকাজনক। বিজিপির চিকিৎসাধীন ওই দুই সদস্য হলেন—রি লি থাইন (২২) এবং জা নি মং (৩০)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, কক্সবাজার শহরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে আহত অবস্থায় বিদ্রোহী আরাকান আর্মির ছয় সদস্যকে ভর্তি করা হয়েছে। তারা রাত থেকে ভোরের মধ্যে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন বলে জানা গেছে।
আহতরা রাখাইন রাজ্যের বুচিডং, টাংগো এবং ম্রাউ এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ২৪, দুজন ২৩, একজন ২০ এবং বাকি একজন ২২ বছর বয়সী বলে জানা গেছে। মিয়ানমার বিজিপির ৯৫ সদস্য পালিয়ে এলেন বাংলাদেশে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠি আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বর্ডার গার্ড পুলিশ-বিজিপি) আরো ২৭ জন সদস্য  পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশে। এ নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিজিপি সদস্যের সংখ্যা দাঁড়াল ৯৫ জনে।

রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টায় ও সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ৮টা পর্যন্ত পালিয়ে আসার এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম দফায় আসা বিজিপির ৬৮ জন সদস্যের মধ্যে ১৫ জনের বেশি আহত। এর মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিজিবি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, রবিবার দিনভর বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) মধ্যে গোলাগুলি অব্যাহত ছিল। সংঘর্ষের জেরে রবিবার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বিজিপির ৯৫ জন সদস্য অস্ত্রসহ তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পরে তারা বিজিবির কাছে আশ্রয় চাইলে, বিজিবি তাদেরকে নিনরস্ত্র করে হেফাজতে রাখেন।
অন্যদিকে রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ২টা পর্যন্ত কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ধামনখালী সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরের ঢেঁকিবুনিয়া এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি ও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তেজনা থাকায় সাময়িক সময়ের জন্য সীমান্তবর্তী ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে জনগণের যাতায়াত সীমিত করার পাশাপাশি ঘুমধুম-তুমব্রু এলাকার বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে জনপ্রতিনিধিদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।