১১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমার ইস্যুতে ভারতকে পাশে চায় বাংলাদেশ

 

♦  ভারত সফরে এ বিষয়ে আলোচনার আভাস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

♦  মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ঢাকার কড়া প্রতিবাদ

মিয়ানমারে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের যুদ্ধের জেরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সীমান্তে বিরাজ করছে টান টান উত্তেজনা। এমন অবস্থায় বাংলাদেশি নিরীহ নাগরিক সীমান্তের ওপার থেকে আসা মর্টারশেলের আঘাতে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় থাকা জনগণকে বাধ্য হয়ে সরিয়ে নিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এমন অবস্থায় সীমান্তের এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে পাশে চায় বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ভারত সফরকালে (ভারতের) পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। যেহেতু মিয়ানমার ভারতেরও প্রতিবেশী রাষ্ট্র, আমাদেরও প্রতিবেশী রাষ্ট্র। মিয়ানমার থেকে যাদের (রোহিঙ্গা) জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা সবসময় চেয়ে এসেছি। সুতরাং এ বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই আলোচিত হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতেই প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পূর্ব নির্ধারিত এ সফর তিনি এমন সময়ে শুরু করছেন যখন আরেক প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা বাংলাদেশের উপরও প্রভাব ফেলছে।
এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আসেন রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়ে। সেখানে তার সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশের অবস্থান তার সামনে তুলে ধরেন মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক মিয়া মো. মাইনুল কবির। প্রতিবাদ জানানো প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। এটা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য, সেটা আমরা জানিয়েছি। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত তার সরকারের কাছে আমাদের এই কড়া প্রতিবাদের বার্তাটা পৌঁছে দেবেন বলে জানিয়েছেন।
তাদের অভ্যন্তরীণ যে সংঘাত, সেটির কারণে আমাদের দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ, একই সঙ্গে সেখান থেকে গোলাবারুদ এসে আমাদের এখানে পড়া এবং আমাদের মানুষ আহত-নিহত হওয়া, এই পুরো জিনিসটা তাদেরকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা যেখানে কাজ করছি, সেই প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত, অনাকাক্সিক্ষত, অগ্রহণযোগ্য। এটা আমরা জানিয়েছি। সম্প্রতি মিয়ানমারের যারা বাংলাদেশে এসেছে, তাদের আকাশপথের পাশাপাশি নৌরুটেও ফেরানোর আলোচনা চলছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা তাদের নাগরিকদের নিয়ে যাবে, এই মর্মে তারা আমাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনায় আছে। কীভাবে নিয়ে যাবে- এখন পর্যন্ত তারা প্রেফার করছে নৌরুটে। রাষ্ট্রদূতকে তলব করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ব্রিফিংয়ে বলেন, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের ২২৯ জনের আসার খবর তারা পেয়েছেন। এরপর কেউ এসেছে কি না জানি না, আসার সম্ভাবনা আছে। তারা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং কয়েকজন আহত, তাদেরকে প্রাথমিকভাবে কক্সবাজার, পরে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভারত সফরে দিল্লীর পাশাপাশি কলকাতাতেও কর্মসূচি রয়েছে ড. হাছান মাহমুদের। শুক্রবার কলকাতা হয়ে ঢাকায় ফিরবেন তিনি। মিয়ানমার ইস্যুতে বিভিন্ন সূত্র জানায়, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের ক্ষমতা নেয় দেশটির সেনাবাহিনী। ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মিয়ানমারের তিনটি জাতিগত বিদ্রোহী বাহিনী একজোট হয়ে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করে। বাহিনীগুলো হলো- তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি-টিএনএলএ, আরাকান আর্মি-এএ এবং মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি-এমএনডিএএ। তারা শান, রাখাইন, চীন ও কেয়াহ রাজ্যে লড়াই চালাচ্ছে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সেনাপোস্ট দখল করে ইতোমধ্যে তারা সাফল্য দেখিয়েছে। আরাকান আর্মি (এএ) এ জোটের অন্যতম অংশ। মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনের সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীর এটি একটি সশস্ত্র বাহিনী। তারা রাখাইনের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির যুদ্ধ চলছে গত কয়েকদিন ধরেই। গত শনিবার রাতে বিদ্রোহীরা বিজিপির একটি ফাঁড়ি দখল করে নিলে রোববার সকালে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১৪ সদস্য। এরপর তিন দিনে সেই সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ২২৯ জনে পৌঁছেছে।
এই ২২৯ জনের মধ্যে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি), সেনাবাহিনী, ইমিগ্রেশন সদস্য, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা রয়েছেন। তাদের নিরস্ত্র করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। এদিকে, বিজিবির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, দুপুর পর্যন্ত ২৬৪ জনকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রাখাইনের বেশ কিছু চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষের মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় জড়ো হওয়ার তথ্য দিয়েছেন এপারে থাকা তাদের স্বজনরা।
ফলে নতুন করে মিয়ানমারের বেসামরিক নাগরিকদেরও অনুপ্রবেশ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
রাখাইনে সেনা ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের লড়াইয়ের প্রভাব পড়ছে সীমান্তের এপারের জনগোষ্ঠীর মধ্যেও। আতঙ্কে অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে থাকছেন। গত সোমবার দুপুরে মিয়ানমার থেকে আসা গোলায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী এলাকায় নারীসহ দুজন নিহত হন। ঘুমধুম ইউনিয়নের মধ্যমপাড়ায় গত মঙ্গলবার সকালেও একটি মর্টারশেল এসে পড়ে এক বাড়ির উঠানে। তবে সেখানে কেউ হতাহত হননি। স্থানীয়রা বলছেন, এখনো তারা গোলাগুলি ও মর্টারশেলের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে গুলি হচ্ছে; আবার বিদ্রোহীরাও পাল্টা গুলি চালাচ্ছে। মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে এর আগে বহু নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসেবে কক্সবাজারের ২৭টি ক্যাম্প এবং ভাসানচরে মোট নিবন্ধিত রোহিঙ্গা আছেন ৯ লাখ ৫০ হাজার ৯৭২ জন। আরো এক লাখ রোহিঙ্গা শিশু এখন নিবন্ধনের অপেক্ষায়। এর বাইরেও আগে আসা নিবন্ধিত রোহিঙ্গা আছেন প্রায় ৪০ হাজার। বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের কাছে এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তালিকা পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমার এর মধ্যে মাত্র ৩৭ হাজার ৭০০ জনকে মিয়ানমারের বলে নিশ্চিত করেছে।

 

 

 

 

স/ম

মিয়ানমার ইস্যুতে ভারতকে পাশে চায় বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০১:২৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

♦  ভারত সফরে এ বিষয়ে আলোচনার আভাস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

♦  মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ঢাকার কড়া প্রতিবাদ

মিয়ানমারে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের যুদ্ধের জেরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সীমান্তে বিরাজ করছে টান টান উত্তেজনা। এমন অবস্থায় বাংলাদেশি নিরীহ নাগরিক সীমান্তের ওপার থেকে আসা মর্টারশেলের আঘাতে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় থাকা জনগণকে বাধ্য হয়ে সরিয়ে নিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এমন অবস্থায় সীমান্তের এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে পাশে চায় বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ভারত সফরকালে (ভারতের) পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। যেহেতু মিয়ানমার ভারতেরও প্রতিবেশী রাষ্ট্র, আমাদেরও প্রতিবেশী রাষ্ট্র। মিয়ানমার থেকে যাদের (রোহিঙ্গা) জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা সবসময় চেয়ে এসেছি। সুতরাং এ বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই আলোচিত হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতেই প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পূর্ব নির্ধারিত এ সফর তিনি এমন সময়ে শুরু করছেন যখন আরেক প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা বাংলাদেশের উপরও প্রভাব ফেলছে।
এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আসেন রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়ে। সেখানে তার সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশের অবস্থান তার সামনে তুলে ধরেন মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক মিয়া মো. মাইনুল কবির। প্রতিবাদ জানানো প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। এটা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য, সেটা আমরা জানিয়েছি। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত তার সরকারের কাছে আমাদের এই কড়া প্রতিবাদের বার্তাটা পৌঁছে দেবেন বলে জানিয়েছেন।
তাদের অভ্যন্তরীণ যে সংঘাত, সেটির কারণে আমাদের দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ, একই সঙ্গে সেখান থেকে গোলাবারুদ এসে আমাদের এখানে পড়া এবং আমাদের মানুষ আহত-নিহত হওয়া, এই পুরো জিনিসটা তাদেরকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা যেখানে কাজ করছি, সেই প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত, অনাকাক্সিক্ষত, অগ্রহণযোগ্য। এটা আমরা জানিয়েছি। সম্প্রতি মিয়ানমারের যারা বাংলাদেশে এসেছে, তাদের আকাশপথের পাশাপাশি নৌরুটেও ফেরানোর আলোচনা চলছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা তাদের নাগরিকদের নিয়ে যাবে, এই মর্মে তারা আমাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনায় আছে। কীভাবে নিয়ে যাবে- এখন পর্যন্ত তারা প্রেফার করছে নৌরুটে। রাষ্ট্রদূতকে তলব করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ব্রিফিংয়ে বলেন, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের ২২৯ জনের আসার খবর তারা পেয়েছেন। এরপর কেউ এসেছে কি না জানি না, আসার সম্ভাবনা আছে। তারা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং কয়েকজন আহত, তাদেরকে প্রাথমিকভাবে কক্সবাজার, পরে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভারত সফরে দিল্লীর পাশাপাশি কলকাতাতেও কর্মসূচি রয়েছে ড. হাছান মাহমুদের। শুক্রবার কলকাতা হয়ে ঢাকায় ফিরবেন তিনি। মিয়ানমার ইস্যুতে বিভিন্ন সূত্র জানায়, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের ক্ষমতা নেয় দেশটির সেনাবাহিনী। ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মিয়ানমারের তিনটি জাতিগত বিদ্রোহী বাহিনী একজোট হয়ে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করে। বাহিনীগুলো হলো- তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি-টিএনএলএ, আরাকান আর্মি-এএ এবং মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি-এমএনডিএএ। তারা শান, রাখাইন, চীন ও কেয়াহ রাজ্যে লড়াই চালাচ্ছে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সেনাপোস্ট দখল করে ইতোমধ্যে তারা সাফল্য দেখিয়েছে। আরাকান আর্মি (এএ) এ জোটের অন্যতম অংশ। মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনের সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীর এটি একটি সশস্ত্র বাহিনী। তারা রাখাইনের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির যুদ্ধ চলছে গত কয়েকদিন ধরেই। গত শনিবার রাতে বিদ্রোহীরা বিজিপির একটি ফাঁড়ি দখল করে নিলে রোববার সকালে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১৪ সদস্য। এরপর তিন দিনে সেই সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ২২৯ জনে পৌঁছেছে।
এই ২২৯ জনের মধ্যে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি), সেনাবাহিনী, ইমিগ্রেশন সদস্য, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা রয়েছেন। তাদের নিরস্ত্র করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। এদিকে, বিজিবির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, দুপুর পর্যন্ত ২৬৪ জনকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রাখাইনের বেশ কিছু চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষের মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় জড়ো হওয়ার তথ্য দিয়েছেন এপারে থাকা তাদের স্বজনরা।
ফলে নতুন করে মিয়ানমারের বেসামরিক নাগরিকদেরও অনুপ্রবেশ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
রাখাইনে সেনা ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের লড়াইয়ের প্রভাব পড়ছে সীমান্তের এপারের জনগোষ্ঠীর মধ্যেও। আতঙ্কে অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে থাকছেন। গত সোমবার দুপুরে মিয়ানমার থেকে আসা গোলায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী এলাকায় নারীসহ দুজন নিহত হন। ঘুমধুম ইউনিয়নের মধ্যমপাড়ায় গত মঙ্গলবার সকালেও একটি মর্টারশেল এসে পড়ে এক বাড়ির উঠানে। তবে সেখানে কেউ হতাহত হননি। স্থানীয়রা বলছেন, এখনো তারা গোলাগুলি ও মর্টারশেলের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে গুলি হচ্ছে; আবার বিদ্রোহীরাও পাল্টা গুলি চালাচ্ছে। মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে এর আগে বহু নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসেবে কক্সবাজারের ২৭টি ক্যাম্প এবং ভাসানচরে মোট নিবন্ধিত রোহিঙ্গা আছেন ৯ লাখ ৫০ হাজার ৯৭২ জন। আরো এক লাখ রোহিঙ্গা শিশু এখন নিবন্ধনের অপেক্ষায়। এর বাইরেও আগে আসা নিবন্ধিত রোহিঙ্গা আছেন প্রায় ৪০ হাজার। বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের কাছে এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তালিকা পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমার এর মধ্যে মাত্র ৩৭ হাজার ৭০০ জনকে মিয়ানমারের বলে নিশ্চিত করেছে।

 

 

 

 

স/ম