১১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মানুষের মধ্যে রাজনীতি বিমুখতা বাড়ছে

 

✔  ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী রাজনীতিতে সম্পৃক্ততায় অনীহা বেশি

✔ বেসরকারি জরিপ মতে, প্রায় ৫৭ শতাংশ তরুণ রাজনীতিতে অনাগ্রহী

 

‘আমি কোনো রাজনীতি করি না, আগে রাজনীতি করলেও এখন ছেড়ে দিয়েছি’Ñ এমন বক্তব্য অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে রাজনীতি বিমুখতা যেন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ছাত্র সংগঠন এবং বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকের মাঝেই এই অনীহা বেশি দেখা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এমনকি একসময় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকলেও ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হচ্ছেন কেউ কেউ। রাজনীতিতে সমাজের জ্ঞানী-গুণী ও ভালো মানুষ হিসেবে স্বীকৃতদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া, গ্রেপ্তার-নির্যাতনসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা, সবার গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের অনীহা দেখা দিচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে টানা চার মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি এবং তাদের সমমনা বা রাজপথের বিরোধী দলগুলোর সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে দলীয় রাজনীতির প্রতি অনীহা বা আস্থাহীনতা দেখা দিচ্ছে। যে কারণে বিভিন্ন সময়ে কেউ কেউ দলত্যাগ বা নিষ্ক্রিয় হচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অপরদিকে রাজনীতিতে দুর্বৃত্ত এবং বিভিন্নভাবে ক্ষমতা বা সম্পদ লোভীদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সক্রিয়দের একটি অংশ ধর্মীয় বা আদর্শিক কারণে এবং বাকি অংশ সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদে সুবিধালাভের আশায় থাকেন।
সূত্রমতে, দেশের তরুণদের মাঝে রাজনৈতিক অনীহা সবচেয়ে বেশি। যে কারণে এখন শিক্ষাঙ্গনগুলোতে ছাত্ররাজনীতিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ খুব কম। কর্মজীবনেও যার প্রভাব পড়ছে। রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন এমনকি বিভিন্ন ভোটের সময় সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের কেন্দ্রে হাজির করতেও নেতাদের আর্থিক খরচসহ নানা তৎপরতায় বেশ ঘাম ঝরাতে হয়। রাজনীতির সঙ্গে স্পৃক্ততার পরিবর্তে বেশিরভাগ মানুষ নির্ঝঞ্ঝাটে ব্যক্তি বা পরিবারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হচ্ছেন। যদিও চাকরি প্রত্যাশীদের বড় একটি অংশ নানাভাবে ক্ষমতাসীন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়।
গত বছর বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপমতে, দেশের প্রায় ৫৭ শতাংশ তরুণ রাজনীতির প্রতি অনাগ্রহী। এছাড়া তিন বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে নেতিবাচক মূল্যায়ন বেড়েছে বলে
এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে। গত বছর এশিয়া ফাউন্ডেশন ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পরিচালিত ওই সমীক্ষা বলছে, বেশিরভাগ মানুষ মনে করছে যে, দেশের সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতি ‘ভুল’ পথে চলছে। ‘দ্য স্টেট অব বাংলাদেশ’স পলিটিক্যাল, গভর্নাল, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সোসাইটি’ শিরোনামের একই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও। সর্বশেষ ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৬৪টি জেলার ১০ হাজার ২৪০ জন মানুষের উপর ওই সমীক্ষা পরিচালিত হয়। তাতে দেখা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতি সঠিক পথে চলছে এমন ধারণা পোষণ করে ৩৯ শতাংশ মানুষ, যেখানে ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ। সবশেষ সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৪৮ শতাংশ মনে করেÑ রাজনীতিতে দেশ ভুল পথে চলছে; অথচ তিন বছর আগে এমন মনোভাব পোষণকারী ছিল ৩১ শতাংশ। রাজনীতি সঠিক পথে চলছে কি না এ প্রশ্নের উত্তরে ১১ শতাংশ মানুষ বলেছে, ‘জানি না’; বাকি ৩ শতাংশ মানুষ কোনো উত্তর দেয়নি। রাজনীতির প্রতি মানুষের অনীহা বাড়ার কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া সবুজ বাংলাকে বলেন, অতীতের মতো রাজনীতির ধারা এখন নেই। একসময় সমাজের প্রসিদ্ধ, জ্ঞান-গুণী ও অভিজাত মানুষ রাজনীতিতে আসতেন। বাংলাদেশেও এই ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু এখন রাজনৈতিক অঙ্গন খুবই দূষিত হয়ে গেছে। এখন রাজনীতিতে আসতে ভালো মানুষ কালিমালিপ্তের ভয় পান। অন্যদিকে দুর্বৃত্ত ও যারা ওই পথে চলাচল করে তারাই রাজনীতিতে বেশি আসতে চায়। তারাও চাচ্ছে না যে, ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসুক। সমাজের বর্তমান অবস্থার পেছনে বড় কারণÑজ্ঞানীদের মূল্যায়ন নেই। সত্যের দাম নেই। জ্ঞানীরা জেনেশুনে সত্য গোপন করতে পারেন না। তারা সমাজের মঙ্গল চান। সমাজের প্রকৃত অর্জনের জন্য দেহগত অর্জনের পরিবর্তে মানসিক অর্জন এবং মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া।
গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর একটি প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা গেছে- নব নির্বাচিত ২৯৯ এমপির প্রায় ৬৭ শতাংশ ব্যবসায়ী এবং প্রায় ৯০ শতাংশই কোটিপতি। রাজনীতিবিদ রয়েছেন ২৭ জন, যা নির্বাচিতদের ৯ শতাংশ। আইনজীবী নির্বাচিত হয়েছেন ২৪ জন বা ৮ শতাংশ। এ ছাড়া কৃষি খাতে আয় করেন এমন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ১৪ জন, চিকিৎসক ১২ জন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ৬ জন এবং শিক্ষক আছেন ৫ জন।
রাজনীতিতে রাজনীতিবিদের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের এই আধিখ্যতা বা নিয়ন্ত্রণকে দেশের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মুহা. হাছানাত আলী। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রসংসদ চালুসহ সুস্থ ছাত্ররাজনীতিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

 

 

 

স/ম

মানুষের মধ্যে রাজনীতি বিমুখতা বাড়ছে

আপডেট সময় : ১২:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

✔  ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী রাজনীতিতে সম্পৃক্ততায় অনীহা বেশি

✔ বেসরকারি জরিপ মতে, প্রায় ৫৭ শতাংশ তরুণ রাজনীতিতে অনাগ্রহী

 

‘আমি কোনো রাজনীতি করি না, আগে রাজনীতি করলেও এখন ছেড়ে দিয়েছি’Ñ এমন বক্তব্য অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে রাজনীতি বিমুখতা যেন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ছাত্র সংগঠন এবং বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকের মাঝেই এই অনীহা বেশি দেখা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এমনকি একসময় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকলেও ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হচ্ছেন কেউ কেউ। রাজনীতিতে সমাজের জ্ঞানী-গুণী ও ভালো মানুষ হিসেবে স্বীকৃতদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া, গ্রেপ্তার-নির্যাতনসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা, সবার গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের অনীহা দেখা দিচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে টানা চার মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি এবং তাদের সমমনা বা রাজপথের বিরোধী দলগুলোর সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে দলীয় রাজনীতির প্রতি অনীহা বা আস্থাহীনতা দেখা দিচ্ছে। যে কারণে বিভিন্ন সময়ে কেউ কেউ দলত্যাগ বা নিষ্ক্রিয় হচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অপরদিকে রাজনীতিতে দুর্বৃত্ত এবং বিভিন্নভাবে ক্ষমতা বা সম্পদ লোভীদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সক্রিয়দের একটি অংশ ধর্মীয় বা আদর্শিক কারণে এবং বাকি অংশ সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদে সুবিধালাভের আশায় থাকেন।
সূত্রমতে, দেশের তরুণদের মাঝে রাজনৈতিক অনীহা সবচেয়ে বেশি। যে কারণে এখন শিক্ষাঙ্গনগুলোতে ছাত্ররাজনীতিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ খুব কম। কর্মজীবনেও যার প্রভাব পড়ছে। রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন এমনকি বিভিন্ন ভোটের সময় সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের কেন্দ্রে হাজির করতেও নেতাদের আর্থিক খরচসহ নানা তৎপরতায় বেশ ঘাম ঝরাতে হয়। রাজনীতির সঙ্গে স্পৃক্ততার পরিবর্তে বেশিরভাগ মানুষ নির্ঝঞ্ঝাটে ব্যক্তি বা পরিবারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হচ্ছেন। যদিও চাকরি প্রত্যাশীদের বড় একটি অংশ নানাভাবে ক্ষমতাসীন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়।
গত বছর বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপমতে, দেশের প্রায় ৫৭ শতাংশ তরুণ রাজনীতির প্রতি অনাগ্রহী। এছাড়া তিন বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে নেতিবাচক মূল্যায়ন বেড়েছে বলে
এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে। গত বছর এশিয়া ফাউন্ডেশন ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পরিচালিত ওই সমীক্ষা বলছে, বেশিরভাগ মানুষ মনে করছে যে, দেশের সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতি ‘ভুল’ পথে চলছে। ‘দ্য স্টেট অব বাংলাদেশ’স পলিটিক্যাল, গভর্নাল, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সোসাইটি’ শিরোনামের একই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও। সর্বশেষ ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৬৪টি জেলার ১০ হাজার ২৪০ জন মানুষের উপর ওই সমীক্ষা পরিচালিত হয়। তাতে দেখা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতি সঠিক পথে চলছে এমন ধারণা পোষণ করে ৩৯ শতাংশ মানুষ, যেখানে ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ। সবশেষ সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৪৮ শতাংশ মনে করেÑ রাজনীতিতে দেশ ভুল পথে চলছে; অথচ তিন বছর আগে এমন মনোভাব পোষণকারী ছিল ৩১ শতাংশ। রাজনীতি সঠিক পথে চলছে কি না এ প্রশ্নের উত্তরে ১১ শতাংশ মানুষ বলেছে, ‘জানি না’; বাকি ৩ শতাংশ মানুষ কোনো উত্তর দেয়নি। রাজনীতির প্রতি মানুষের অনীহা বাড়ার কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া সবুজ বাংলাকে বলেন, অতীতের মতো রাজনীতির ধারা এখন নেই। একসময় সমাজের প্রসিদ্ধ, জ্ঞান-গুণী ও অভিজাত মানুষ রাজনীতিতে আসতেন। বাংলাদেশেও এই ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু এখন রাজনৈতিক অঙ্গন খুবই দূষিত হয়ে গেছে। এখন রাজনীতিতে আসতে ভালো মানুষ কালিমালিপ্তের ভয় পান। অন্যদিকে দুর্বৃত্ত ও যারা ওই পথে চলাচল করে তারাই রাজনীতিতে বেশি আসতে চায়। তারাও চাচ্ছে না যে, ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসুক। সমাজের বর্তমান অবস্থার পেছনে বড় কারণÑজ্ঞানীদের মূল্যায়ন নেই। সত্যের দাম নেই। জ্ঞানীরা জেনেশুনে সত্য গোপন করতে পারেন না। তারা সমাজের মঙ্গল চান। সমাজের প্রকৃত অর্জনের জন্য দেহগত অর্জনের পরিবর্তে মানসিক অর্জন এবং মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া।
গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর একটি প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা গেছে- নব নির্বাচিত ২৯৯ এমপির প্রায় ৬৭ শতাংশ ব্যবসায়ী এবং প্রায় ৯০ শতাংশই কোটিপতি। রাজনীতিবিদ রয়েছেন ২৭ জন, যা নির্বাচিতদের ৯ শতাংশ। আইনজীবী নির্বাচিত হয়েছেন ২৪ জন বা ৮ শতাংশ। এ ছাড়া কৃষি খাতে আয় করেন এমন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ১৪ জন, চিকিৎসক ১২ জন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ৬ জন এবং শিক্ষক আছেন ৫ জন।
রাজনীতিতে রাজনীতিবিদের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের এই আধিখ্যতা বা নিয়ন্ত্রণকে দেশের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মুহা. হাছানাত আলী। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রসংসদ চালুসহ সুস্থ ছাত্ররাজনীতিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

 

 

 

স/ম