ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অভিযান চলছে চার মাসেরও বেশি সময় ধরে। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিরতির চেষ্টায় নানামুখী আলোচনা চললেও এখনো তা সম্ভব হয়নি।
আর এই পরিস্থিতিতে গাজা ইস্যুতে আলোচনায় গোপনে ইসরায়েল সফরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান উইলিয়াম বার্নস। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম বার্নস বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার জন্য অঘোষিত সফরে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন বলে স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে।
ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইসরায়েলে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার সঙ্গে দেখা করেন বার্নস।
তার এই সফরের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ইয়েদিওথ আহরনোথ সংবাদপত্র বলেছে, হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মিসরে নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল পাঠাতে নেতানিয়াহু অস্বীকৃতি জানানোর পর উইলিয়াম বার্নস ইসরায়েলে আসেন।
তবে সংবাদপত্রের এই রিপোর্টের বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আনাদোলু বলছে, ইসরায়েল, মিসর, কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার কায়রোতে গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি বৈঠক করেছেন।
গত সপ্তাহে গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য একটি তিন-স্তরের পরিকল্পনা প্রস্তাব করে হামাস। তবে নেতানিয়াহু হামাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘বিজয়’ না হওয়া পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইসরায়েল বিশ্বাস করে, গাজায় এখনো ১৩৪ ইসরায়েলি বন্দি রয়েছেন। এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গত সোমবার দক্ষিণ গাজা উপত্যকার রাফাহ শহর থেকে দুই বন্দিকে মুক্ত করতে সক্ষম হওয়ার দাবি করে।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণের ফলে অন্তত ২৮ হাজার ৬৬৩ জন নিহত হয়েছে। যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো ৬৮ হাজারেরও বেশি মানুষ।
মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সবাই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া চলমান আগ্রাসনে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
স/মিফা

























