১২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেষ প্রান্তে কুমিল্লাকে সিলেটের ধাক্কা

শেষ বলে সীমানায় আন্দ্রে রাসেলের ক্যাচ নিয়ে গ্যালারির দিকে তাকিয়ে মুখে আঙুল দিয়ে কুমিল্লার সমর্থকদের চুপ করিয়ে দেওয়ার ভঙ্গি করলেন ইয়াসির আলি। তার সতীর্থরা তখন মাঠে মেতে উঠেছে উদযাপনে। তাদের ডাগআউটে তখন চলছে খ্যাপাটে উদযাপন। টুর্নামেন্টে তাদের মূল চাওয়া-পাওয়ার পালা চুকে গেছে আগেই। কিন্তু সবার উল্লাসই বলে দিচ্ছিল, এই জয়ের ওজন কতটা। চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে জয় বলে কথা!

শক্তি-সামর্থ্যে দুই দলের পার্থক্য বিশাল ছিল আগে থেকে। এই ম্যাচে সেই ব্যবধান আকাশ-পাতাল হয়ে ওঠে কুমিল্লা আন্দ্রে রাসেল ও সুনিল নারাইনকে পাওয়ায়। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটে সিলেট ঘুচিয়ে দিল সেই ব্যবধান। কুমিল্লার অধিনায়ক লিটন কুমার দাস যদিও খেললেন ক্যারিয়া সেরা ইনিংস। কিন্তু ম্যাচ জয়ের হাসি মোহাম্মদ মিঠুন ও তার দলের। বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ১২ রানে হারাল সিলেট স্ট্রাইকার্স। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে সোমবার সিলেটের ১৭৭ রান তাড়ায় কুমিল্লা যেতে পারে ১৬৫ পর্যন্ত।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই হোঁচট খায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলটির হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস। ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই এ জুটিতে আঘাত হানেন সামিত প্যাটেল। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে প্যাটেলের ওপর চড়াও হতে গিয়ে কেনার লুইসের তালুবন্দি হন কায়েস। আউট হওয়ার আগে ৩ রান করেন তিনি। তিনে নেমে উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি তাওহিদ হৃদয় (১৭)। চারে নেমে বেশ ভুগেছেন জনসন চার্লস। ২১ বলে ১২ রান করা এই ক্যারিবিয়ানকে মুক্তি দিয়েছেন শফিকুল ইসলাম। সিলেটের এই পেসার দুর্দান্ত ছিলেন। মূলত তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই মাঝের ওভারগুলোতে রানের চাকা টেনে ধরে সিলেট। মিডল অর্ডারে ব্যর্থ ছিলেন মঈন আলি। এক প্রান্তে ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মধ্যেও আরেক প্রান্তে দুর্দান্ত ছিলেন লিটন। এই ওপেনার সময়মতো গিয়ার পরিবর্তন করতে পারেননি। ফলে শেষ দিকে চাপ বেড়েছে। সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকা লিটনকে বোল্ড করেন সাকিব, এতে ৮৫ রানে সাজঘরে ফেরেন এ ব্যাটার। তার বিদায়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় কুমিল্লা। শেষদিকে স্রেফ হারের ব্যবধান কমিয়েছেন আন্দ্রে রাসেল।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন সিলেট স্ট্রাইকার্স অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। উদ্বোধনে নামেন কেনার লুইস ও জাকির হাসানের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু পায় দলটি। ষষ্ঠ ওভারে জাকির হাসানকে সাজঘরে ফেরান সুনীল নারিন। আউট হওয়ার আগে ১৮ করেন তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার সঙ্গে ২৭ রানে জুটি গড়েন লুইস। মুশফিক হাসানের বলে জনসন চার্লসের তালুবন্দি হন লুইস, ভেঙে যায় তাদের জুটি। এর পরেই উইকেট বিলিয়ে দেন শান্ত (১২)। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন ইয়াসির রাব্বিও (২)। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে সিলেট। এতে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে কুমিল্লা। চাপ সামলে মিথুনের সঙ্গে বড় জুটি গড়েন বেনি হাওয়েল। ধ্বংস্তূপে দাঁড়িয়ে ৭৭ রানের জুটি গড়েন মিথুন-হাওয়েল। তবে মিথুনের (২৮) বিদায়ে ভেঙে যায় তাদের জুটিটি। সঙ্গীকে হারালেও ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়ে যান হাওয়েল। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন হাওয়েল। তার ব্যাটে ভর করেই ১৭৭ রান থামে সিলেটের ইনিংস। কুমিল্লার হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট শিকার করেন রিশাদ ও নারিন।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
সিলেট স্ট্রাইকার্স : ২০ ওভারে ১৭৭/৫ (লুইস ৩৩, জাকির ১৮, শান্ত ১২, ইয়াসির ২, মিঠুন ২০, হাওয়েল ৬২*, আরিফুল ৭*; রাসেল ৪-০-৩৫-০, মইন ২-০-১৩-০, আলিস ৩-০-৩৮-০, নারাইন ৪-১-১৬-২, মুশফিক ৪-০-৩২-২, রিশাদ ৩-০-৩৭-২)।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স : ২০ ওভারে ১৬৫/৬ (ইমরুল ৩, লিটন ৮৫, হৃদয় ১৭, চার্লস ১২, মইন ০, রাসেল ২৩*, জাকের ৭*; আরিফুল ২-০-৩৬-০, সামিত ৪-০-১৫-১, শফিকুল ৪-০-১৮-১, সানজামুল ৩-০-২৫-০, তানজিম ৩-০-৩৩-৩, হাওয়েল ৪-০-৩৬-১)। ফল : সিলেট স্ট্রাইকার্স ১২ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : বেনি হাওয়েল।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে আল হাবিব ইন্টা.ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাঝে বই বিতরণ

শেষ প্রান্তে কুমিল্লাকে সিলেটের ধাক্কা

আপডেট সময় : ০৮:৫০:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

শেষ বলে সীমানায় আন্দ্রে রাসেলের ক্যাচ নিয়ে গ্যালারির দিকে তাকিয়ে মুখে আঙুল দিয়ে কুমিল্লার সমর্থকদের চুপ করিয়ে দেওয়ার ভঙ্গি করলেন ইয়াসির আলি। তার সতীর্থরা তখন মাঠে মেতে উঠেছে উদযাপনে। তাদের ডাগআউটে তখন চলছে খ্যাপাটে উদযাপন। টুর্নামেন্টে তাদের মূল চাওয়া-পাওয়ার পালা চুকে গেছে আগেই। কিন্তু সবার উল্লাসই বলে দিচ্ছিল, এই জয়ের ওজন কতটা। চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে জয় বলে কথা!

শক্তি-সামর্থ্যে দুই দলের পার্থক্য বিশাল ছিল আগে থেকে। এই ম্যাচে সেই ব্যবধান আকাশ-পাতাল হয়ে ওঠে কুমিল্লা আন্দ্রে রাসেল ও সুনিল নারাইনকে পাওয়ায়। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটে সিলেট ঘুচিয়ে দিল সেই ব্যবধান। কুমিল্লার অধিনায়ক লিটন কুমার দাস যদিও খেললেন ক্যারিয়া সেরা ইনিংস। কিন্তু ম্যাচ জয়ের হাসি মোহাম্মদ মিঠুন ও তার দলের। বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ১২ রানে হারাল সিলেট স্ট্রাইকার্স। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে সোমবার সিলেটের ১৭৭ রান তাড়ায় কুমিল্লা যেতে পারে ১৬৫ পর্যন্ত।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই হোঁচট খায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলটির হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস। ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই এ জুটিতে আঘাত হানেন সামিত প্যাটেল। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে প্যাটেলের ওপর চড়াও হতে গিয়ে কেনার লুইসের তালুবন্দি হন কায়েস। আউট হওয়ার আগে ৩ রান করেন তিনি। তিনে নেমে উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি তাওহিদ হৃদয় (১৭)। চারে নেমে বেশ ভুগেছেন জনসন চার্লস। ২১ বলে ১২ রান করা এই ক্যারিবিয়ানকে মুক্তি দিয়েছেন শফিকুল ইসলাম। সিলেটের এই পেসার দুর্দান্ত ছিলেন। মূলত তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই মাঝের ওভারগুলোতে রানের চাকা টেনে ধরে সিলেট। মিডল অর্ডারে ব্যর্থ ছিলেন মঈন আলি। এক প্রান্তে ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মধ্যেও আরেক প্রান্তে দুর্দান্ত ছিলেন লিটন। এই ওপেনার সময়মতো গিয়ার পরিবর্তন করতে পারেননি। ফলে শেষ দিকে চাপ বেড়েছে। সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকা লিটনকে বোল্ড করেন সাকিব, এতে ৮৫ রানে সাজঘরে ফেরেন এ ব্যাটার। তার বিদায়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় কুমিল্লা। শেষদিকে স্রেফ হারের ব্যবধান কমিয়েছেন আন্দ্রে রাসেল।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন সিলেট স্ট্রাইকার্স অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। উদ্বোধনে নামেন কেনার লুইস ও জাকির হাসানের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু পায় দলটি। ষষ্ঠ ওভারে জাকির হাসানকে সাজঘরে ফেরান সুনীল নারিন। আউট হওয়ার আগে ১৮ করেন তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার সঙ্গে ২৭ রানে জুটি গড়েন লুইস। মুশফিক হাসানের বলে জনসন চার্লসের তালুবন্দি হন লুইস, ভেঙে যায় তাদের জুটি। এর পরেই উইকেট বিলিয়ে দেন শান্ত (১২)। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন ইয়াসির রাব্বিও (২)। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে সিলেট। এতে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে কুমিল্লা। চাপ সামলে মিথুনের সঙ্গে বড় জুটি গড়েন বেনি হাওয়েল। ধ্বংস্তূপে দাঁড়িয়ে ৭৭ রানের জুটি গড়েন মিথুন-হাওয়েল। তবে মিথুনের (২৮) বিদায়ে ভেঙে যায় তাদের জুটিটি। সঙ্গীকে হারালেও ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়ে যান হাওয়েল। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন হাওয়েল। তার ব্যাটে ভর করেই ১৭৭ রান থামে সিলেটের ইনিংস। কুমিল্লার হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট শিকার করেন রিশাদ ও নারিন।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
সিলেট স্ট্রাইকার্স : ২০ ওভারে ১৭৭/৫ (লুইস ৩৩, জাকির ১৮, শান্ত ১২, ইয়াসির ২, মিঠুন ২০, হাওয়েল ৬২*, আরিফুল ৭*; রাসেল ৪-০-৩৫-০, মইন ২-০-১৩-০, আলিস ৩-০-৩৮-০, নারাইন ৪-১-১৬-২, মুশফিক ৪-০-৩২-২, রিশাদ ৩-০-৩৭-২)।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স : ২০ ওভারে ১৬৫/৬ (ইমরুল ৩, লিটন ৮৫, হৃদয় ১৭, চার্লস ১২, মইন ০, রাসেল ২৩*, জাকের ৭*; আরিফুল ২-০-৩৬-০, সামিত ৪-০-১৫-১, শফিকুল ৪-০-১৮-১, সানজামুল ৩-০-২৫-০, তানজিম ৩-০-৩৩-৩, হাওয়েল ৪-০-৩৬-১)। ফল : সিলেট স্ট্রাইকার্স ১২ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : বেনি হাওয়েল।