০৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাবিতে কোরআনের আসর অনুমতি না নেওয়ায় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের চিঠি

 

 

গত ১০ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় ‘আল কোরআন রিসাইটেশন প্রোগ্রাম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল আরবি সাহিত্য পরিষদ নামে একটি সংগঠন। ‘অনুমতি না নিয়ে’ অনুষ্ঠান করায় তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না জানতে চেয়ে আরবি বিভাগের প্রধানকে চিঠি দিয়েছে কলা অনুষদ ডিনের অফিস। ১৩ মার্চ কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আব্দুল বাছির স্বাক্ষরিত চিঠিটি পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, কলা অনুষদ ও প্রক্টর অফিসের নিয়মনীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে আপনার বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠন আরবি সাহিত্য পরিষদ গত ১০ মার্চ কলাভবনের বটতলা প্রাঙ্গণে একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করে। পূর্বানুমতি না নিয়ে এ ধরনের আয়োজনে কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এ বিষয়ে আপনাকে লিখিত বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির বলেন, ‘আমরা অনলাইনের মাধ্যমে প্রোগ্রামের বিষয়ে জানতে পারি। প্রক্টর সাহেব আমাকে ছবিটা পাঠিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও অবহিত আছে। পরে চেয়ারম্যান মহোদয়কে ডাকলাম, তিনি মৌখিকভাবে বললেন তারা তো আমাদের শিক্ষার্থী, মনে হয় না। এমন সংগঠন তার বিভাগে নেই। তখন আমাদের মনে হলো তারা বহিরাগত কি না তাহলে তো আমার প্রশাসনকে জানাতে হবে। মৌখিকভাবে যে কথাটা বলেছেন সেটা লিখিত দিলে আমার জন্য সুবিধা হয় ওইটুকু অনুরোধ করা হয়েছে। আর কিছু না।’

তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেবের চিঠি পেলে আমি প্রক্টর সাহেবকে দিয়ে দেব, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি মেনে কী করবে আমি জানি না।’ তিনি আরও বলেন, আরবি সাহিত্য পরিষদ হওয়ায় আরবি বিভাগের সম্পর্কিত হতে পারে। সেজন্য আরবি বিভাগের প্রধানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে। আর পলিটিকাল অর্গানাইজেশনগুলো প্রোগ্রাম প্রক্টর অফিস দেখে। অন্য প্রোগ্রাম হলে ডিন অফিসকে জানায়। তারা অনুমতি না নেওয়ার বিষয়টি জানাতে হবে না হলে প্রশাসন তো অন্ধকারে থাকে, কে আয়োজন করল।

এ দিকে আরবি সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ও আরবি বিভাগের ছাত্র আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা এর আগে শবে বরাতের প্রোগ্রাম করেছিলাম। সে সময় প্রক্টর অফিসে গেলে তারা এটা কলা অনুষদের অধীন হওয়ায় ডিন অফিসের অনুমতি নিতে বলে। ডিন অফিসে গেলে কর্মকর্তা আকতার হোসেন আমাদের বলেন, তারা সাধারণত অনুমতি দেন না। তখন প্রক্টর অফিসের অনুমতি নিতে বলা হয়। পরে আমরা ভেবেছি আমাদের কেউ বললে তখন জবাব দেব। প্রোগ্রাম করি, তাই করেছি। আর এখানে অনেকেই প্রোগ্রাম করে অনুমতি ছাড়াই।’

ডিন অফিস থেকে কোনো প্রোগ্রামের জন্য অনুমতি দেওয়া হয় কি না জানতে চাইলে ডিন অফিসের সিনিয়র সহকারী রেজিস্ট্রার আকতার হোসেন বলেন, এ ধরনের অনুমতির বিষয় তো প্রক্টর অফিস হয়েই আসে।

এর আগে, ৫ মার্চ বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কাউন্সিল উদ্বোধনের অনুষ্ঠান হয়েছিল। জানতে চাইলে সংগঠনের আহ্বায়ক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, এগুলোর অনুমতি লাগে না তো। এমনিতে কাউন্সিল হলে অনেককেই আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়, তখন প্রক্টর অফিসেও দেওয়া হয়েছিল। এটা বিশেষ কিছু না। এ ধরনের প্রোগ্রামের জন্য কখনো অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না। এটা তো রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ।

এ দিকে আরবি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জুবায়ের মোহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, ‘আমাকে ডিন স্যার একটি ছবি দেখিয়েছেন, এটা পেছন দিক থেকে তোলা। কাউকে শনাক্ত করা যায় না। আর বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে জেলা, উপজেলা বা সাংস্কৃতিক সংগঠন করে। এটা তাদের ব্যক্তিগত। তারা যদি ঠিক করুক বা ভুল, এটা বিভাগের চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞেস করার বিষয় নয়। কারণ প্রোগ্রাম চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে অথবা বিভাগে হয়নি। তারা আমার বিভাগের ছাত্র হতে পারে। আমি তো তাদের চিনতে পারার কথা নয়।’

আরবি বিভাগের প্রধান আরো বলেন, ‘ধরে নিলাম অনুমতি না নিয়ে ছাত্ররা কুরআন তেলাওয়াতের আয়োজন করেছে, এটা নিয়ে এত ঘাঁটাঘাঁটি করার কী কারণ থাকতে পারে, এটা একটা প্রশ্ন। তাদের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্নকারী হবে। যাই হোক, আমি শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে চিঠির উত্তর দেব।’

জনপ্রিয় সংবাদ

বেগম খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনায় ইবি ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল

ঢাবিতে কোরআনের আসর অনুমতি না নেওয়ায় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের চিঠি

আপডেট সময় : ০৭:২৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মার্চ ২০২৪

 

 

গত ১০ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় ‘আল কোরআন রিসাইটেশন প্রোগ্রাম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল আরবি সাহিত্য পরিষদ নামে একটি সংগঠন। ‘অনুমতি না নিয়ে’ অনুষ্ঠান করায় তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না জানতে চেয়ে আরবি বিভাগের প্রধানকে চিঠি দিয়েছে কলা অনুষদ ডিনের অফিস। ১৩ মার্চ কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আব্দুল বাছির স্বাক্ষরিত চিঠিটি পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, কলা অনুষদ ও প্রক্টর অফিসের নিয়মনীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে আপনার বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠন আরবি সাহিত্য পরিষদ গত ১০ মার্চ কলাভবনের বটতলা প্রাঙ্গণে একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করে। পূর্বানুমতি না নিয়ে এ ধরনের আয়োজনে কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এ বিষয়ে আপনাকে লিখিত বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির বলেন, ‘আমরা অনলাইনের মাধ্যমে প্রোগ্রামের বিষয়ে জানতে পারি। প্রক্টর সাহেব আমাকে ছবিটা পাঠিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও অবহিত আছে। পরে চেয়ারম্যান মহোদয়কে ডাকলাম, তিনি মৌখিকভাবে বললেন তারা তো আমাদের শিক্ষার্থী, মনে হয় না। এমন সংগঠন তার বিভাগে নেই। তখন আমাদের মনে হলো তারা বহিরাগত কি না তাহলে তো আমার প্রশাসনকে জানাতে হবে। মৌখিকভাবে যে কথাটা বলেছেন সেটা লিখিত দিলে আমার জন্য সুবিধা হয় ওইটুকু অনুরোধ করা হয়েছে। আর কিছু না।’

তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেবের চিঠি পেলে আমি প্রক্টর সাহেবকে দিয়ে দেব, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি মেনে কী করবে আমি জানি না।’ তিনি আরও বলেন, আরবি সাহিত্য পরিষদ হওয়ায় আরবি বিভাগের সম্পর্কিত হতে পারে। সেজন্য আরবি বিভাগের প্রধানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে। আর পলিটিকাল অর্গানাইজেশনগুলো প্রোগ্রাম প্রক্টর অফিস দেখে। অন্য প্রোগ্রাম হলে ডিন অফিসকে জানায়। তারা অনুমতি না নেওয়ার বিষয়টি জানাতে হবে না হলে প্রশাসন তো অন্ধকারে থাকে, কে আয়োজন করল।

এ দিকে আরবি সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ও আরবি বিভাগের ছাত্র আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা এর আগে শবে বরাতের প্রোগ্রাম করেছিলাম। সে সময় প্রক্টর অফিসে গেলে তারা এটা কলা অনুষদের অধীন হওয়ায় ডিন অফিসের অনুমতি নিতে বলে। ডিন অফিসে গেলে কর্মকর্তা আকতার হোসেন আমাদের বলেন, তারা সাধারণত অনুমতি দেন না। তখন প্রক্টর অফিসের অনুমতি নিতে বলা হয়। পরে আমরা ভেবেছি আমাদের কেউ বললে তখন জবাব দেব। প্রোগ্রাম করি, তাই করেছি। আর এখানে অনেকেই প্রোগ্রাম করে অনুমতি ছাড়াই।’

ডিন অফিস থেকে কোনো প্রোগ্রামের জন্য অনুমতি দেওয়া হয় কি না জানতে চাইলে ডিন অফিসের সিনিয়র সহকারী রেজিস্ট্রার আকতার হোসেন বলেন, এ ধরনের অনুমতির বিষয় তো প্রক্টর অফিস হয়েই আসে।

এর আগে, ৫ মার্চ বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কাউন্সিল উদ্বোধনের অনুষ্ঠান হয়েছিল। জানতে চাইলে সংগঠনের আহ্বায়ক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, এগুলোর অনুমতি লাগে না তো। এমনিতে কাউন্সিল হলে অনেককেই আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়, তখন প্রক্টর অফিসেও দেওয়া হয়েছিল। এটা বিশেষ কিছু না। এ ধরনের প্রোগ্রামের জন্য কখনো অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না। এটা তো রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ।

এ দিকে আরবি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জুবায়ের মোহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, ‘আমাকে ডিন স্যার একটি ছবি দেখিয়েছেন, এটা পেছন দিক থেকে তোলা। কাউকে শনাক্ত করা যায় না। আর বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে জেলা, উপজেলা বা সাংস্কৃতিক সংগঠন করে। এটা তাদের ব্যক্তিগত। তারা যদি ঠিক করুক বা ভুল, এটা বিভাগের চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞেস করার বিষয় নয়। কারণ প্রোগ্রাম চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে অথবা বিভাগে হয়নি। তারা আমার বিভাগের ছাত্র হতে পারে। আমি তো তাদের চিনতে পারার কথা নয়।’

আরবি বিভাগের প্রধান আরো বলেন, ‘ধরে নিলাম অনুমতি না নিয়ে ছাত্ররা কুরআন তেলাওয়াতের আয়োজন করেছে, এটা নিয়ে এত ঘাঁটাঘাঁটি করার কী কারণ থাকতে পারে, এটা একটা প্রশ্ন। তাদের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্নকারী হবে। যাই হোক, আমি শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে চিঠির উত্তর দেব।’