০৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রংপুরে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশঙ্কা

প্রতিবছর আলু সংরক্ষণের জন্য চাষিরা ধরনা দিতেন হিমাগারে। এবার হিমাগার কর্তৃপক্ষ চাষিদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছে না। অথচ জমি থেকে আলু উত্তোলন প্রায় শেষের পথে। এখন পর্যন্ত গড়ে হিমাগারগুলোর ৩০ শতাংশ স্থান খালি রয়েছে। এ অবস্থায় এবার হিমাগারগুলো খালি থাকার আশঙ্কা করছে হিমাগার মালিকরা। এর প্রভাব আগামীতে আলুর বাজারে পড়বে বলেও মনে করছেন তারা। এক কৃষক বলেন, গত মৌসুমে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করে অনেক কৃষককে লোকসান গুণতে হয়েছে। তার উপর বেড়েছে হিমাগারের ভাড়া। বর্তমানে ক্ষেত থেকে আলু বিক্রয় করে চাষিরা লাভ পাওয়ায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণে অনীহা দেখাচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় বেশিরভাগ কৃষক অপরিপক্ক অবস্থায় ক্ষেত থেকেই আলু বিক্রয় করেছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের হিমাগার মালিকরা এবার আগেভাগেই মাঠ পর্যায়ে আলু সংগ্রহ করায় রংপুরের হিমাগার মালিকরা প্রত্যাশানুযায়ী আলু পাচ্ছে না। জানা যায়, রংপুর জেলায় ৩৯টি হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারে আলুর ধারণ ক্ষমতা ৩ লক্ষ ৬১ হাজার ৪৩৮ মেট্রিক টন। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আলু সংগ্রহ শুরু হয়। এবার মার্চ মাস শেষের পথে হলেও হিমাগার মালিকরা এখন পর্যন্ত আশানুরূপ সাড়া পাননি। হিমাগারগুলোতে এ পর্যন্ত ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ আলু সংরক্ষণ হয়েছে।

এখন পর্যন্ত হিমাগারগুলোর ৩০ শতাংশ আলু সংরক্ষণের স্থান খালি রয়েছে। হিমাগারের সংরক্ষিত আলু ব্যবসায়ী ও চাষিরা নির্দিষ্ট একটি সময়ে উত্তোলন করে তা বাজারজাত করে থাকে। হিমাগারগুলো কাক্সিক্ষত আলু না পেলে বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এই সুযোগে একটি    সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করে ইচ্ছে মতো আলুর দাম বাড়িয়ে দেবে, এমনটাও মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে রংপুরের আলু স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। আলুর বড় বাজার তৈরি হয়েছে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, নেপালসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে।
আরও কয়েকটি দেশে রপ্তানির প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। চাষিরা বলেন, এক দশক আগেও রংপুরের স্থানীয় চাহিদা পূরণের জন্য আলু চাষ করতেন তারা। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় অনেক সময় তারা বিপাকে পড়তেন। তবে এখন আর সেই সমস্যা নেই। লোকসানের শঙ্কা না থাকার পাশাপাশি চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন যেমন বাড়ছে, ঠিক তেমনই দামও ভালো পাচ্ছেন আলু চাষিরা। রংপুর নগরীর তামপাট, দর্শনা, মাহিগঞ্জ, সাতমাথা, বীরভদ্র বালাটারি, কলাবাড়ি, তপোধন, পশুরাম, কেরানিরহাট, জানকি ধাপেরহাট, পালিচড়া, পানবাড়ি,
রামজীবন, শ্যামপুর, চন্দনপাট, পীরগাছা উপজেলার ছাওলা, শিবদেব, গাবুড়ার চর, কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ, টেপামধুপুর, আজমখা, বুড়িরহাট, ভায়ারহাট, গঙ্গাচড়া উপজেলার কৃষকগণ ক্ষেতে আলু পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করছেন। পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর এলাকার আলু চাষি নুর
ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর থেকে আলুর উৎপাদন ভালো হচ্ছে। তবে এবার প্রত্যাশিত দামের চেয়ে চড়া দামে আলু জমিতে বিক্রয় হচ্ছে। লোকসানের সম্ভাবনা এবার নেই। তবে হিমাগারে রাখার পর শেষ পর্যন্ত আলুর দাম কেমন মিলবে তা নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে। ফলে জমিতেই আলু বিক্রয় করা হচ্ছে।
একই উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের গাবুড়ার চর এলাকার জিয়াউল হক বলেন, গত বছরের তুলনায় সার ও    ডিজেলের দাম বেশি ছিল। শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে অনেক। তবে এবার জমিতেই আলুর দাম ভালো পাওয়ায় তারা খুশি। এবার মাঠেই ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রয় করছে। যা আলুর
ইতিহাসে রেকর্ড ঘটনা। গত মৌসুমে প্রতি কেজি আলুর দাম সর্বোচ্চ ১৩-১৫ টাকা ছিল, আর উৎপাদন ব্যয় ছিল ১০-১২ টাকা। কৃষকেরা এক টাকা লাভে আলু বিক্রয় করলেও মৌসুমের শেষে হিমাগার পর্যায়ে সেই আলু বিক্রয় করে মধ্যস্বত্বভোগীরা মুনাফা লুটেছে কেজি প্রতি প্রায় ৪২ টাকা। চলতি মৌসুমে ক্ষেতেই প্রতি কেজি আলু ৩০-৩২ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। এতে কৃষকের খরচ বাদে লাভ থাকছে দশ টাকারও বেশি। এভাবে ক্ষেতেই বিক্রয় হয়ে যাওয়ায় হিমাগারগুলোর আলু সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না। এতে মৌসুমের শেষে বাজারে আলুর দাম আবার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আলু চাষি, ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। রংপুর মহানগরীর তামপাট এলাকার সোহেল মিয়া বলেন, আলুর ধরণ ভেদে ২৮ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে আলু স্থানীয় পাইকারের কাছে বিক্রয় করা হচ্ছে। ভরা মৌসুমেও আলুর দাম ও চাহিদা দুটোই ভালো থাকায় হিমাগারে রাখার বাড়তি ঝামেলায় যাননি। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় চলতি বছর এক লক্ষ ৬০২ হেক্টর
জমিতে আলু চাষ হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার তিন হাজার ২৭৫ হেক্টর বেশি জমিতে স্থানীয় ও উফশী জাতের আলুর চাষ করা হয়েছে। রংপুর জেলাতে আলু চাষ হয়েছে প্রায় ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে।

উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ লক্ষ ১১ হাজার ৩৫৪ টন। তবে আশানুরূপ দাম ও চাহিদা থাকায় অনেক চাষি পরিপক্ক হওয়ার আগে ক্ষেতেই আলু বিক্রয় করে দিয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, গত বছর রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় আলুর মোট উৎপাদন হয়েছিল ২৭ লক্ষ ৩২ হাজার ১৫৪ টন। এবার এর চেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অনেক জায়গাতেই এবার বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকেরা অপরিপক্ক অবস্থায় ক্ষেতেই আলু বিক্রয় করে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি জমির আলু উত্তোলন করা হয়েছে। এর বেশির ভাগ আলুই খেত থেকে বিক্রয় হয়েছে। রংপুর জেলা হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু বলেন, অন্যান্য বছর মার্চে যে পরিমাণ আলু সংরক্ষণ হয়েছিল, চলতি বছর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ আলু সংরক্ষণ হয়েছে। ভালো দাম পাওয়া এবং দক্ষিণাঞ্চলের হিমাগার মালিকরা এখান থেকে বেশি দামে আলু সংগ্রহ করায় রংপুরের হিমাগারগুলোর ৩০ শতাংশ
স্থান এখনো ফাঁকা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, রংপুর মহানগরীসহ জেলায় ৩৯টি হিমাগার রয়েছে। প্রত্যেক বছর আলু উত্তোলন হওয়ার পরেই হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। তবে এবার ব্যতিক্রম। চলতি মৌসুমে চাহিদার কারণে আগাম ও অপরিপক্ক আলু জমিতেই বিক্রয় করেছেন অনেক চাষি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৩:২২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪

প্রতিবছর আলু সংরক্ষণের জন্য চাষিরা ধরনা দিতেন হিমাগারে। এবার হিমাগার কর্তৃপক্ষ চাষিদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছে না। অথচ জমি থেকে আলু উত্তোলন প্রায় শেষের পথে। এখন পর্যন্ত গড়ে হিমাগারগুলোর ৩০ শতাংশ স্থান খালি রয়েছে। এ অবস্থায় এবার হিমাগারগুলো খালি থাকার আশঙ্কা করছে হিমাগার মালিকরা। এর প্রভাব আগামীতে আলুর বাজারে পড়বে বলেও মনে করছেন তারা। এক কৃষক বলেন, গত মৌসুমে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করে অনেক কৃষককে লোকসান গুণতে হয়েছে। তার উপর বেড়েছে হিমাগারের ভাড়া। বর্তমানে ক্ষেত থেকে আলু বিক্রয় করে চাষিরা লাভ পাওয়ায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণে অনীহা দেখাচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় বেশিরভাগ কৃষক অপরিপক্ক অবস্থায় ক্ষেত থেকেই আলু বিক্রয় করেছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের হিমাগার মালিকরা এবার আগেভাগেই মাঠ পর্যায়ে আলু সংগ্রহ করায় রংপুরের হিমাগার মালিকরা প্রত্যাশানুযায়ী আলু পাচ্ছে না। জানা যায়, রংপুর জেলায় ৩৯টি হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারে আলুর ধারণ ক্ষমতা ৩ লক্ষ ৬১ হাজার ৪৩৮ মেট্রিক টন। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আলু সংগ্রহ শুরু হয়। এবার মার্চ মাস শেষের পথে হলেও হিমাগার মালিকরা এখন পর্যন্ত আশানুরূপ সাড়া পাননি। হিমাগারগুলোতে এ পর্যন্ত ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ আলু সংরক্ষণ হয়েছে।

এখন পর্যন্ত হিমাগারগুলোর ৩০ শতাংশ আলু সংরক্ষণের স্থান খালি রয়েছে। হিমাগারের সংরক্ষিত আলু ব্যবসায়ী ও চাষিরা নির্দিষ্ট একটি সময়ে উত্তোলন করে তা বাজারজাত করে থাকে। হিমাগারগুলো কাক্সিক্ষত আলু না পেলে বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এই সুযোগে একটি    সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করে ইচ্ছে মতো আলুর দাম বাড়িয়ে দেবে, এমনটাও মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে রংপুরের আলু স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। আলুর বড় বাজার তৈরি হয়েছে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, নেপালসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে।
আরও কয়েকটি দেশে রপ্তানির প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। চাষিরা বলেন, এক দশক আগেও রংপুরের স্থানীয় চাহিদা পূরণের জন্য আলু চাষ করতেন তারা। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় অনেক সময় তারা বিপাকে পড়তেন। তবে এখন আর সেই সমস্যা নেই। লোকসানের শঙ্কা না থাকার পাশাপাশি চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন যেমন বাড়ছে, ঠিক তেমনই দামও ভালো পাচ্ছেন আলু চাষিরা। রংপুর নগরীর তামপাট, দর্শনা, মাহিগঞ্জ, সাতমাথা, বীরভদ্র বালাটারি, কলাবাড়ি, তপোধন, পশুরাম, কেরানিরহাট, জানকি ধাপেরহাট, পালিচড়া, পানবাড়ি,
রামজীবন, শ্যামপুর, চন্দনপাট, পীরগাছা উপজেলার ছাওলা, শিবদেব, গাবুড়ার চর, কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ, টেপামধুপুর, আজমখা, বুড়িরহাট, ভায়ারহাট, গঙ্গাচড়া উপজেলার কৃষকগণ ক্ষেতে আলু পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করছেন। পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর এলাকার আলু চাষি নুর
ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর থেকে আলুর উৎপাদন ভালো হচ্ছে। তবে এবার প্রত্যাশিত দামের চেয়ে চড়া দামে আলু জমিতে বিক্রয় হচ্ছে। লোকসানের সম্ভাবনা এবার নেই। তবে হিমাগারে রাখার পর শেষ পর্যন্ত আলুর দাম কেমন মিলবে তা নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে। ফলে জমিতেই আলু বিক্রয় করা হচ্ছে।
একই উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের গাবুড়ার চর এলাকার জিয়াউল হক বলেন, গত বছরের তুলনায় সার ও    ডিজেলের দাম বেশি ছিল। শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে অনেক। তবে এবার জমিতেই আলুর দাম ভালো পাওয়ায় তারা খুশি। এবার মাঠেই ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রয় করছে। যা আলুর
ইতিহাসে রেকর্ড ঘটনা। গত মৌসুমে প্রতি কেজি আলুর দাম সর্বোচ্চ ১৩-১৫ টাকা ছিল, আর উৎপাদন ব্যয় ছিল ১০-১২ টাকা। কৃষকেরা এক টাকা লাভে আলু বিক্রয় করলেও মৌসুমের শেষে হিমাগার পর্যায়ে সেই আলু বিক্রয় করে মধ্যস্বত্বভোগীরা মুনাফা লুটেছে কেজি প্রতি প্রায় ৪২ টাকা। চলতি মৌসুমে ক্ষেতেই প্রতি কেজি আলু ৩০-৩২ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। এতে কৃষকের খরচ বাদে লাভ থাকছে দশ টাকারও বেশি। এভাবে ক্ষেতেই বিক্রয় হয়ে যাওয়ায় হিমাগারগুলোর আলু সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না। এতে মৌসুমের শেষে বাজারে আলুর দাম আবার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আলু চাষি, ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। রংপুর মহানগরীর তামপাট এলাকার সোহেল মিয়া বলেন, আলুর ধরণ ভেদে ২৮ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে আলু স্থানীয় পাইকারের কাছে বিক্রয় করা হচ্ছে। ভরা মৌসুমেও আলুর দাম ও চাহিদা দুটোই ভালো থাকায় হিমাগারে রাখার বাড়তি ঝামেলায় যাননি। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় চলতি বছর এক লক্ষ ৬০২ হেক্টর
জমিতে আলু চাষ হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার তিন হাজার ২৭৫ হেক্টর বেশি জমিতে স্থানীয় ও উফশী জাতের আলুর চাষ করা হয়েছে। রংপুর জেলাতে আলু চাষ হয়েছে প্রায় ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে।

উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ লক্ষ ১১ হাজার ৩৫৪ টন। তবে আশানুরূপ দাম ও চাহিদা থাকায় অনেক চাষি পরিপক্ক হওয়ার আগে ক্ষেতেই আলু বিক্রয় করে দিয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, গত বছর রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় আলুর মোট উৎপাদন হয়েছিল ২৭ লক্ষ ৩২ হাজার ১৫৪ টন। এবার এর চেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অনেক জায়গাতেই এবার বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকেরা অপরিপক্ক অবস্থায় ক্ষেতেই আলু বিক্রয় করে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি জমির আলু উত্তোলন করা হয়েছে। এর বেশির ভাগ আলুই খেত থেকে বিক্রয় হয়েছে। রংপুর জেলা হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু বলেন, অন্যান্য বছর মার্চে যে পরিমাণ আলু সংরক্ষণ হয়েছিল, চলতি বছর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ আলু সংরক্ষণ হয়েছে। ভালো দাম পাওয়া এবং দক্ষিণাঞ্চলের হিমাগার মালিকরা এখান থেকে বেশি দামে আলু সংগ্রহ করায় রংপুরের হিমাগারগুলোর ৩০ শতাংশ
স্থান এখনো ফাঁকা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, রংপুর মহানগরীসহ জেলায় ৩৯টি হিমাগার রয়েছে। প্রত্যেক বছর আলু উত্তোলন হওয়ার পরেই হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। তবে এবার ব্যতিক্রম। চলতি মৌসুমে চাহিদার কারণে আগাম ও অপরিপক্ক আলু জমিতেই বিক্রয় করেছেন অনেক চাষি।